চীনা প্রযুক্তি জায়ান্ট আলিবাবার শেয়ারে বড় পতন হয়েছে। এআই খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে ১০.২ বিলিয়ন ডলারের নতুন শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেওয়ার পর সোমবার হংকংয়ের বাজারে কোম্পানিটির শেয়ার একপর্যায়ে ১০.৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।
আলিবাবা জানিয়েছে, তারা ৮ হাজার কোটি হংকং ডলার বা প্রায় ১০.২ বিলিয়ন ডলারের নতুন শেয়ার বিক্রি করবে। প্রতি শেয়ারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১১২.৭০ হংকং ডলার। এটি গত শুক্রবারের বাজারদরের তুলনায় ৮.৪ শতাংশ কম।
শেয়ার বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ এআই চিপ, এআই অবকাঠামো এবং বিভিন্ন এআই মডেল তৈরিতে ব্যয় করবে আলিবাবা।
কোম্পানিটির নতুন ৭১ কোটি শেয়ার বিক্রি হবে, যা শেয়ার সংখ্যা বৃদ্ধির পর মোট শেয়ারের প্রায় ৩.৬ শতাংশ।
শেয়ার বিক্রির ঘোষণায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও এতে ব্যাপক চাহিদা দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলারের অর্ডার জমা পড়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও সার্বভৌম বিনিয়োগকারীদের অর্ডার রয়েছে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের।
আলিবাবার এআই ব্যবসা বর্তমানে কোম্পানির রাজস্ব বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বিশেষ করে এর কিউয়েন (Qwen) এআই মডেল চীনে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে বিনিয়োগকারীদের একাংশ মনে করছেন, এআই খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় আলিবাবার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
সম্প্রতি এআই খাতে ব্যয়ের কারণে আলিবাবার মুনাফাতেও বড় চাপ পড়েছে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত প্রান্তিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, কোম্পানিটির নিট মুনাফা এক বছর আগের তুলনায় ৭৫ শতাংশ কমেছে।
এআই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর অংশ হিসেবে আলিবাবা চলতি বছর তাদের এআই কার্যক্রমকে ক্লাউড ব্যবসা থেকে আলাদা করেছে। পাশাপাশি চিপ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান টি-হেডকে ভবিষ্যতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কোম্পানিটি।
আলিবাবা জানিয়েছে, তিন বছরের জন্য নির্ধারিত ৩৮ হাজার কোটি ইউয়ানের মূলধন ব্যয় পরিকল্পনার প্রায় অর্ধেক ইতোমধ্যে বরাদ্দ করা হয়েছে। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী এডি উয়ের মতে, এআই অবকাঠামোয় এসব বিনিয়োগ থেকে তিন বছরের মধ্যে, এমনকি আড়াই বছরেও, লাভ আসতে পারে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলিবাবার এই শেয়ার বিক্রি হংকংয়ের বাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির নতুন শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড়। এআই খাতে বিনিয়োগের জন্য চীনা ও মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করছে, আলিবাবার এই উদ্যোগও তারই অংশ।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ





























