ঢাকা ০৪:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ৫০ লাখ পোশাক শ্রমিককে পেনশনের আওতায় আনার উদ্যোগ Logo ইন্দোনেশিয়ায় বিনা মূল্যের স্কুলের খাবার খেয়ে প্রায় ২০০০ মানুষ অসুস্থ Logo ১৭ বছর পর লর্ডসে বাংলাদেশ, আট মাস আগেই টিকিটের লড়াই Logo হজের নিবন্ধনের জন্য সৌদির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে সরকার : ধর্মমন্ত্রী Logo ব্যাংক রেজল্যুশন সংশোধন বিল, ২০২৬ সংসদে পাসের সুপারিশ Logo নিউইয়র্ক সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হতে পারে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Logo হাম ও উপসর্গে থামছেই না প্রাণহানি, মৃত্যুর সংখ্যা ১০০০ ছুঁই ছুঁই Logo খার্গ দ্বীপে ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলা Logo ময়মনসিংহে মাদকসহ ৩ কারবারি গ্রেপ্তার Logo সসংদ যখন সন্তোষজনকভাবে কার্যকর তখন লংমার্চ গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী

ইন্দোনেশিয়ায় বিনা মূল্যের স্কুলের খাবার খেয়ে প্রায় ২০০০ মানুষ অসুস্থ

ইন্দোনেশিয়ায় প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর প্রধান উদ্যোগ ‘বিনা মূল্যের পুষ্টিকর খাবার’ কর্মসূচির খাবার খেয়ে এই সপ্তাহে প্রায় ২ হাজার মানুষ অসুস্থ হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে পূর্ব জাভা, মধ্য জাভা, পশ্চিম সুমাত্রা, আচেহ ও দক্ষিণ সুলাওয়েসিতে এসব ঘটনা ঘটে। কর্মসূচির আওতায় দেওয়া খাবার খেয়ে প্রায় ১ হাজার ৯৫০ জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলের শিক্ষার্থী অসুস্থ হন। ইন্দোনেশিয়ায় এই কর্মসূচি ‘এমবিজি’ নামে পরিচিত।

বিনা মূল্যের খাবার কর্মসূচিতে এর আগেও একাধিকবার খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া কর্মসূচি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। এসবের মধ্যেই সরকার দেশজুড়ে কর্মসূচিটি দ্রুত সম্প্রসারণ করছে।

সবচেয়ে বেশি মানুষ অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে মধ্য জাভার রেম্বাং এলাকায়।

স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান আলি শিয়োফি জানান, রেম্বাংয়ের একটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ৭৫২ জন শিক্ষার্থী ও ২৫ জন শিক্ষক কর্মসূচির খাবার খাওয়ার পর ডায়রিয়া, বমি, বমি বমি ভাব ও পেটব্যথায় আক্রান্ত হন।

পূর্ব জাভার সিদোয়ারজোতে আরো ৭৩০ জন অসুস্থ হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই একটি ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলের শিক্ষার্থী। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান লাখসমি হেরাওয়াতি ইউয়ানতিনা জানান, আক্রান্ত ৭০৬ জনকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তারা বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পশ্চিম সুমাত্রার আগাম এলাকায় ২৭৬ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে স্থানীয় পুষ্টিকেন্দ্র থেকে খাবার বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। আচেহ প্রদেশের বেনার মেরিয়াহ এলাকায় স্কুলের খাবার খেয়ে মাথা ঘোরা ও বমি বমি ভাবসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেওয়ায় ১৫ শিক্ষার্থী ও একজন অধ্যক্ষকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ সুলাওয়েসির তানা তোরাজা এলাকায় দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আরো ১৫২ শিক্ষার্থীর মধ্যে খাদ্যে বিষক্রিয়ার উপসর্গ দেখা দেয়। তাদের তিনটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত এসব ঘটনায় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কর্মসূচিটি চালুর পর থেকে এর সঙ্গে সম্পর্কিত খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ২ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, ৩৬টি প্রদেশের ২৪৫টি জেলা ও শহরে এমবিজি কর্মসূচির খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ৫৬০টি ঘটনা ঘটেছে। এতে মোট ৫০ হাজার ৫৯৯ জন আক্রান্ত হয়েছে।

জাতীয় পুষ্টি সংস্থার প্রধান সুদারিওনো বলেন, সংস্থার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আগের খাদ্যে বিষক্রিয়ার প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ঘটনার পেছনে খাদ্য নিরাপত্তার নিয়ম না মানার বিষয়টি ছিল। এর মধ্যে খাবার সংরক্ষণ, কাঁচামাল গ্রহণ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং খাবার পরিবেশনের সময়সীমার মতো বিষয় রয়েছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে বড় ধাক্কা হিসেবে উল্লেখ করে সুদারিওনো বলেন, খাবার সরবরাহকারীদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে প্রায় ২৭ হাজার খাবার বিতরণ কেন্দ্র পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পরিদর্শনে শত শত সন্দেহজনক বা ভুয়া কেন্দ্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটেশন মান পূরণ করতে না পারায় অন্তত ৮৩৩টি রান্নাঘর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রাবোও সরকারের এই কর্মসূচির লক্ষ্য প্রায় ৯ কোটি শিক্ষার্থী, শিশু ও গর্ভবতী নারীকে বিনামূল্যে খাবার দেওয়া। অপুষ্টি কমানো এবং শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য। ২০২৯ সাল পর্যন্ত এই কর্মসূচিতে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। এটি প্রেসিডেন্ট প্রাবোওর অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও ছিল।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

৫০ লাখ পোশাক শ্রমিককে পেনশনের আওতায় আনার উদ্যোগ

ইন্দোনেশিয়ায় বিনা মূল্যের স্কুলের খাবার খেয়ে প্রায় ২০০০ মানুষ অসুস্থ

আপডেট সময় ০৪:৩৫:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ায় প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর প্রধান উদ্যোগ ‘বিনা মূল্যের পুষ্টিকর খাবার’ কর্মসূচির খাবার খেয়ে এই সপ্তাহে প্রায় ২ হাজার মানুষ অসুস্থ হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে পূর্ব জাভা, মধ্য জাভা, পশ্চিম সুমাত্রা, আচেহ ও দক্ষিণ সুলাওয়েসিতে এসব ঘটনা ঘটে। কর্মসূচির আওতায় দেওয়া খাবার খেয়ে প্রায় ১ হাজার ৯৫০ জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলের শিক্ষার্থী অসুস্থ হন। ইন্দোনেশিয়ায় এই কর্মসূচি ‘এমবিজি’ নামে পরিচিত।

বিনা মূল্যের খাবার কর্মসূচিতে এর আগেও একাধিকবার খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া কর্মসূচি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। এসবের মধ্যেই সরকার দেশজুড়ে কর্মসূচিটি দ্রুত সম্প্রসারণ করছে।

সবচেয়ে বেশি মানুষ অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে মধ্য জাভার রেম্বাং এলাকায়।

স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান আলি শিয়োফি জানান, রেম্বাংয়ের একটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ৭৫২ জন শিক্ষার্থী ও ২৫ জন শিক্ষক কর্মসূচির খাবার খাওয়ার পর ডায়রিয়া, বমি, বমি বমি ভাব ও পেটব্যথায় আক্রান্ত হন।

পূর্ব জাভার সিদোয়ারজোতে আরো ৭৩০ জন অসুস্থ হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই একটি ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলের শিক্ষার্থী। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান লাখসমি হেরাওয়াতি ইউয়ানতিনা জানান, আক্রান্ত ৭০৬ জনকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তারা বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পশ্চিম সুমাত্রার আগাম এলাকায় ২৭৬ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে স্থানীয় পুষ্টিকেন্দ্র থেকে খাবার বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। আচেহ প্রদেশের বেনার মেরিয়াহ এলাকায় স্কুলের খাবার খেয়ে মাথা ঘোরা ও বমি বমি ভাবসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেওয়ায় ১৫ শিক্ষার্থী ও একজন অধ্যক্ষকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ সুলাওয়েসির তানা তোরাজা এলাকায় দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আরো ১৫২ শিক্ষার্থীর মধ্যে খাদ্যে বিষক্রিয়ার উপসর্গ দেখা দেয়। তাদের তিনটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত এসব ঘটনায় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কর্মসূচিটি চালুর পর থেকে এর সঙ্গে সম্পর্কিত খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ২ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, ৩৬টি প্রদেশের ২৪৫টি জেলা ও শহরে এমবিজি কর্মসূচির খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ৫৬০টি ঘটনা ঘটেছে। এতে মোট ৫০ হাজার ৫৯৯ জন আক্রান্ত হয়েছে।

জাতীয় পুষ্টি সংস্থার প্রধান সুদারিওনো বলেন, সংস্থার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আগের খাদ্যে বিষক্রিয়ার প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ঘটনার পেছনে খাদ্য নিরাপত্তার নিয়ম না মানার বিষয়টি ছিল। এর মধ্যে খাবার সংরক্ষণ, কাঁচামাল গ্রহণ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং খাবার পরিবেশনের সময়সীমার মতো বিষয় রয়েছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে বড় ধাক্কা হিসেবে উল্লেখ করে সুদারিওনো বলেন, খাবার সরবরাহকারীদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে প্রায় ২৭ হাজার খাবার বিতরণ কেন্দ্র পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পরিদর্শনে শত শত সন্দেহজনক বা ভুয়া কেন্দ্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটেশন মান পূরণ করতে না পারায় অন্তত ৮৩৩টি রান্নাঘর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রাবোও সরকারের এই কর্মসূচির লক্ষ্য প্রায় ৯ কোটি শিক্ষার্থী, শিশু ও গর্ভবতী নারীকে বিনামূল্যে খাবার দেওয়া। অপুষ্টি কমানো এবং শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য। ২০২৯ সাল পর্যন্ত এই কর্মসূচিতে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। এটি প্রেসিডেন্ট প্রাবোওর অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও ছিল।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ