ঢাকা ০৮:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাল টিপসই দিয়ে খাদ্যবান্ধবের ৪০০ বস্তা চাল আত্মসাতের চেষ্টা, ডিলার আটক

বগুড়ার গাবতলীতে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ না করেই উপকারভোগীদের নামের পাশে ভুয়া টিপসই দিয়ে ৪০০ বস্তা চাল আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে আব্দুর রশিদ (৫৩) নামের এক ডিলারকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের সাবেকপাড়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

আটক আব্দুর রশিদ উপজেলার আগবাড়িয়া গ্রামের কছিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি সোনারায় ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নিবন্ধিত ডিলার।

জানা যায়, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় গাবতলী উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ২৮ জন ডিলারের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কার্ডধারীদের জনপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। নিয়ম অনুযায়ী, বরাদ্দ করা পুরো চাল ডিলার পয়েন্টে পৌঁছানোর পর একযোগে বিতরণ শুরু করতে হয়।

তবে আব্দুর রশিদের নামে বরাদ্দ করা ৭০৭ বস্তা চালের মধ্যে প্রথমে ৪০০ বস্তা পৌঁছায়। অভিযোগ রয়েছে, ওই চাল উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ না করে তিনি দুই ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন। পাশাপাশি উপকারভোগীদের চাল না দিয়েই মাস্টাররোলে তাঁদের অগ্রিম ভুয়া টিপসই নিয়ে রাখেন।

খবর পেয়ে সকাল ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ সাবেকপাড়া বাজারের ডিলার পয়েন্টে অভিযান চালায়।

এ সময় দেখা যায়, ১৫১ জন উপকারভোগীর কাছ থেকে চাল দেওয়ার আগেই মাস্টাররোলে ভুয়া টিপসই নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে উপকারভোগীরা জানান, তাঁদের প্রত্যেকের ৩০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও কেউই চাল পাননি।

অভিযানকালে ৪০০ বস্তার মধ্যে ৩৯৮ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। বাকি দুই বস্তা চাল আগেই বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল।

আটক আব্দুর রশিদ জানান, যেসব উপকারভোগী চাল নেবেন না, তাঁদের বরাদ্দের চাল নিজে কিনে নিয়ে বাজারে বিক্রির পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।

একইভাবে বরাদ্দের বাকি ৩০৭ বস্তা চালও অন্যত্র বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর।

অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমেদ বলেন, চাল বিতরণ না করে অগ্রিম জাল টিপসই নেওয়ার অপরাধে ডিলারকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার করা চাল স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় দিয়ে প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আটক ডিলারের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

গাবতলী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ বলেন, ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে চাল আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হোসেন বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে আব্দুর রশিদকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

জাল টিপসই দিয়ে খাদ্যবান্ধবের ৪০০ বস্তা চাল আত্মসাতের চেষ্টা, ডিলার আটক

আপডেট সময় ০৬:৪৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

বগুড়ার গাবতলীতে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ না করেই উপকারভোগীদের নামের পাশে ভুয়া টিপসই দিয়ে ৪০০ বস্তা চাল আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে আব্দুর রশিদ (৫৩) নামের এক ডিলারকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের সাবেকপাড়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

আটক আব্দুর রশিদ উপজেলার আগবাড়িয়া গ্রামের কছিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি সোনারায় ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নিবন্ধিত ডিলার।

জানা যায়, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় গাবতলী উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ২৮ জন ডিলারের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কার্ডধারীদের জনপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। নিয়ম অনুযায়ী, বরাদ্দ করা পুরো চাল ডিলার পয়েন্টে পৌঁছানোর পর একযোগে বিতরণ শুরু করতে হয়।

তবে আব্দুর রশিদের নামে বরাদ্দ করা ৭০৭ বস্তা চালের মধ্যে প্রথমে ৪০০ বস্তা পৌঁছায়। অভিযোগ রয়েছে, ওই চাল উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ না করে তিনি দুই ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন। পাশাপাশি উপকারভোগীদের চাল না দিয়েই মাস্টাররোলে তাঁদের অগ্রিম ভুয়া টিপসই নিয়ে রাখেন।

খবর পেয়ে সকাল ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ সাবেকপাড়া বাজারের ডিলার পয়েন্টে অভিযান চালায়।

এ সময় দেখা যায়, ১৫১ জন উপকারভোগীর কাছ থেকে চাল দেওয়ার আগেই মাস্টাররোলে ভুয়া টিপসই নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে উপকারভোগীরা জানান, তাঁদের প্রত্যেকের ৩০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও কেউই চাল পাননি।

অভিযানকালে ৪০০ বস্তার মধ্যে ৩৯৮ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। বাকি দুই বস্তা চাল আগেই বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল।

আটক আব্দুর রশিদ জানান, যেসব উপকারভোগী চাল নেবেন না, তাঁদের বরাদ্দের চাল নিজে কিনে নিয়ে বাজারে বিক্রির পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।

একইভাবে বরাদ্দের বাকি ৩০৭ বস্তা চালও অন্যত্র বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর।

অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমেদ বলেন, চাল বিতরণ না করে অগ্রিম জাল টিপসই নেওয়ার অপরাধে ডিলারকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার করা চাল স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় দিয়ে প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আটক ডিলারের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

গাবতলী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ বলেন, ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে চাল আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হোসেন বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে আব্দুর রশিদকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ