বাবার মৃত্যুর পর দ্রুতই আর্জেন্টিনা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন লিওনেল মেসি। নেমে যান ইন্টার মিয়ামির জার্সিতেও। তবে গোলের দেখা পাননি সেই ম্যাচে। বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর প্রথম গোলের দেখা পান মেসি বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোরে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে। গালফ নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
ফলে উদযাপনেও ছিল আবেগের ছোঁয়া। দুই হাতের অনামিকা আকাশের দিকে তুলে কিংবদন্তি স্মরণ করেন প্রয়াত দাদি সেলিয়া অলিভেরা ও বাবা হোর্হে মেসিকে। মায়ামি ফরোয়ার্ডের ক্যারিয়ারে তাদের চেয়ে বেশি অবদান সম্ভবত আর কারও নেই। ছোটবেলায় রোজ বিকেলে দাদি তাকে খেলতে নিয়ে যেতেন। আর বাবা ছিলেন বন্ধুর মতো। সন্তানের ক্যারিয়ার সঠিক পথে রাখতে তিনি এজেন্টের ভূমিকাও পালন করেছেন।
এর আগে, গত ৮ আগস্ট আর্জেন্টিনার রোজারিওতে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি মেসির বাবা মারা যান ৬৮ বছর বয়সে।
বাবার মৃত্যুর পর চলতি সপ্তাহেই আবেগঘন একটি বার্তা দেন মেসি। সেখানে নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পেছনে বাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করেন তিনি। একইসঙ্গে বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতির সময় সাম্প্রতিক ফিফা বিশ্বকাপে খেলতে গিয়ে নিজের মানসিক সংগ্রামের কথাও তুলে ধরেন।
পরে বুধবার সুবরু পার্কে ম্যাচের একপর্যায়ে বাঁ পায়ের শটে গোল করে ইন্টার মায়ামিকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মেসি। গোলের পর সতীর্থরা তাকে জড়িয়ে ধরেন। যদিও ম্যাচটি ড্র হয় ২-২ গোলে।
জানা যায়, বাবার মৃত্যুর পর আগের দুটি ম্যাচে মেসি গোল পাননি। ওই দুই ম্যাচের প্রথমটিতে মেক্সিকোর দল লিওনের কাছে ৩-২ গোলে হেরে লিগস কাপ থেকে বিদায় নেয় মায়ামি। এরপর এমএলএসে ন্যাশভিলের কাছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারে তারা। সেই ম্যাচে একটি পেনাল্টি মিস করেন মেসি। এমএলএস ইস্টার্ন কনফারেন্স পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের চেয়ে ৭ পয়েন্টে পিছিয়ে থেকে দুই নম্বরে আছে মায়ামি (৩৯)।
এমএলএস কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মায়ামি এই ম্যাচের আগে টানা তিন ম্যাচে হেরেছিল। মেসির এই গোলটি চলতি মৌসুমে তার ১৩তম। এর ফলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ডালাসের স্ট্রাইকার পেতার মুসার চেয়ে মাত্র এক গোল পিছিয়ে আছেন তিনি। গত মৌসুমে এই পুরস্কার জিতেছিলেন মেসি।
উল্লেখ্য, কৈশোরে আর্জেন্টিনা ছেড়ে স্পেনের বার্সেলোনায় পাড়ি জমানোর প্রথম দিকের বছরগুলো থেকে শুরু করে ছেলের পুরো ক্যারিয়ারেই ছায়ার মতো নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন হোর্হে। মেসির অত্যন্ত ভরসার জায়গা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার। বেশ কয়েক বছর ছেলের এজেন্ট হিসেবেও দেখা গিয়েছিল তাকে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ





























