প্রকাশ্যে গরুর মাংস খাওয়ার কথা বলে বিতর্কে জড়িয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এরই মধ্যে অভিনেতার সমর্থনে কথা বলে বিতর্কে জড়িয়েছেন ‘মা’ ধারাবাহিকের জনপ্রিয় চরিত্র ‘ঝিলিক’খ্যাত অভিনেত্রী তিথি বসু।
সম্প্রতি বাংলাদেশে আতিথেয়তা ও খাবারের প্রশংসা করে একটি সাক্ষাৎকারে কথা বলেন বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। সেখানে ঢাকার গরুর মাংস ও ইলিশের প্রতি নিজের মুগ্ধতার কথা জানান তিনি। ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনার মুখে পড়েন এই অভিনেতা।
এ পরিস্থিতিতে বিশ্বজিতের পাশে দাঁড়িয়ে একটি ভিডিও বার্তা দেন তিথি বসু। সেখানে তিনি বলেন, বিশ্বজিৎ কাকু একজন সিনিয়র অভিনেতা এবং মানুষ হিসেবেও অসাধারণ। নিজের সততা থেকেই তিনি সত্যি কথাটি বলেছেন। বাংলাদেশে গিয়ে কে কী খাবেন বা খাবেন না, সেটি একান্তই ব্যক্তিগত বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিথি আরও দাবি করেন, কলকাতার চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অঙ্গনের অনেকেই আড়ালে-আবডালে কিংবা প্রকাশ্যেই গরুর মাংস খান। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাদের ধারাবাহিকেও এমন অনেক ব্রাহ্মণ শিল্পী-অভিনেতা ছিলেন, যারা সেটে বসে গরুর মাংস নিয়ে গল্প করতেন।
অভিনেত্রীর দাবি, কলকাতার বিভিন্ন জনপ্রিয় জায়গায় গরুর মাংস বিক্রি হলে সেখানে অনেক হিন্দুকেও যেতে দেখেছেন তিনি। ২০১০ সাল নাগাদ বহু জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও চ্যানেল কর্মকর্তাকেও বিফ খেতে যেতে দেখেছেন বলে জানান তিথি।
এরপরই আরও বিতর্কিত মন্তব্য করেন ‘ঝিলিক’খ্যাত এই অভিনেত্রী। তার ভাষ্য, প্রচুর মানুষ গরুর মাংস খান এটাই বাস্তব। এমনকি মুসলিমদের তুলনায় হিন্দুরাই বেশি বিফ খান বলেও দাবি করেন তিনি। যারা প্রকাশ্যে এ কথা বলেন না, তাদের মধ্যেও অনেকে গোপনে গরুর মাংস খান বলে মন্তব্য করেন তিথি।
তিনি আরও বলেন, কার কী ধর্ম বা খাদ্যাভ্যাস, সেটি একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়। একজনের খাদ্যাভ্যাস অন্য কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয় বলেও মত দেন তিনি।
তিথির এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নতুন করে বিতর্ক। কেউ তার বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন, আবার কেউ খাদ্যাভ্যাসকে ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখার পক্ষে মত দিয়েছেন। অনেকে তার মন্তব্যকে ‘অপরিণত’ বলেও কটাক্ষ করেছেন।
এদিকে, গরুর মাংস খাওয়া নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, আমার পেট, আমার মন, আমার হাত আবার খাবার যে খাব, সে জন্য যে টাকা খরচ হবে, সেটাও তো আমারই! তাহলে আমি কী খাব, কতটা খাব সেটা ঠিক করে দেবে অন্য কেউ? বললেই হলো নাকি?
বাংলাদেশ সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ৪ তারিখ গিয়েছিলাম বাংলাদেশ। ৫ তারিখ দেশে ফিরেও এসেছি। ওইটুকু তো সময়। যাই হোক, আমার এক বোনের জন্মদিনের অনুষ্ঠান উপলক্ষেই গিয়েছিলাম। যেমন আতিথেয়তা পেয়েছি, আমি অভিভূত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষের পর আইনি পদক্ষেপের বিষয়েও কথা বলেন বিশ্বজিৎ। তিনি জানান, এ ঘটনায় তিনি মামলা করেছেন। বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন হওয়ায় এ নিয়ে আর বিস্তারিত মন্তব্য করতে চান না বলেও জানান বর্ষীয়ান এই অভিনেতা।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস


























