রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দরিদ্রদের জন্য এক লাখ ফ্ল্যাট বানাবে সরকার নতুন অর্থবছরই তিস্তা মহাপরিকল্পনার স্টাডি শেষ করে বাস্তবায়ন শুরু ইউরোপজুড়ে রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহ, ফ্রান্সে ১ হাজার মানুষের মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে সংসদ ভবনে শিক্ষার্থীদের মধ্যাহ্নভোজ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে জলবায়ু প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ করমুক্ত আয়সীমা ৬ লাখ টাকা করার প্রস্তাব নুরুল হক নুরের জলবায়ু স্থিতিস্থাপক সমাজ গড়তে নারীর ক্ষমতায়ন অপরিহার্য : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বাজেট নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনা আমলে নিচ্ছি না : সড়কমন্ত্রী জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড একক কেউ নন, ১৮ কোটি মানুষ: বিরোধীদলীয় নেতা মহাকাশ গবেষণায় আধুনিক ও স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠান গড়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সুদানে নিহত কুড়িগ্রামের দুই শান্তিরক্ষীর দাফন সম্পন্ন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৪০ বার পড়া হয়েছে

সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে ড্রোন হামলায় নিহত কুড়িগ্রামের দুই সেনা সদস্যের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে পারিবারিকভাবে তাদের দাফন হয়।

এর আগে রোববার দুপুরে তাদের মরদেহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে উলিপুর হেলিপ্যাডে আনা হয়। পরে সেখান থেকে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নিজ নিজ পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। এসময় উলিপুর ও রাজারহাটের গ্রামগুলোতে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রোববার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে উলিপুর হেলিপ্যাডে অবতরণ করে সেনাবাহিনীর মরদেহ বহনকারী হেলিকপ্টার। পরে ২টা ২৬ মিনিটে মরদেহ নিয়ে বাড়িতে রওনা হয়।

নিহত সৈনিক শান্ত মন্ডল (২৬) কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছাট মাধাই গ্রামের মণ্ডলপাড়ার বাসিন্দা। তিনি সাবেক সেনাসদস্য নুর ইসলাম মণ্ডল ও সাহেরা বেগমের ছোট ছেলে। তার বড় ভাই সোহাগ মণ্ডলও সেনাবাহিনীতে কর্মরত।

 

অন্যদিকে সৈনিক মো. মমিনুল ইসলামের (৩৮) বাড়ি উলিপুর উপজেলার উত্তর পান্ডুল গ্রামে। তিনি দুই কন্যাসন্তানের জনক। বড় মেয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে, ছোট মেয়ের বয়স পাঁচ বছর।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের স্থানীয় সময় দুপুর ৩টা ৪০ মিনিটে আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের কাদুগলি লজিস্টিক বেসে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হন। নিহতদের মধ্যে কুড়িগ্রামের এই দুই সেনাসদস্য ছাড়াও নাটোর, রাজবাড়ী, কিশোরগঞ্জ ও গাইবান্ধার বাসিন্দা ছিলেন।

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শান্ত মণ্ডল ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন। চলতি বছরের ৫ নভেম্বর তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সুদানে যান। তার স্ত্রী দিলরুবা খন্দকার বৃষ্টি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

শান্তর বড় ভাই সোহাগ মণ্ডল বলেন, ‘ড্রোন হামলার দিন বিকেলেও ওর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়েছিল। রাতে ড্রোন হামলার খবর পাই। পরে শান্তর সহযোদ্ধাদের ভিডিও কল দিয়ে নিশ্চিত হই, আমার ভাই আর নেই।’

সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম প্রায় ১৮ বছর আগে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। বিদেশ যাওয়ার আগে তিনি ছয় মাস প্রশিক্ষণ নেন। চলতি বছরের অক্টোবরে ছুটিতে বাড়িতে এসে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে দোয়া নিয়ে যান।

মমিনুল ইসলামের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘যাওয়ার সময় কইছিল, মা কান্না করো না, আমি তাড়াতাড়ি ফিরমু। এইভাবে ফিরবে জানলে বাপ ধনকে মুই (আমি) বিদেশ যাবার দিনু না হয়।’

দূর দেশের মাটিতে বিশ্ব শান্তির দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কুড়িগ্রামের দুই সেনাসদস্যের এই মৃত্যু জেলায় গভীর শোকের আবহ তৈরি করেছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএস

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com