ঢাকা ০৪:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo এক সিনেমার পারিশ্রমিকেই পাকিস্তানে বাড়ি কিনেছিলেন শবনম Logo ‘সকারামা’ কনসার্টটি শেষ মুহূর্তে সাময়িক স্থগিত Logo গাজীপুরে গভীর বনে ঘোড়ার ১০টি মাথা ও চামড়া উদ্ধার, মাংস গেল কোথায় Logo সেলিম আল দীনের জন্মবার্ষিকীতে নানা আয়োজন Logo স্পেনে বন্দুকধারীদের গুলিতে অন্তঃসত্ত্বা নারী-শিশুসহ ৩ জন নিহত Logo শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়া কাদির মোল্লা স্কুলকে শিক্ষা বোর্ডের শোকজ Logo ‘আওয়ারাপান ২’ দেখতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার দর্শক Logo ফরিদপুরে ইজি বাইকের ধাক্কায় মাদরাসা শিক্ষার্থী নিহত Logo আল-কায়েদা নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কতা অনুমাননির্ভর, আমলে নিচ্ছে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত ভবন থেকে অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সুদানে নিহত কুড়িগ্রামের দুই শান্তিরক্ষীর দাফন সম্পন্ন

সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে ড্রোন হামলায় নিহত কুড়িগ্রামের দুই সেনা সদস্যের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে পারিবারিকভাবে তাদের দাফন হয়।

এর আগে রোববার দুপুরে তাদের মরদেহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে উলিপুর হেলিপ্যাডে আনা হয়। পরে সেখান থেকে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নিজ নিজ পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। এসময় উলিপুর ও রাজারহাটের গ্রামগুলোতে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রোববার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে উলিপুর হেলিপ্যাডে অবতরণ করে সেনাবাহিনীর মরদেহ বহনকারী হেলিকপ্টার। পরে ২টা ২৬ মিনিটে মরদেহ নিয়ে বাড়িতে রওনা হয়।

নিহত সৈনিক শান্ত মন্ডল (২৬) কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছাট মাধাই গ্রামের মণ্ডলপাড়ার বাসিন্দা। তিনি সাবেক সেনাসদস্য নুর ইসলাম মণ্ডল ও সাহেরা বেগমের ছোট ছেলে। তার বড় ভাই সোহাগ মণ্ডলও সেনাবাহিনীতে কর্মরত।

 

অন্যদিকে সৈনিক মো. মমিনুল ইসলামের (৩৮) বাড়ি উলিপুর উপজেলার উত্তর পান্ডুল গ্রামে। তিনি দুই কন্যাসন্তানের জনক। বড় মেয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে, ছোট মেয়ের বয়স পাঁচ বছর।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের স্থানীয় সময় দুপুর ৩টা ৪০ মিনিটে আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের কাদুগলি লজিস্টিক বেসে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হন। নিহতদের মধ্যে কুড়িগ্রামের এই দুই সেনাসদস্য ছাড়াও নাটোর, রাজবাড়ী, কিশোরগঞ্জ ও গাইবান্ধার বাসিন্দা ছিলেন।

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শান্ত মণ্ডল ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন। চলতি বছরের ৫ নভেম্বর তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সুদানে যান। তার স্ত্রী দিলরুবা খন্দকার বৃষ্টি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

শান্তর বড় ভাই সোহাগ মণ্ডল বলেন, ‘ড্রোন হামলার দিন বিকেলেও ওর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়েছিল। রাতে ড্রোন হামলার খবর পাই। পরে শান্তর সহযোদ্ধাদের ভিডিও কল দিয়ে নিশ্চিত হই, আমার ভাই আর নেই।’

সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম প্রায় ১৮ বছর আগে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। বিদেশ যাওয়ার আগে তিনি ছয় মাস প্রশিক্ষণ নেন। চলতি বছরের অক্টোবরে ছুটিতে বাড়িতে এসে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে দোয়া নিয়ে যান।

মমিনুল ইসলামের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘যাওয়ার সময় কইছিল, মা কান্না করো না, আমি তাড়াতাড়ি ফিরমু। এইভাবে ফিরবে জানলে বাপ ধনকে মুই (আমি) বিদেশ যাবার দিনু না হয়।’

দূর দেশের মাটিতে বিশ্ব শান্তির দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কুড়িগ্রামের দুই সেনাসদস্যের এই মৃত্যু জেলায় গভীর শোকের আবহ তৈরি করেছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএস

Tag :

এক সিনেমার পারিশ্রমিকেই পাকিস্তানে বাড়ি কিনেছিলেন শবনম

সুদানে নিহত কুড়িগ্রামের দুই শান্তিরক্ষীর দাফন সম্পন্ন

আপডেট সময় ০৭:১৮:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে ড্রোন হামলায় নিহত কুড়িগ্রামের দুই সেনা সদস্যের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে পারিবারিকভাবে তাদের দাফন হয়।

এর আগে রোববার দুপুরে তাদের মরদেহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে উলিপুর হেলিপ্যাডে আনা হয়। পরে সেখান থেকে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নিজ নিজ পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। এসময় উলিপুর ও রাজারহাটের গ্রামগুলোতে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রোববার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে উলিপুর হেলিপ্যাডে অবতরণ করে সেনাবাহিনীর মরদেহ বহনকারী হেলিকপ্টার। পরে ২টা ২৬ মিনিটে মরদেহ নিয়ে বাড়িতে রওনা হয়।

নিহত সৈনিক শান্ত মন্ডল (২৬) কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছাট মাধাই গ্রামের মণ্ডলপাড়ার বাসিন্দা। তিনি সাবেক সেনাসদস্য নুর ইসলাম মণ্ডল ও সাহেরা বেগমের ছোট ছেলে। তার বড় ভাই সোহাগ মণ্ডলও সেনাবাহিনীতে কর্মরত।

 

অন্যদিকে সৈনিক মো. মমিনুল ইসলামের (৩৮) বাড়ি উলিপুর উপজেলার উত্তর পান্ডুল গ্রামে। তিনি দুই কন্যাসন্তানের জনক। বড় মেয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে, ছোট মেয়ের বয়স পাঁচ বছর।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের স্থানীয় সময় দুপুর ৩টা ৪০ মিনিটে আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের কাদুগলি লজিস্টিক বেসে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হন। নিহতদের মধ্যে কুড়িগ্রামের এই দুই সেনাসদস্য ছাড়াও নাটোর, রাজবাড়ী, কিশোরগঞ্জ ও গাইবান্ধার বাসিন্দা ছিলেন।

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শান্ত মণ্ডল ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন। চলতি বছরের ৫ নভেম্বর তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সুদানে যান। তার স্ত্রী দিলরুবা খন্দকার বৃষ্টি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

শান্তর বড় ভাই সোহাগ মণ্ডল বলেন, ‘ড্রোন হামলার দিন বিকেলেও ওর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়েছিল। রাতে ড্রোন হামলার খবর পাই। পরে শান্তর সহযোদ্ধাদের ভিডিও কল দিয়ে নিশ্চিত হই, আমার ভাই আর নেই।’

সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম প্রায় ১৮ বছর আগে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। বিদেশ যাওয়ার আগে তিনি ছয় মাস প্রশিক্ষণ নেন। চলতি বছরের অক্টোবরে ছুটিতে বাড়িতে এসে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে দোয়া নিয়ে যান।

মমিনুল ইসলামের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘যাওয়ার সময় কইছিল, মা কান্না করো না, আমি তাড়াতাড়ি ফিরমু। এইভাবে ফিরবে জানলে বাপ ধনকে মুই (আমি) বিদেশ যাবার দিনু না হয়।’

দূর দেশের মাটিতে বিশ্ব শান্তির দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কুড়িগ্রামের দুই সেনাসদস্যের এই মৃত্যু জেলায় গভীর শোকের আবহ তৈরি করেছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএস