ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ বাড়ার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত (এসপিআর) ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলে নেমে গেছে। এটি ১৯৮২ সালের পর দেশটির জরুরি তেল মজুতের সর্বনিম্ন স্তর।
যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে এসপিআর থেকে প্রায় ৩১ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কমেছে। এর আগের সপ্তাহে মজুত ছিল ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ২৬ হাজার ব্যারেল। বর্তমানে এই মজুত এর সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতার প্রায় ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জরুরি জ্বালানি ভান্ডার হলো এসপিআর। হঠাৎ তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন, যুদ্ধ বা আন্তর্জাতিক সংকট দেখা দিলে বাজারে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করে দাম ও জ্বালানি সংকট সামাল দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য। ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের পর এই রিজার্ভ গড়ে তোলা হয়েছিল।
এদিকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সদস্য দেশগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল জরুরি মজুত বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দেয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এখন পর্যন্ত যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল এসপিআর থেকে বাজারে দিয়েছে। ফলে যুদ্ধের আগে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে প্রায় ৪১ কোটে ৫৪ লাখ ব্যারেল থাকা মজুত আগস্টের শেষে কমে ২৮ কোটে ৬৬ লাখে নেমেছে—অর্থাৎ কয়েক মাসে কমেছে প্রায় ১২ কোটি ৮৮ লাখ ব্যারেল।
এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগের কারণ শুধু মজুত কমে যাওয়া নয়; সামনে আরও তেল ছাড়ার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, আগের নির্ধারিত ছাড় সম্পূর্ণ হলে এসপিআর-এর মজুত প্রায় ২৪ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেলে নেমে আসতে পারে। এতে ভবিষ্যতে বড় কোনো সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের হাতে জরুরি তেল ছাড়ার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়তে পারে।
অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারেও চাপ বাড়ছে। ৩ সেপ্টেম্বর দেশটিতে ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি রেকর্ড ৫ দশমিক ৮২০ ডলারে উঠেছে। যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ সংকটের কারণে ফেব্রুয়ারি থেকে ডিজেলের দাম ৫৫ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত পুনরায় পূরণের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। ভেনেজুয়েলার তেল ব্যবহার করে রিজার্ভ পুনর্গঠনের পরিকল্পনা সামনে এলেও, সেই তেল দ্রুত এসপিআরে যুক্ত করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এবং তেলের সরবরাহপথে নতুন করে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হলে কমে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়লে তার প্রভাব পড়তে পারে পরিবহন ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর।
সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু
বাংলা৭১নিউজ/জেএস






















