ঢাকা ০৮:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎসংকটে বর্তমান সরকারের দায় নেই, সব আ. লীগের পাপের ফসল : তথ্য উপদেষ্টা

দেশে চলমান বিদ্যুৎসংকটের জন্য বর্তমান সরকারের ন্যূনতম কোনো দায় নেই। তবে বিদ্যুতের সংকটে মানুষ কষ্ট পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী মানবিক জায়গা থেকে মনোকষ্ট পেয়েছেন এবং জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎসংকট আওয়ামী লীগ সরকারের পাপের ফল।’

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের মিলনায়তনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বর্ষ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, “বিদ্যুৎসংকটকে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মানবিকভাবে নিয়েছেন। তিনি জনগণের কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

অথচ বিগত সরকারের সময় বলা হতো—‘সব বন্ধ করে দেখাই, আগে কী ছিল।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের কাছ থেকে বড় ধরনের বিজয় পেয়েছে। জনগণ যে প্রত্যাশা ও প্রতিশ্রুতির ওপর সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে, তা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে সরকার কাজ করছে। তবে এ কাজে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

আগের সরকারের সমালোচনা করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এই উপদেষ্টা বলেন, ভোট চুরির মাধ্যমে অনন্তকাল ক্ষমতায় থাকার বাসনা ছিল আগের সরকারের। তাই তারা জনগণের কথা ভাবেনি। সরকারি কর্মকর্তারা এমন একটি সরকারের সঙ্গে কাজ করেছেন, যাদের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে জনগণের কাছে কোনো দায় ছিল না।

তিনি বলেন, নির্বাচনীব্যবস্থা সঠিক থাকলে সরকারকে সব সময় জনগণের কথা বিবেচনায় রাখতে হয়। বর্তমান সরকার ভবিষ্যতে দেশে একটি ভালো নির্বাচনীব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়।

সরকারের সঙ্গে জনগণের নিয়মিত যোগাযোগ থাকবে এবং জনগণের ইচ্ছাকে সরকার গুরুত্ব দেবে।

সরকারের কার্যক্রমের মূল্যায়নের বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ১৮০ দিন পার হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে উপদেষ্টা ও বিশেষজ্ঞরা সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম মূল্যায়ন করছেন। আগামী ছয় মাস পর প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজও মূল্যায়ন করা হবে। এ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় সরকারের সব অংশকে যুক্ত হতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের পাঁচ বছর পর জনগণের কাছে যেতে হবে। তখন কোন ক্ষেত্রে কী করেছি, সেটি জনগণকে বলতে হবে। সেই জবাবদিহির জায়গায় সরকারি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকার কোন ধরনের নীতি ও কর্মসূচি জনগণের কাছে নিয়ে যাচ্ছে, সে বিষয়ে সবাইকে অবগত থাকতে হবে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে ব্যালট পেপার হিসেবেও মূল্যায়ন করেননি। আমাদের চেহারায় যদি তিনি ব্যালট পেপার দেখতেন, তাহলে দেশটাকে এই জায়গায় নিয়ে যেতেন না।

দেশের শিশু-কিশোরদের প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমানে অনেক শিশু-কিশোর নানা ধরনের আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের শুধু একাডেমিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, সংগীত, নৃত্যসহ বিভিন্ন সহপাঠ্য কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সম্ভব—এই ধারণাটিও শিশু-কিশোরদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আমাদের শিশুরা সর্বক্ষেত্রে ভালো করবে। তাদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে। সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে হবে।

প্রচলিত সাংস্কৃতিক আয়োজনগুলো পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সার্কাস ও যাত্রাপালার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজনগুলো থেকে খারাপ বিষয়গুলো বাদ দিয়ে আবারও এসব আয়োজনের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করা হবে। এর মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের সুস্থ বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম। এ সময় রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মোতালেব সরকার, রংপুর বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসক, জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

বিদ্যুৎসংকটে বর্তমান সরকারের দায় নেই, সব আ. লীগের পাপের ফসল : তথ্য উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৬:৪৭:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

দেশে চলমান বিদ্যুৎসংকটের জন্য বর্তমান সরকারের ন্যূনতম কোনো দায় নেই। তবে বিদ্যুতের সংকটে মানুষ কষ্ট পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী মানবিক জায়গা থেকে মনোকষ্ট পেয়েছেন এবং জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎসংকট আওয়ামী লীগ সরকারের পাপের ফল।’

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের মিলনায়তনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বর্ষ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, “বিদ্যুৎসংকটকে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মানবিকভাবে নিয়েছেন। তিনি জনগণের কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

অথচ বিগত সরকারের সময় বলা হতো—‘সব বন্ধ করে দেখাই, আগে কী ছিল।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের কাছ থেকে বড় ধরনের বিজয় পেয়েছে। জনগণ যে প্রত্যাশা ও প্রতিশ্রুতির ওপর সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে, তা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে সরকার কাজ করছে। তবে এ কাজে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

আগের সরকারের সমালোচনা করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এই উপদেষ্টা বলেন, ভোট চুরির মাধ্যমে অনন্তকাল ক্ষমতায় থাকার বাসনা ছিল আগের সরকারের। তাই তারা জনগণের কথা ভাবেনি। সরকারি কর্মকর্তারা এমন একটি সরকারের সঙ্গে কাজ করেছেন, যাদের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে জনগণের কাছে কোনো দায় ছিল না।

তিনি বলেন, নির্বাচনীব্যবস্থা সঠিক থাকলে সরকারকে সব সময় জনগণের কথা বিবেচনায় রাখতে হয়। বর্তমান সরকার ভবিষ্যতে দেশে একটি ভালো নির্বাচনীব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়।

সরকারের সঙ্গে জনগণের নিয়মিত যোগাযোগ থাকবে এবং জনগণের ইচ্ছাকে সরকার গুরুত্ব দেবে।

সরকারের কার্যক্রমের মূল্যায়নের বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ১৮০ দিন পার হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে উপদেষ্টা ও বিশেষজ্ঞরা সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম মূল্যায়ন করছেন। আগামী ছয় মাস পর প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজও মূল্যায়ন করা হবে। এ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় সরকারের সব অংশকে যুক্ত হতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের পাঁচ বছর পর জনগণের কাছে যেতে হবে। তখন কোন ক্ষেত্রে কী করেছি, সেটি জনগণকে বলতে হবে। সেই জবাবদিহির জায়গায় সরকারি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকার কোন ধরনের নীতি ও কর্মসূচি জনগণের কাছে নিয়ে যাচ্ছে, সে বিষয়ে সবাইকে অবগত থাকতে হবে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে ব্যালট পেপার হিসেবেও মূল্যায়ন করেননি। আমাদের চেহারায় যদি তিনি ব্যালট পেপার দেখতেন, তাহলে দেশটাকে এই জায়গায় নিয়ে যেতেন না।

দেশের শিশু-কিশোরদের প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমানে অনেক শিশু-কিশোর নানা ধরনের আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের শুধু একাডেমিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, সংগীত, নৃত্যসহ বিভিন্ন সহপাঠ্য কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সম্ভব—এই ধারণাটিও শিশু-কিশোরদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আমাদের শিশুরা সর্বক্ষেত্রে ভালো করবে। তাদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে। সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে হবে।

প্রচলিত সাংস্কৃতিক আয়োজনগুলো পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সার্কাস ও যাত্রাপালার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজনগুলো থেকে খারাপ বিষয়গুলো বাদ দিয়ে আবারও এসব আয়োজনের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করা হবে। এর মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের সুস্থ বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম। এ সময় রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মোতালেব সরকার, রংপুর বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসক, জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ