নাগরিক সেবার মান নিশ্চিত করতে রাজধানীর সাইন্সল্যাব ও সিটি কলেজ এলাকায় সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিয়ন্ত্রণ, সড়কবাতি, রাজস্ব আদায় ও ফুটপাত দখলমুক্তকরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম তদারকি করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
অভিযান শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রশাসক বলেন, নগর ভবনে বসে ঢাকা দক্ষিণের বিশাল এলাকার সেবা কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এ কারণে অঞ্চলভিত্তিক গণশুনানি চালু করা হয়েছে। সরাসরি এলাকায় গিয়ে নাগরিকদের সমস্যার কথা শোনা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গত পাঁচ মাস ধরে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নাগরিকদের সচেতন হতে অনুরোধ করা হয়েছে। এখন মাঠপর্যায়ে চূড়ান্তভাবে তদারকি করার সময় এসেছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন তিনি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক পরিদর্শনে যাবেন। এ সময় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব, সড়কবাতি ও প্রকৌশলসহ বিভিন্ন সেবার মান যাচাই করা হবে।
কোনো বিভাগে গাফিলতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযানে ফুটপাত, বিভিন্ন স্থাপনা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়। ট্রেড লাইসেন্স পরীক্ষা এবং ফুটপাতে অবৈধভাবে বসানো ভ্রাম্যমাণ দোকানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি ডিএসসিসির তিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।
অভিযানে নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ‘এ এইচোসাইন বিল্ডার’-কে দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারায় ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশনের দায়ে ‘রসুই’ রেস্তোরাঁকে ১০ হাজার টাকা এবং ফুটপাতে অবৈধ পার্কিংয়ের দায়ে ধানমন্ডি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, জনস্বার্থে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের সমন্বিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ























