ঢাকা ০২:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হালাল শিল্পের সম্প্রসারণে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া একসঙ্গে কাজ করতে পারে Logo স্মার্টফোনের দাম ৫০–৬০ ডলারে নামানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার Logo মরদেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ চুরির মামলা, ‘বড় অঙ্কে’র ক্ষতিপূরণ দেবে হার্ভার্ড Logo চট্টগ্রামে বকেয়া বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ Logo ১৪ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফের ঘোষণা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় Logo উত্তর সিটির রিকশা ঢুকতে পারবে না দক্ষিণে : ডিএসসিসি প্রশাসক Logo গভীর রাতে পিৎজার দোকানে তিন সেকেন্ডে ৩ রাউন্ড গুলিবর্ষণ Logo ১৩ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, ঝুঁকিতে ১৭ হাজার গর্ভবতী Logo প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা Logo ফরিদপুরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ, ৩ দিন পর খাদে মিলল কলেজছাত্রের মরদেহ

কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্তির আনন্দ রূপ নিল শোকে

৪৫তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডারে কর্মকর্তা পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে জীবনের নতুন স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছিলেন তানভীর আহমেদ (২৯)। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তবে রূপ নিল না। নীলফামারীর ডোমারে রেললাইনের পাশ থেকে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) সাবেক এই শিক্ষার্থীর দ্বিখণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়।

নিহত তানভীর আহমেদ মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি শেকৃবির ৭৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। কর্মজীবনে তিনি দেবীগঞ্জ কৃষি ফার্মের গম গবেষণা কেন্দ্রে খামার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সম্প্রতি প্রকাশিত ৪৫তম বিসিএসের ফলাফলে তিনি কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের শিমুলতলী সংলগ্ন রেলগেট এলাকা থেকে তানভীরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলের অদূরে একটি ধানখেত থেকে তাঁর বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সিআইডির ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় আলামতও সংগ্রহ করা হয়েছে।

তানভীরের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। নিহতের বাবা মীর বজলুর রশিদ জানান, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল না। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তানভীরের সোচ্চার অবস্থানের কারণে কোনো বিরোধ তৈরি হয়েছিল কি না, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘দিনাজপুরে কর্মরত থাকাকালে আমার ছেলে সেখানকার কয়েকজন দুর্নীতিবাজ ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছিল। আমাদের তীব্র আশঙ্কা, সেই বিরোধের জের ধরেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।’

একজন মেধাবী বিসিএস কর্মকর্তার এমন আকস্মিক ও নির্মম মৃত্যুতে তাঁর পরিবার, সহপাঠী এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

হালাল শিল্পের সম্প্রসারণে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া একসঙ্গে কাজ করতে পারে

কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্তির আনন্দ রূপ নিল শোকে

আপডেট সময় ১২:৩৬:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

৪৫তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডারে কর্মকর্তা পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে জীবনের নতুন স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছিলেন তানভীর আহমেদ (২৯)। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তবে রূপ নিল না। নীলফামারীর ডোমারে রেললাইনের পাশ থেকে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) সাবেক এই শিক্ষার্থীর দ্বিখণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়।

নিহত তানভীর আহমেদ মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি শেকৃবির ৭৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। কর্মজীবনে তিনি দেবীগঞ্জ কৃষি ফার্মের গম গবেষণা কেন্দ্রে খামার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সম্প্রতি প্রকাশিত ৪৫তম বিসিএসের ফলাফলে তিনি কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের শিমুলতলী সংলগ্ন রেলগেট এলাকা থেকে তানভীরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলের অদূরে একটি ধানখেত থেকে তাঁর বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সিআইডির ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় আলামতও সংগ্রহ করা হয়েছে।

তানভীরের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। নিহতের বাবা মীর বজলুর রশিদ জানান, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল না। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তানভীরের সোচ্চার অবস্থানের কারণে কোনো বিরোধ তৈরি হয়েছিল কি না, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘দিনাজপুরে কর্মরত থাকাকালে আমার ছেলে সেখানকার কয়েকজন দুর্নীতিবাজ ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছিল। আমাদের তীব্র আশঙ্কা, সেই বিরোধের জের ধরেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।’

একজন মেধাবী বিসিএস কর্মকর্তার এমন আকস্মিক ও নির্মম মৃত্যুতে তাঁর পরিবার, সহপাঠী এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ