ঢাকা ০২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হরমুজে আরও একটি অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করলো ইরান Logo মা হওয়ার অপেক্ষায় মৌসুমী হামিদ Logo আদালতে ধাক্কা খেলেন এমবাপ্পে, পিএসজিকে দিতে হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা Logo বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতে স্বায়ত্তশাসন জরুরি : ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ Logo নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নতুনভাবে ঢেলে সাজাচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ: ডা. জাহেদ Logo স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যে ‘নো কমেন্টস’ ইসি সচিবের Logo এআইয়ের উত্থান সামলাতে প্রস্তুত নন বিশ্বনেতারা : বিল গেটস Logo নেশাগ্রস্ত হয়ে জনসাধারণের শান্তি বিনষ্ট, অভিযুক্তকে কারদণ্ড Logo স্বাভাবিক হচ্ছে গ্যাস সরবরাহ, কাটছে সংকট

এআইয়ের উত্থান সামলাতে প্রস্তুত নন বিশ্বনেতারা : বিল গেটস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সমাজে যে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে, তা মোকাবেলার জন্য বিশ্বের কোনো সরকারই যথেষ্ট প্রস্তুত নয় বলে মন্তব্য করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। এআই নিয়ে সামনে থাকা বিভিন্ন ঝুঁকি নিয়ে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

বিল গেটস দীর্ঘদিন ধরে এআইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার বক্তব্যে উদ্বেগের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এআইয়ের কারণে চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তন, প্রযুক্তিটির অপব্যবহার করে হামলার ঝুঁকি এবং এআইভিত্তিক ভার্চুয়াল সঙ্গীর প্রতি মানুষের অতিরিক্ত নির্ভরতার বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি। গেটস বলেন, ‘আমি মনে করি না, কোনো সরকারই এই বিষয়টি নিয়ে যতটা গভীরভাবে কাজ করা দরকার, ততটা করছে।

তার মতে, এআই সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা গেলে এবং ধনী-গরিব সবার জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে এটি বিশ্বের দরিদ্র মানুষের জন্য বড় উপকার বয়ে আনতে পারে। তবে এ জন্য সরকারগুলোকে দ্রুত প্রস্তুতি নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি। গেটস বলেন, ‘এই বিষয়ে সরকারগুলো অনেক পিছিয়ে আছে।’

বিল গেটসের নামে প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, আগামী দুই বছরে এআই ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে অন্তত ১০০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি রিঙ্গিত। ফাউন্ডেশনের এই অর্থ মূলত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষি খাতে কাজ করা বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠানের পেছনে ব্যয় করা হবে। এআই ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রযুক্তির ভিত্তি তৈরিতেও কাজ করবে ফাউন্ডেশনটি। এর মধ্যে এমন ব্যবস্থা তৈরির বিষয় রয়েছে, যাতে বড় ভাষাভিত্তিক এআই মডেলগুলো বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় কাজ করতে পারে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে এআইয়ের সুবিধা শুধু ধনী দেশ বা মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দরিদ্র দেশগুলোর মানুষের কাছেও পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

গেটস বলেন, এআইয়ের কারণে বিশ্বে ধনী ও দরিদ্র মানুষের ব্যবধান যেন আরও না বাড়ে, বরং এই প্রযুক্তি সেই ব্যবধান কমাতে কাজে লাগানো উচিত।

স্বাস্থ্য খাতে এআইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষভাবে আশাবাদী গেটস। তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি স্বাস্থ্য খাতে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে, তা বোঝাতে গেলেও এর সম্ভাবনাকে কম করে বলা হবে। তার মতে, এআই ব্যবহার করে একদিকে যেমন প্রাথমিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজ সহজ করা সম্ভব, অন্যদিকে নতুন ওষুধ ও টিকা তৈরির গবেষণাও দ্রুত করা যেতে পারে। বিশেষ করে বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি পূরণে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি। গেটসের ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, এআই নিয়ে ১০০ কোটি ডলারের এই পরিকল্পনা তাদের আগে ঘোষণা করা বছরে ৯০০ কোটি ডলার ব্যয়ের বড় পরিকল্পনার অংশ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সরকারকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন গেটস। তিনি এআইয়ের দ্রুত বিকাশকে হলিউডের দুর্যোগ বা বিজ্ঞান কল্পকাহিনির সিনেমার সঙ্গে তুলনা করেছেন। গেটস বলেন, এসব সিনেমায় প্রায়ই দেখা যায়, ভিনগ্রহের কোনো প্রাণী পৃথিবীতে আসে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিজেদের বিরোধ ভুলে একসঙ্গে সেই সমস্যার সমাধানে কাজ শুরু করে। তার মতে, এআই অনেকটা সেই ভিনগ্রহের বুদ্ধিমত্তার মতো। তবে পার্থক্য হলো, এআই ভবিষ্যতে আসবে না; এটি ইতিমধ্যে মানুষের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। গেটস বলেন, ‘এআই অনেকটা সেই ভিনগ্রহের বুদ্ধিমত্তার মতো। এটি ইতিমধ্যেই আমাদের মধ্যে এসেছে। তাই ওই সিনেমাগুলোতে যেমন দেখানো হয়, আমাদেরও তেমনভাবেই কাজ করা উচিত।’

এআই নিয়ে নিজের উদ্বেগের বিষয়টি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছেন গেটস। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলেছেন। এ ছাড়া চলতি বছরের শেষ দিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে তার দেখা করার পরিকল্পনা রয়েছে। গেটসের মতে, এআই নিয়ে একেক দেশ একেকভাবে কাজ করলে ঝুঁকি মোকাবিলা করা কঠিন হবে। তাই বড় দেশগুলোসহ সব সরকারকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

এদিকে সাক্ষাৎকারে নিজের ভাবমূর্তি নিয়েও কথা বলেছেন গেটস। বিশেষ করে প্রয়াত ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গত জুনে এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেন গেটস। গেটসের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ নেই। তবে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের জন্য তিনি একাধিকবার দুঃখ প্রকাশ করেছেন। গেটস জানিয়েছেন, তিনি আশা করেছিলেন এপস্টেইন বিশ্ব স্বাস্থ্য খাতে অর্থ দান করবেন। কিন্তু পরে তার দাবি, এপস্টেইন গেটসের ব্যক্তিগত জীবনের একটি বিষয় ব্যবহার করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেছিলেন।

এপস্টেইনের সঙ্গে গেটসের সম্পর্ক নিয়ে তার ফাউন্ডেশনও একটি স্বাধীন পর্যালোচনা করিয়েছিল। ওই পর্যালোচনায় এপস্টেইনকে ফাউন্ডেশন থেকে কোনো অর্থ দেওয়ার বা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গেটস বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের কারণে তার নিজের বা তার ফাউন্ডেশনের ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। তিনি বলেন, ‘সরকারের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে, কিংবা সাংবাদিকরা আমার সাক্ষাৎকার নিতে আগ্রহী কি না- আমি কোনো কমতি দেখতে পাচ্ছি না।’ গেটস আরো বলেন, শিশুদের মৃত্যু কমানো এবং ম্যালেরিয়া নির্মূলের মতো কাজে তার ফাউন্ডেশনের দক্ষতা ব্যবহার করার আগ্রহও একটুও কমেনি। তার বক্তব্য, এআই নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা অনেক বড়। তবে সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে সরকার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এখনই দায়িত্বশীলভাবে কাজ শুরু করতে হবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

হরমুজে আরও একটি অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করলো ইরান

এআইয়ের উত্থান সামলাতে প্রস্তুত নন বিশ্বনেতারা : বিল গেটস

আপডেট সময় ০১:৪১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সমাজে যে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে, তা মোকাবেলার জন্য বিশ্বের কোনো সরকারই যথেষ্ট প্রস্তুত নয় বলে মন্তব্য করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। এআই নিয়ে সামনে থাকা বিভিন্ন ঝুঁকি নিয়ে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

বিল গেটস দীর্ঘদিন ধরে এআইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার বক্তব্যে উদ্বেগের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এআইয়ের কারণে চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তন, প্রযুক্তিটির অপব্যবহার করে হামলার ঝুঁকি এবং এআইভিত্তিক ভার্চুয়াল সঙ্গীর প্রতি মানুষের অতিরিক্ত নির্ভরতার বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি। গেটস বলেন, ‘আমি মনে করি না, কোনো সরকারই এই বিষয়টি নিয়ে যতটা গভীরভাবে কাজ করা দরকার, ততটা করছে।

তার মতে, এআই সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা গেলে এবং ধনী-গরিব সবার জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে এটি বিশ্বের দরিদ্র মানুষের জন্য বড় উপকার বয়ে আনতে পারে। তবে এ জন্য সরকারগুলোকে দ্রুত প্রস্তুতি নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি। গেটস বলেন, ‘এই বিষয়ে সরকারগুলো অনেক পিছিয়ে আছে।’

বিল গেটসের নামে প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, আগামী দুই বছরে এআই ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে অন্তত ১০০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি রিঙ্গিত। ফাউন্ডেশনের এই অর্থ মূলত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষি খাতে কাজ করা বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠানের পেছনে ব্যয় করা হবে। এআই ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রযুক্তির ভিত্তি তৈরিতেও কাজ করবে ফাউন্ডেশনটি। এর মধ্যে এমন ব্যবস্থা তৈরির বিষয় রয়েছে, যাতে বড় ভাষাভিত্তিক এআই মডেলগুলো বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় কাজ করতে পারে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে এআইয়ের সুবিধা শুধু ধনী দেশ বা মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দরিদ্র দেশগুলোর মানুষের কাছেও পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

গেটস বলেন, এআইয়ের কারণে বিশ্বে ধনী ও দরিদ্র মানুষের ব্যবধান যেন আরও না বাড়ে, বরং এই প্রযুক্তি সেই ব্যবধান কমাতে কাজে লাগানো উচিত।

স্বাস্থ্য খাতে এআইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষভাবে আশাবাদী গেটস। তিনি বলেন, এই প্রযুক্তি স্বাস্থ্য খাতে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে, তা বোঝাতে গেলেও এর সম্ভাবনাকে কম করে বলা হবে। তার মতে, এআই ব্যবহার করে একদিকে যেমন প্রাথমিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজ সহজ করা সম্ভব, অন্যদিকে নতুন ওষুধ ও টিকা তৈরির গবেষণাও দ্রুত করা যেতে পারে। বিশেষ করে বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি পূরণে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি। গেটসের ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, এআই নিয়ে ১০০ কোটি ডলারের এই পরিকল্পনা তাদের আগে ঘোষণা করা বছরে ৯০০ কোটি ডলার ব্যয়ের বড় পরিকল্পনার অংশ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সরকারকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন গেটস। তিনি এআইয়ের দ্রুত বিকাশকে হলিউডের দুর্যোগ বা বিজ্ঞান কল্পকাহিনির সিনেমার সঙ্গে তুলনা করেছেন। গেটস বলেন, এসব সিনেমায় প্রায়ই দেখা যায়, ভিনগ্রহের কোনো প্রাণী পৃথিবীতে আসে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিজেদের বিরোধ ভুলে একসঙ্গে সেই সমস্যার সমাধানে কাজ শুরু করে। তার মতে, এআই অনেকটা সেই ভিনগ্রহের বুদ্ধিমত্তার মতো। তবে পার্থক্য হলো, এআই ভবিষ্যতে আসবে না; এটি ইতিমধ্যে মানুষের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। গেটস বলেন, ‘এআই অনেকটা সেই ভিনগ্রহের বুদ্ধিমত্তার মতো। এটি ইতিমধ্যেই আমাদের মধ্যে এসেছে। তাই ওই সিনেমাগুলোতে যেমন দেখানো হয়, আমাদেরও তেমনভাবেই কাজ করা উচিত।’

এআই নিয়ে নিজের উদ্বেগের বিষয়টি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছেন গেটস। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলেছেন। এ ছাড়া চলতি বছরের শেষ দিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে তার দেখা করার পরিকল্পনা রয়েছে। গেটসের মতে, এআই নিয়ে একেক দেশ একেকভাবে কাজ করলে ঝুঁকি মোকাবিলা করা কঠিন হবে। তাই বড় দেশগুলোসহ সব সরকারকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

এদিকে সাক্ষাৎকারে নিজের ভাবমূর্তি নিয়েও কথা বলেছেন গেটস। বিশেষ করে প্রয়াত ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গত জুনে এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেন গেটস। গেটসের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ নেই। তবে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের জন্য তিনি একাধিকবার দুঃখ প্রকাশ করেছেন। গেটস জানিয়েছেন, তিনি আশা করেছিলেন এপস্টেইন বিশ্ব স্বাস্থ্য খাতে অর্থ দান করবেন। কিন্তু পরে তার দাবি, এপস্টেইন গেটসের ব্যক্তিগত জীবনের একটি বিষয় ব্যবহার করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেছিলেন।

এপস্টেইনের সঙ্গে গেটসের সম্পর্ক নিয়ে তার ফাউন্ডেশনও একটি স্বাধীন পর্যালোচনা করিয়েছিল। ওই পর্যালোচনায় এপস্টেইনকে ফাউন্ডেশন থেকে কোনো অর্থ দেওয়ার বা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গেটস বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের কারণে তার নিজের বা তার ফাউন্ডেশনের ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। তিনি বলেন, ‘সরকারের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে, কিংবা সাংবাদিকরা আমার সাক্ষাৎকার নিতে আগ্রহী কি না- আমি কোনো কমতি দেখতে পাচ্ছি না।’ গেটস আরো বলেন, শিশুদের মৃত্যু কমানো এবং ম্যালেরিয়া নির্মূলের মতো কাজে তার ফাউন্ডেশনের দক্ষতা ব্যবহার করার আগ্রহও একটুও কমেনি। তার বক্তব্য, এআই নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা অনেক বড়। তবে সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে সরকার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এখনই দায়িত্বশীলভাবে কাজ শুরু করতে হবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ