ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় তিন অধিদপ্তরের ঐতিহাসিক চুক্তি

দেশের সুবিধাবঞ্চিত নারী, শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা, পুনর্বাসন, ন্যায়বিচার প্রাপ্তি এবং এক ছাতার নিচে সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করতে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে যুক্ত হয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘সমাজসেবা অধিদপ্তর’, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর’ এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর’।

সমঝোতা স্মারকে নিজ নিজ সংস্থার পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার মহাপরিচালক মোঃ মঞ্জুরুল হোসেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহ্‌বুব এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শায়লা শার্মিন জামান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমীন। এছাড়াও সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ইয়াসমীন পারভীন এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, “বর্তমান সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক মানবিক বাংলাদেশ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের নারী, শিশু ও অবহেলিত শ্রেণির অধিকার যেন কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে এবং কেউ যেন বিচারের অভাবে নিভৃতে না কাঁদে—সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। যাদের আইনি সহায়তা পাওয়ার আর্থিক সামর্থ্য নেই, রাষ্ট্র সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তাঁদের আইনি সেবা প্রদান করবে।”

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “আইনি সহায়তা পাওয়া প্রতিটি মানুষের মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার। বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই দেশে সরকারি পর্যায়ে লিগ্যাল এইডের ধারণার সূত্রপাত হয়, তারই ধারাবাহিকতায় আজকের বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।”

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমীন তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নেই সরকার কাজ করে চলেছে। প্রান্তিক ও অসহায় জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এই ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত নারী, শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও যেকোনো সহিংসতার শিকার মানুষ একই সাথে পাবেন— বিনামূল্যে আইনি সহায়তা ও পরামর্শ, নিরাপদ আশ্রয় ও চিকিৎসাসেবা, মনোসামাজিক কাউন্সেলিং ও পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন।

পাশাপাশি একটি সমন্বিত রেফারেল ও কেস ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের ফলো-আপ নিশ্চিত হবে এবং ১৬৬৯৯, ১০৯৮ ও ১০৯ হেল্পলাইনগুলোর মধ্যে আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম আরও দ্রুততর হবে।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যৌথ প্রশিক্ষণ, সচেতনতা সৃষ্টি এবং তথ্য বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ও আইনি সহায়তার মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন রচনা করবে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি

 

Tag :

নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় তিন অধিদপ্তরের ঐতিহাসিক চুক্তি

আপডেট সময় ০৮:০১:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

দেশের সুবিধাবঞ্চিত নারী, শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা, পুনর্বাসন, ন্যায়বিচার প্রাপ্তি এবং এক ছাতার নিচে সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করতে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে যুক্ত হয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘সমাজসেবা অধিদপ্তর’, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর’ এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর’।

সমঝোতা স্মারকে নিজ নিজ সংস্থার পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার মহাপরিচালক মোঃ মঞ্জুরুল হোসেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহ্‌বুব এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শায়লা শার্মিন জামান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমীন। এছাড়াও সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ইয়াসমীন পারভীন এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, “বর্তমান সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক মানবিক বাংলাদেশ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের নারী, শিশু ও অবহেলিত শ্রেণির অধিকার যেন কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে এবং কেউ যেন বিচারের অভাবে নিভৃতে না কাঁদে—সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। যাদের আইনি সহায়তা পাওয়ার আর্থিক সামর্থ্য নেই, রাষ্ট্র সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তাঁদের আইনি সেবা প্রদান করবে।”

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “আইনি সহায়তা পাওয়া প্রতিটি মানুষের মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার। বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই দেশে সরকারি পর্যায়ে লিগ্যাল এইডের ধারণার সূত্রপাত হয়, তারই ধারাবাহিকতায় আজকের বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।”

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমীন তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নেই সরকার কাজ করে চলেছে। প্রান্তিক ও অসহায় জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এই ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত নারী, শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও যেকোনো সহিংসতার শিকার মানুষ একই সাথে পাবেন— বিনামূল্যে আইনি সহায়তা ও পরামর্শ, নিরাপদ আশ্রয় ও চিকিৎসাসেবা, মনোসামাজিক কাউন্সেলিং ও পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন।

পাশাপাশি একটি সমন্বিত রেফারেল ও কেস ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের ফলো-আপ নিশ্চিত হবে এবং ১৬৬৯৯, ১০৯৮ ও ১০৯ হেল্পলাইনগুলোর মধ্যে আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম আরও দ্রুততর হবে।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যৌথ প্রশিক্ষণ, সচেতনতা সৃষ্টি এবং তথ্য বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ও আইনি সহায়তার মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন রচনা করবে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি