ঢাকা ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

মুসলিম হওয়ায় দিল্লিতে দুই নারী সাংবাদিককে বেধড়ক পেটাল পুলিশ

ভারতের দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি অনুষ্ঠানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশি হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন দুই নারী সাংবাদিক। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ দিল্লির সাকেত এলাকায় ম্যাক্স স্মার্ট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে একটি নতুন উইং উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ তাদের।

সাংবাদিক শাহীন খান ও নাফিসা খান ৪পিএম নিউজ নেটওয়ার্কের হয়ে অনুষ্ঠানটি কাভার করছিলেন। শাহীন খানের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তকে প্রশ্ন করার চেষ্টা করার পর পুলিশ তাদের আটক করে সাকেত থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মারধর ও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

শাহীন আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ সদস্যরা তাদের পরিচয় ও ধর্ম সম্পর্কে জানতে চান। তারা মুসলিম জানার পর মারধরের মাত্রা আরও বেড়ে যায় বলে তার দাবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুই সাংবাদিকের শরীরে আঘাতের চিহ্নও দেখা গেছে।

তবে দিল্লি পুলিশ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, সাংবাদিকরা ভিভিআইপি চলাচলের নির্ধারিত পথে স্কুটি রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি করেছিলেন এবং বারবার নির্দেশ দেওয়ার পরও তা সরাননি। এ কারণে তাদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দক্ষিণ দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার অনন্ত মিত্তল অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও তথ্যগতভাবে ভুল বলে দাবি করেছেন।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, থানায় নেওয়ার পর ওই পথ আবার সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল এবং সাংবাদিকদের চলে যেতে বলা হয়। তবে তারা পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে পুলিশের দাবি।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান উইমেনস প্রেস কর্পস, দিল্লি ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টস, প্রেস অ্যাসোসিয়েশন এবং কেরালা ইউনিয়ন অব ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস যৌথ বিবৃতিতে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় নিরাপত্তা, পুলিশি আচরণ এবং ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ওঠা পুলিশের অভিযোগ এবং সাংবাদিকদের পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

রাত পোহালেই ১১ দলের লংমার্চ

মুসলিম হওয়ায় দিল্লিতে দুই নারী সাংবাদিককে বেধড়ক পেটাল পুলিশ

আপডেট সময় ১০:৪৫:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি অনুষ্ঠানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশি হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন দুই নারী সাংবাদিক। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ দিল্লির সাকেত এলাকায় ম্যাক্স স্মার্ট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে একটি নতুন উইং উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ তাদের।

সাংবাদিক শাহীন খান ও নাফিসা খান ৪পিএম নিউজ নেটওয়ার্কের হয়ে অনুষ্ঠানটি কাভার করছিলেন। শাহীন খানের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তকে প্রশ্ন করার চেষ্টা করার পর পুলিশ তাদের আটক করে সাকেত থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মারধর ও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

শাহীন আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ সদস্যরা তাদের পরিচয় ও ধর্ম সম্পর্কে জানতে চান। তারা মুসলিম জানার পর মারধরের মাত্রা আরও বেড়ে যায় বলে তার দাবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুই সাংবাদিকের শরীরে আঘাতের চিহ্নও দেখা গেছে।

তবে দিল্লি পুলিশ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, সাংবাদিকরা ভিভিআইপি চলাচলের নির্ধারিত পথে স্কুটি রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি করেছিলেন এবং বারবার নির্দেশ দেওয়ার পরও তা সরাননি। এ কারণে তাদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দক্ষিণ দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার অনন্ত মিত্তল অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও তথ্যগতভাবে ভুল বলে দাবি করেছেন।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, থানায় নেওয়ার পর ওই পথ আবার সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল এবং সাংবাদিকদের চলে যেতে বলা হয়। তবে তারা পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে পুলিশের দাবি।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান উইমেনস প্রেস কর্পস, দিল্লি ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টস, প্রেস অ্যাসোসিয়েশন এবং কেরালা ইউনিয়ন অব ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস যৌথ বিবৃতিতে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় নিরাপত্তা, পুলিশি আচরণ এবং ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ওঠা পুলিশের অভিযোগ এবং সাংবাদিকদের পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস