ডারউইনের চেয়ে ম্যাকাইয়ের পিচ যে বোলারদের জন্য স্বর্গরাজ্য, তার প্রমাণ মিলেছে ম্যাচের শুরু থেকেই। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিনেই দুই দল মিলে হারিয়েছিল ১৮টি উইকেট।
আর আজ দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই পড়েছে আরও ৫টি উইকেট। লাঞ্চের পর বিদায়ের মিছিলে যোগ দিয়েছেন আরো ৪ ব্যাটার। সব মিলিয়ে দু’দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই মিলল ২৭ উইকেটের পতন, যা ম্যাচটি আজই শেষ হয়ে যাওয়ার বড় শঙ্কা তৈরি করেছে।
ডারউইনে বাংলাদেশ জয় পেয়েছিল সাড়ে তিন দিনে।
তবে কুইন্সল্যান্ডের ম্যাকাইতে চিত্রটা একদম ভিন্ন। অতিরিক্ত সুইং ও বাউন্সে সুবিধা পেয়ে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে মাত্র ৬৪ রানে গুঁড়িয়ে দেন মিচেল স্টার্ক (৬ উইকেট)। জবাবে বল হাতে আগুনে রূপ দেখিয়ে শরিফুল ইসলাম ৭ উইকেট তুলে নিলে অজিদের প্রথম ইনিংস থামে ২১০ রানে। অর্থাৎ, দুই দল মিলিয়ে প্রথম ইনিংসে মোট রান উঠেছে মাত্র ২৭৪!
অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম ক্রিকেটডটকম ডটএইউ ডারউইন ও ম্যাকাইয়ের পিচের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেছে।
যেখানে দেখা যাচ্ছে, ডারউইনের চেয়ে ম্যাকাইতে সুইং ও বাউন্স—দুটোই অনেক বেশি। ডারউইনে বলের সিম মুভমেন্ট ছিল ৮.৫ সেন্টিমিটার, যা ম্যাকাইতে দাঁড়িয়েছে ৯.১ সেন্টিমিটারে। ডারউইনে বল সুইং করেছিল ১৮ সেন্টিমিটার, আর ম্যাকাইতে তা বেড়ে হয়েছে ২৮.৫ সেন্টিমিটার। পাশাপাশি ডারউইনের ৭৪.৯ সেন্টিমিটারের বাউন্স এখানে লাফিয়ে উঠেছে ৮০.৯ সেন্টিমিটারে।
অস্ট্রেলিয়ার শতবর্ষী টেস্ট ইতিহাসে দু’দিনে ম্যাচ শেষ হওয়ার নজির আছে মাত্র ৩টি।
প্রথমবার ১৯৩১ সালে মেলবোর্নে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট শেষ হয়েছিল দু’দিনে। দীর্ঘ ৯১ বছর পর ২০২২ সালে ব্রিসবেনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এবং পরবর্তীতে পার্থে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাশেজ টেস্টেও এমন পরিণতি দেখা গিয়েছিল।
ম্যাকাই টেস্ট শেষ পর্যন্ত দুই দিনে গড়ালে এটি হবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দু’দিনে টেস্ট শেষ হওয়ার চতুর্থ ঘটনা।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ





























