সিলেট বিভাগে মাদকের বিস্তার দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে নানা ধরণের মাদক প্রবেশ করে ছড়িয়ে পড়ছে নগর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানে ইয়াবা, বিদেশি মদ, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার হলেও তা কেবল সার্বিক বিস্তারের একাংশের চিত্র তুলে ধরে। মাদকের এমন ভয়াল থাবা ঠেকাতে বর্তমানে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।
৩ দিনে প্রায় ৬২ লাখ টাকার মাদক জব্দ ও ৮ জন আটক সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে গত তিন দিনে পৃথক অভিযান চালিয়েছে পুলিশ, ডিবি ও র্যাব-৯।
সিলেট জেলা পুলিশ ও ডিবি
বিয়ানীবাজারে নোহা গাড়ি থেকে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৭,৫০০ পিস ইয়াবাসহ ৩ জন আটক। জকিগঞ্জে পৃথক দুটি অভিযানে ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ৪,৯০০ পিস ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার। এছাড়া দক্ষিণ সুরমার নাজিরবাজারে ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ১৮১ লিটার বিদেশি মদসহ প্রাইভেটকার জব্দ।
সিলেট মহানগর পুলিশ
এয়ারপোর্ট থানার ধোপাগুল পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে ৪৮ বোতল বিদেশি মদ ও একটি সিএনজি অটোরিকশাসহ ১ জনকে আটক।
সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ
দিরাইয়ের শ্যামারচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ১,৩০৫ পিস ইয়াবাসহ ১ জনকে আটক। র্যাব-৯ (হবিগঞ্জ): মাধবপুরের রসুলপুরে বসতঘরে অভিযান চালিয়ে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ৩৬১ বোতল এসকাফ সিরাপ, ২ লাখ টাকা মূল্যের ৬ কেজি গাঁজা ও ১ বোতল বিদেশি মদসহ ১ নারীকে আটক।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য
সহকারী পুলিশ সুপার (সিলেট জেলা পুলিশ) সম্রাট তালুকদার জানান, সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলো মাদক পাচারের প্রধান রুট হওয়ায় নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি বড় চালান আটক হলেও মূলহোতাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এসএমপি) মোহাম্মদ মনজুররুল আলম জানান, সিলেট মহানগর এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। মাদক ও অনলাইন জুয়াসহ সব ধরনের অপরাধ নির্মূলে এসএমপি কাজ করছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (র্যাব-৯) কে.এম শহীদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই অপরাধ ও মাদক দমনে র্যাব অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। সিলেটে মাদকের বিস্তার রোধে র্যাবের টহল ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি
























