ঢাকা ০৫:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo শজিমেক হাসপাতালে মারামারির ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৬ Logo চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়ায় পাউবো’র প্রকৌশলীকে পিটিয়ে জখম Logo ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা ৩০০০ ছাড়িয়েছে Logo রংপুরে ৪ খুনের নেপথ্যে পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না খতিয়ে দেখছে ডিবি Logo ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু Logo প্রধানমন্ত্রী এখনও নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন: প্রেস সচিব Logo লিটারে ৫ টাকা বেড়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০৪ টাকা Logo জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাড়ছে এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ: প্রধানমন্ত্রী Logo স্কাউটিং নেতৃত্ব ও দেশসেবার মানসিকতা তৈরি করে: শিক্ষামন্ত্রী Logo ইন্দোনেশিয়ায় সরকারি খাবার খেয়ে ৫০০ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

ইন্দোনেশিয়ায় সরকারি খাবার খেয়ে ৫০০ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা প্রদেশে সরকারি বিনা মূল্যের খাবার খেয়ে ৫০০-এর বেশি শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। খাবার থেকে বিষক্রিয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে বুধবার দেশটির জাতীয় ও আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো গত বছর শিশুদের অপুষ্টি দূর করতে এই বিনা মূল্যের খাবার কর্মসূচি চালু করেন। এর আওতায় দেশটির কোটি কোটি শিশুকে বিনা মূল্যে খাবার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শুরু থেকেই কর্মসূচিটি নিয়ে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে।

এর মধ্যে খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়া, দুর্নীতির অভিযোগ, নেতৃত্বে পরিবর্তন এবং বিপুল খরচ নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।

পূর্ব জাভার সিদোয়ারজো এলাকায় মঙ্গলবার দুপুরের খাবার খাওয়ার পর ৫১২ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন দেশটির জাতীয় পুষ্টি সংস্থার কর্মকর্তা কেতুত সুমেদানা। এর আগে স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, আক্রান্তের সংখ্যা ৫১৬।

কেতুত বলেন, বর্তমানে অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বুধবারও প্রায় ৮০ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।

তিনি জানান, রান্নাঘর থেকে খাবার সরবরাহ করা হয়েছিল এবং যেটিকে খাদ্য বিষক্রিয়ার সম্ভাব্য উৎস মনে করা হচ্ছে, সেটিকে ৩০ দিনের জন্য খাবার কর্মসূচি থেকে সাময়িকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

তিনি বলেন, ‘খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণ কী, তদন্তের ফল আমরা জানাব।’ পূর্ব জাভার উপ-গভর্নর এমিল দারদাক জানান, ওই রান্নাঘর একটি ইসলামি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খাবার সরবরাহ করেছিল।

ইন্দোনেশিয়ায় এর আগেও বিনা মূল্যের খাবার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক খাদ্য বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটেছে। বেসরকারি পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটওয়ার্ক ফর এডুকেশন ওয়াচ জানিয়েছে, ৮ আগস্ট পর্যন্ত এই কর্মসূচির খাবার খেয়ে প্রায় ৩৭ হাজার ৬০০ জন খাদ্য বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা এবং রান্না করা খাবার দেরিতে পৌঁছানোই অনেক সময় এসব খাদ্য বিষক্রিয়ার প্রধান কারণ। খাদ্য বিষক্রিয়ার এই ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পুষ্টি সংস্থার নতুন প্রধান বিনা মূল্যের খাবার কর্মসূচিতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন।

কর্মসূচির খাবার সরবরাহকারী শত শত রান্নাঘর ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে খাবারের মানের নিয়ম না মানাসহ বিভিন্ন কারণ রয়েছে।

সিদোয়ারজোতে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনা নিয়ে জাতীয় পুষ্টি সংস্থা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। সম্প্রতি সংস্থাটির নেতৃত্বে বেশ কয়েকবার পরিবর্তন এসেছে। গত জুনে সংস্থাটির তৎকালীন প্রধান দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সরকার এই খাবার কর্মসূচির পরিধিও কিছুটা কমিয়েছে।

এই কর্মসূচির বিপুল খরচ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, কর্মসূচির ব্যয় বাড়লে সরকারের বাজেট ঘাটতিও আরো বাড়তে পারে। জুলাইয়ে সাইফুল মুজানি রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিংয়ের এক জরিপে দেখা যায়, মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এই কর্মসূচি নিয়ে সন্তুষ্ট। জরিপে বলা হয়েছে, খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাগুলো মানুষের অসন্তুষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

শজিমেক হাসপাতালে মারামারির ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৬

ইন্দোনেশিয়ায় সরকারি খাবার খেয়ে ৫০০ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

আপডেট সময় ০৪:০৭:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা প্রদেশে সরকারি বিনা মূল্যের খাবার খেয়ে ৫০০-এর বেশি শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। খাবার থেকে বিষক্রিয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে বুধবার দেশটির জাতীয় ও আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো গত বছর শিশুদের অপুষ্টি দূর করতে এই বিনা মূল্যের খাবার কর্মসূচি চালু করেন। এর আওতায় দেশটির কোটি কোটি শিশুকে বিনা মূল্যে খাবার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শুরু থেকেই কর্মসূচিটি নিয়ে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে।

এর মধ্যে খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়া, দুর্নীতির অভিযোগ, নেতৃত্বে পরিবর্তন এবং বিপুল খরচ নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।

পূর্ব জাভার সিদোয়ারজো এলাকায় মঙ্গলবার দুপুরের খাবার খাওয়ার পর ৫১২ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন দেশটির জাতীয় পুষ্টি সংস্থার কর্মকর্তা কেতুত সুমেদানা। এর আগে স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, আক্রান্তের সংখ্যা ৫১৬।

কেতুত বলেন, বর্তমানে অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বুধবারও প্রায় ৮০ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।

তিনি জানান, রান্নাঘর থেকে খাবার সরবরাহ করা হয়েছিল এবং যেটিকে খাদ্য বিষক্রিয়ার সম্ভাব্য উৎস মনে করা হচ্ছে, সেটিকে ৩০ দিনের জন্য খাবার কর্মসূচি থেকে সাময়িকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

তিনি বলেন, ‘খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণ কী, তদন্তের ফল আমরা জানাব।’ পূর্ব জাভার উপ-গভর্নর এমিল দারদাক জানান, ওই রান্নাঘর একটি ইসলামি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খাবার সরবরাহ করেছিল।

ইন্দোনেশিয়ায় এর আগেও বিনা মূল্যের খাবার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক খাদ্য বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটেছে। বেসরকারি পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটওয়ার্ক ফর এডুকেশন ওয়াচ জানিয়েছে, ৮ আগস্ট পর্যন্ত এই কর্মসূচির খাবার খেয়ে প্রায় ৩৭ হাজার ৬০০ জন খাদ্য বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা এবং রান্না করা খাবার দেরিতে পৌঁছানোই অনেক সময় এসব খাদ্য বিষক্রিয়ার প্রধান কারণ। খাদ্য বিষক্রিয়ার এই ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পুষ্টি সংস্থার নতুন প্রধান বিনা মূল্যের খাবার কর্মসূচিতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন।

কর্মসূচির খাবার সরবরাহকারী শত শত রান্নাঘর ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে খাবারের মানের নিয়ম না মানাসহ বিভিন্ন কারণ রয়েছে।

সিদোয়ারজোতে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনা নিয়ে জাতীয় পুষ্টি সংস্থা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। সম্প্রতি সংস্থাটির নেতৃত্বে বেশ কয়েকবার পরিবর্তন এসেছে। গত জুনে সংস্থাটির তৎকালীন প্রধান দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সরকার এই খাবার কর্মসূচির পরিধিও কিছুটা কমিয়েছে।

এই কর্মসূচির বিপুল খরচ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, কর্মসূচির ব্যয় বাড়লে সরকারের বাজেট ঘাটতিও আরো বাড়তে পারে। জুলাইয়ে সাইফুল মুজানি রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিংয়ের এক জরিপে দেখা যায়, মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এই কর্মসূচি নিয়ে সন্তুষ্ট। জরিপে বলা হয়েছে, খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাগুলো মানুষের অসন্তুষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ