চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জন্য তৈরি চিপের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উচ্চগতির মেমোরি এইচবিএম (হাই-ব্যান্ডউইডথ মেমোরি)-এর সংকট এবং সরবরাহ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় হুয়াওয়ে, ক্যামব্রিকনসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় চিপ নির্মাতারা এআই প্রসেসরের দাম বাড়িয়েছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুয়াওয়ে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের অ্যাসেন্ড ৯৫০ডিটি এআই অ্যাক্সিলারেটর কার্ডের নির্দেশিত দাম ২ লাখ ৫০ হাজার ইউয়ানের বেশি করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৪০ লাখ টাকার কাছাকাছি। মাত্র দুই মাস আগের দামের তুলনায় চুক্তির ধরন অনুযায়ী এই দাম ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
হুয়াওয়ের সবচেয়ে উন্নত এআই চিপ হিসেবে বিবেচিত অ্যাসেন্ড ৯৫০ সিরিজের ৯৫০ডিটি চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে বাজারে আসার কথা রয়েছে। চিপটি মূলত এআই মডেল তৈরি এবং ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর বা প্রতিক্রিয়া তৈরির কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
শুধু হুয়াওয়ে নয়, চীনের আরেক বড় চিপ নির্মাতা ক্যামব্রিকনও তাদের পরবর্তী প্রজন্মের চিপের দাম বাড়িয়েছে। অস্থায়ীভাবে ‘৬৯০’ নামে পরিচিত এই চিপের দাম দুই মাস আগের নির্দেশিত দামের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে চিপটির চূড়ান্ত দাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
চীনের ছোট চিপ নির্মাতা মেটাএক্স এবং ইলুভেটর কোরএক্সও একইভাবে তাদের পণ্যের দাম বাড়িয়েছে বলে সূত্রের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স।
এআই চিপের জন্য এইচবিএম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। এতে একাধিক মেমোরি চিপকে স্তরে স্তরে সাজানো হয়, যার ফলে প্রসেসর খুব দ্রুত বিপুল পরিমাণ ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে। আধুনিক এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও চালানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের উচ্চগতির মেমোরির প্রয়োজন অনেক বেশি।
বর্তমানে উন্নত এইচবিএম বাজারে দক্ষিণ কোরিয়ার এসকে হাইনিক্স, স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাইক্রন টেকনোলজি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র চীনে নির্দিষ্ট কিছু উন্নত এইচবিএম রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার পর চীনা চিপ নির্মাতারা বিকল্প ও গ্রে-মার্কেট সরবরাহের ওপর বেশি নির্ভর করতে শুরু করে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এসব অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে পাওয়া এইচবিএমের দাম চীনের বাইরের ক্রেতাদের দেওয়া দামের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি হতে পারে।
এআই অ্যাক্সিলারেটর তৈরির খরচের বড় একটি অংশ মেমোরির পেছনে যায়। ফলে এইচবিএমের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে এআই চিপ ও অ্যাক্সিলারেটর কার্ডের চূড়ান্ত দামে।
নতুন চিপের পাশাপাশি হুয়াওয়ের আগের প্রজন্মের এআই চিপের দামও বেড়েছে। বছরের শুরুতে প্রায় ৬০ হাজার ইউয়ানে বিক্রি হওয়া অ্যাসেন্ড ৯৫০পিআর কার্ডের দাম এখন ৮০ হাজার ইউয়ানের বেশি। অর্থাৎ প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে, অ্যাসেন্ড ৯১০সি বোর্ডের দামও বছরের শুরুতে প্রায় ৯০ হাজার ইউয়ান থেকে বেড়ে ১ লাখ ১০ হাজার ইউয়ানের বেশি হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এআই চিপের দাম বৃদ্ধির ফলে চীনে এআই কম্পিউটিং অবকাঠামো তৈরির খরচও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের কারণে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো এনভিডিয়ার সবচেয়ে উন্নত প্রসেসর সহজে না পাওয়ায় দেশটির প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের এআই চিপ বাজারে স্থানীয় নির্মাতাদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
তবে এইচবিএমের সংকট এখন সেই বাজারে নতুন চাপ তৈরি করছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও টিকটকের মালিক বাইটড্যান্সের এআই কম্পিউটিং চাহিদাও বাড়ছে। এ কারণে ইলুভেটর কোরএক্স চলতি বছর বাইটড্যান্সকে প্রায় ১ লাখ জিপিইউ সরবরাহ করবে বলে জানা গেছে, যা আগের তুলনায় দ্বিগুণ।
এমনকি বাইটড্যান্সের চাহিদা পূরণে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের ব্যবহারের জন্য রাখা কিছু জিপিইউও সরিয়ে দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
চীনের এআই চিপ বাজারে হুয়াওয়ে বর্তমানে বাইটড্যান্সের সবচেয়ে বড় দেশীয় সরবরাহকারী। এরপর রয়েছে ক্যামব্রিকন ও ইলুভেটর কোরএক্স।
সব মিলিয়ে, এনভিডিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় এআই চিপ তৈরির চেষ্টা করলেও চীনা নির্মাতাদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে উচ্চগতির মেমোরির সরবরাহ ও দাম। এইচবিএমের সংকট দীর্ঘায়িত হলে চীনের এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের খরচ আরও বাড়তে পারে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ





























