নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আজ ভোরের ভয়াবহ তুষারধস ও আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০ জনে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখনো চার শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশই বিভিন্ন দেশের বিদেশি পর্যটক।
ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি নেপাল পুলিশের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল সাড় আটটার দিকে নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুর উত্তরাঞ্চলীয় রসুয়া জেলায় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে।
নেপাল পর্যটন বোর্ডের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়, ৬১ জন নেপালি ও ৩৪১ জন বিদেশিসহ মোট ৪০৩ জন অধিবাসী ও পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২০০ জন নারী ও ২০৩ জন পুরুষ। তারা ২৬টি ভিন্ন দেশের নাগরিক, যার মধ্যে ভারতের ১৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন ও যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন নাগরিক রয়েছেন।
পর্যটন বোর্ড এক বিবৃতিতে জানায়, রসুয়া ও সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সীমান্তরেখার দুই পাশেই উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। ওই এলাকায় অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপত্তা ও বর্তমান অবস্থান বের করতে একযোগে কাজ করছে সব কটি দপ্তর।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী এলাকাটিতে ভূমিকম্প আঘাত হানার পর এই মারাত্মক হিমবাহধসের সূচনা হয় এবং তা মুহূর্তের মধ্যে আকস্মিক রূপ নিয়ে লোকালয়ে আছড়ে পড়ে। এ ঘটনার প্রভাবে সীমান্তসংলগ্ন চীন অংশও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
উদ্ধার তৎপরতায় বিমান বাহিনী ও দুর্যোগ মোকাবিলা টিম পাঠিয়েছে নেপাল সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বিবিসিকে পরিস্থিতি বর্ণনায় বলেন, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কল্পনার অতীত। ২০১৫ সালের প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের পর এটিই নেপালের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়।
ভোতে কোশি নদীর তীরবর্তী রসুয়া ও নুয়াকোট জেলার জনবসতিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুট হিসেবে ব্যবহৃত পাহাড়ি সড়ক, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও একাধিক প্রধান সেতু পুরোপুরি ধসে পড়েছে। ফলে উপদ্রুত দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছাতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন উদ্ধারকারীরা।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস

























