চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)-এর ৭৫ কোটি টাকার নির্মাণকাজের দরপত্রে জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বহুল আলোচিত ঠিকাদার জি কে শামীমের বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (৩০ আগস্ট) চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. মিজানুর রহমানের আদালত আসামি গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেন।
একই সঙ্গে মামলার বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের পিপি মো. রেজাউল করিম রনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আসামি জি কে শামীম এ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। এ মামলার একমাত্র অভিযুক্ত আসামি হিসেবে বিচার মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি।
মামলার নথি ও দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ একাডেমিক ভবনের (দ্বিতীয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ) নির্মাণকাজ পেতে দরপত্র আহ্বান করা হয়।
এ কাজে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ৭৫ কোটি টাকার ঠিকাদারি পায় ‘দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স- জি কে বি এল (জেভি)’ নামক একটি যৌথ প্রতিষ্ঠান। তবে দরপত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে জাল নথিপত্র ব্যবহার, তথ্য পরিবর্তন, মিথ্যা শেয়ার সংখ্যা প্রদর্শন এবং ১০ বছরের ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ জমা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এই জালিয়াতির প্রেক্ষিতে ২০২০ সালের নভেম্বরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তৎকালীন সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম বাদী হয়ে জি কে শামীম এবং দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তদন্তে ফজলুল করিম চৌধুরীর সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় ২০২৫ সালের চার্জশিট থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
ফলে এ মামলার একমাত্র অভিযুক্ত আসামি হিসেবে বিচার মুখোমুখি হচ্ছেন জি কে শামীম।
২০১৬ সালে চবির এই ভবনের দরপত্র আহ্বানকে কেন্দ্র করে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাংশের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। অন্য ঠিকাদারদের দরপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে এই দরপত্র সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একই বছরের ২০ নভেম্বর চবি ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরী খুন হন বলে তার পরিবার ও অনুসারীরা অভিযোগ করে আসছিলেন।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ
























