ঢাকা ০২:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হালাল শিল্পের সম্প্রসারণে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া একসঙ্গে কাজ করতে পারে Logo স্মার্টফোনের দাম ৫০–৬০ ডলারে নামানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার Logo মরদেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ চুরির মামলা, ‘বড় অঙ্কে’র ক্ষতিপূরণ দেবে হার্ভার্ড Logo চট্টগ্রামে বকেয়া বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ Logo ১৪ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফের ঘোষণা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় Logo উত্তর সিটির রিকশা ঢুকতে পারবে না দক্ষিণে : ডিএসসিসি প্রশাসক Logo গভীর রাতে পিৎজার দোকানে তিন সেকেন্ডে ৩ রাউন্ড গুলিবর্ষণ Logo ১৩ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, ঝুঁকিতে ১৭ হাজার গর্ভবতী Logo প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা Logo ফরিদপুরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ, ৩ দিন পর খাদে মিলল কলেজছাত্রের মরদেহ

চাঁদে স্পেসএক্স রকেটের ধাক্কায় তৈরি বিশাল গর্তের ছবি প্রকাশ করল নাসা

চাঁদের বুকে মার্কিন প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের একটি রকেটের অনিয়ন্ত্রিত সংঘর্ষে সৃষ্ট বিশাল গর্তের নতুন ও স্পষ্ট ছবি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। গত ৫ আগস্ট ফ্যালকন ৯ রকেটের আপার স্টেজ চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়ার পর নাসার ‘লুনার রিকনসান্স অরবিটার’ মহাকাশযান এই ছবিগুলো তুলতে সক্ষম হয়।

নাসার বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রকেটটির প্রচণ্ড আঘাতের ফলে চাঁদের মাটিতে প্রায় ৬০ ফুট (১৮ মিটার) চওড়া এবং প্রায় ১০ ফুট গভীর একটি নতুন গহ্বর বা গর্তের তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বেসরকারি মহাকাশ অভিযান প্রতিষ্ঠান ফায়ারফ্লাই অ্যারোস্পেসের ‘ব্লু ঘোস্ট ১’ লুনার ল্যান্ডার বহন করে মহাকাশে পাড়ি জমিয়েছিল স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেট। চাঁদের বুকে ব্লু ঘোস্ট ১ ল্যান্ডারটি সফলভাবে অবতরণ করলেও রকেটের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া অংশটি কক্ষে ঘুরে বেড়ানোর পর গত ৫ আগস্ট অনিয়ন্ত্রিতভাবে চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়ে।

রকেটটির আছড়ে পড়ার নিখুঁত স্থান চিহ্নিত করতে বিশ্বজুড়ে শীর্ষস্থানীয় মহাকাশ বিশেষজ্ঞ ও শৌখিন মহাকাশপ্রেমীরা একসাথে কাজ শুরু করেন।

পরবর্তীতে নাসার ‘সেন্টার ফর নিয়ার আর্থ অবজেক্ট স্টাডিজ’ নিখুঁত হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে সংঘর্ষের স্থানটি চিহ্নিত করে এবং এই তথ্য দক্ষিণ কোরিয়ার মহাকাশ সংস্থাকে সরবরাহ করে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ৬ আগস্ট কোরিয়ার মহাকাশযান ‘দানুরি’ (কোরিয়া পাথফাইন্ডার লুনার অরবিটার) প্রথম স্থানটির ছবি তোলে। পরে দানুরি টিমের পাঠানো স্থানাঙ্কের ওপর ভিত্তি করে নাসার এলআরও দল আরো নিখুঁত ছবি তোলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

নাসা জানিয়েছে, চাঁদের কক্ষপথে ৬০ মাইল ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় মহাকাশযানের মাধ্যমে এই ছবিগুলো তোলা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল।

নির্দিষ্ট স্থানটি দেখার উপযোগী অবস্থানে আসা পর্যন্ত নাসার মহাকাশযানটিকে টানা ৬ দিন অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ছবি তোলার সময় নির্ধারণ ছিল আরেকটি বড় পরীক্ষা। নাসা তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ক্যামেরাটি যদি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে মাত্র ১০ সেকেন্ড আগেও বা পরেও ছবি তুলত, তবে মূল লক্ষ্যবস্তুটি ফ্রেমের কেন্দ্র থেকে ১০ মাইল দূরে সরে যেত।

ছবিগুলো বিশ্লেষণের পর নাসার বিজ্ঞানীরা জানান, সংঘর্ষের তীব্রতায় চাঁদের ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১.৫ ফুট নিচ থেকে ধূলিকণা ও শিলা ছিটকে উপরে উঠে এসেছে। গর্তটির চারপাশে উজ্জ্বল ও গাঢ় রঙের কিছু রেখা দৃশ্যমান হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে সৌর বায়ু ও মহাজাগতিক রশ্মির প্রভাবে থাকা পুরোনো ধূলিকণাগুলো গাঢ় রেখা তৈরি করেছে। অন্যদিকে, সংঘর্ষের ধাক্কায় চাঁদের গভীরে লুকিয়ে থাকা তাজা যে উপাদানগুলো বেরিয়ে এসেছে, সেগুলো গর্তের কিনারা ঘেঁষে উজ্জ্বল রেখার জন্ম দিয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

হালাল শিল্পের সম্প্রসারণে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া একসঙ্গে কাজ করতে পারে

চাঁদে স্পেসএক্স রকেটের ধাক্কায় তৈরি বিশাল গর্তের ছবি প্রকাশ করল নাসা

আপডেট সময় ১২:২৯:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

চাঁদের বুকে মার্কিন প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের একটি রকেটের অনিয়ন্ত্রিত সংঘর্ষে সৃষ্ট বিশাল গর্তের নতুন ও স্পষ্ট ছবি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। গত ৫ আগস্ট ফ্যালকন ৯ রকেটের আপার স্টেজ চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়ার পর নাসার ‘লুনার রিকনসান্স অরবিটার’ মহাকাশযান এই ছবিগুলো তুলতে সক্ষম হয়।

নাসার বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রকেটটির প্রচণ্ড আঘাতের ফলে চাঁদের মাটিতে প্রায় ৬০ ফুট (১৮ মিটার) চওড়া এবং প্রায় ১০ ফুট গভীর একটি নতুন গহ্বর বা গর্তের তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বেসরকারি মহাকাশ অভিযান প্রতিষ্ঠান ফায়ারফ্লাই অ্যারোস্পেসের ‘ব্লু ঘোস্ট ১’ লুনার ল্যান্ডার বহন করে মহাকাশে পাড়ি জমিয়েছিল স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেট। চাঁদের বুকে ব্লু ঘোস্ট ১ ল্যান্ডারটি সফলভাবে অবতরণ করলেও রকেটের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া অংশটি কক্ষে ঘুরে বেড়ানোর পর গত ৫ আগস্ট অনিয়ন্ত্রিতভাবে চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়ে।

রকেটটির আছড়ে পড়ার নিখুঁত স্থান চিহ্নিত করতে বিশ্বজুড়ে শীর্ষস্থানীয় মহাকাশ বিশেষজ্ঞ ও শৌখিন মহাকাশপ্রেমীরা একসাথে কাজ শুরু করেন।

পরবর্তীতে নাসার ‘সেন্টার ফর নিয়ার আর্থ অবজেক্ট স্টাডিজ’ নিখুঁত হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে সংঘর্ষের স্থানটি চিহ্নিত করে এবং এই তথ্য দক্ষিণ কোরিয়ার মহাকাশ সংস্থাকে সরবরাহ করে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ৬ আগস্ট কোরিয়ার মহাকাশযান ‘দানুরি’ (কোরিয়া পাথফাইন্ডার লুনার অরবিটার) প্রথম স্থানটির ছবি তোলে। পরে দানুরি টিমের পাঠানো স্থানাঙ্কের ওপর ভিত্তি করে নাসার এলআরও দল আরো নিখুঁত ছবি তোলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

নাসা জানিয়েছে, চাঁদের কক্ষপথে ৬০ মাইল ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় মহাকাশযানের মাধ্যমে এই ছবিগুলো তোলা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল।

নির্দিষ্ট স্থানটি দেখার উপযোগী অবস্থানে আসা পর্যন্ত নাসার মহাকাশযানটিকে টানা ৬ দিন অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ছবি তোলার সময় নির্ধারণ ছিল আরেকটি বড় পরীক্ষা। নাসা তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ক্যামেরাটি যদি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে মাত্র ১০ সেকেন্ড আগেও বা পরেও ছবি তুলত, তবে মূল লক্ষ্যবস্তুটি ফ্রেমের কেন্দ্র থেকে ১০ মাইল দূরে সরে যেত।

ছবিগুলো বিশ্লেষণের পর নাসার বিজ্ঞানীরা জানান, সংঘর্ষের তীব্রতায় চাঁদের ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১.৫ ফুট নিচ থেকে ধূলিকণা ও শিলা ছিটকে উপরে উঠে এসেছে। গর্তটির চারপাশে উজ্জ্বল ও গাঢ় রঙের কিছু রেখা দৃশ্যমান হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে সৌর বায়ু ও মহাজাগতিক রশ্মির প্রভাবে থাকা পুরোনো ধূলিকণাগুলো গাঢ় রেখা তৈরি করেছে। অন্যদিকে, সংঘর্ষের ধাক্কায় চাঁদের গভীরে লুকিয়ে থাকা তাজা যে উপাদানগুলো বেরিয়ে এসেছে, সেগুলো গর্তের কিনারা ঘেঁষে উজ্জ্বল রেখার জন্ম দিয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ