ঢাকা ০১:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

ইউক্রেনে দ্রুত নির্বাচনের দাবি বরখাস্ত হওয়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফেদোরভের

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলার মাঝেই ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও নির্বাচন ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বরখাস্তের শিকার হওয়া ৩৫ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদের এই পদক্ষেপকে ২০২২ সালে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর থেকে জেলেনস্কির নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ইউটিউবে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ফেদোরভ বলেন, গণতন্ত্রকে রাশিয়ার হাতে জিম্মি করে রাখা যায় না। যুদ্ধের মধ্যেও ইউক্রেন একটি স্বাধীন ও ইউরোপীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকার জন্যই লড়াই করছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে দেশটিতে সামরিক আইন জারি রয়েছে। ফলে সংবিধান অনুযায়ী সমস্ত ধরনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।

ডিজিটাল রূপান্তর এবং প্রযুক্তিভিত্তিক সামরিক সংস্কারের জন্য পরিচিত ফেদোরভকে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় গত জুলাইয়ে আচমকা বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। মূলত সেনাপ্রধান ওলেক্সান্ডার সিরস্কির সঙ্গে তীব্র মতবিরোধের জেরেই তাকে পদত্যাগ করতে হয় বলে ধারণা করা হয়। এই ঘটনা ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক গণবিক্ষোভের জন্ম দেয়, যার মুখে পড়ে পরবর্তীতে সেনাপ্রধান সিরস্কিকেও তার পদ থেকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হন জেলেনস্কি।

ভিডিও বার্তায় ফেদোরভ তার নিজের ভবিষ্যতের কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনার ইঙ্গিত না দিলেও জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেনে বর্তমানে শাসনব্যবস্থার একটি পদ্ধতিগত সংক চলছে এবং দেশটিকে পরিবর্তনকে ভয় পাওয়া বন্ধ করতে হবে।

সেই সঙ্গে প্রশাসনের ভেতরের দুর্নীতি ইউক্রেনের যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।ফেদোরভ বলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মধ্যেও একটি আইনি, নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ফেদোরভ বরখাস্ত হওয়ার পর জেলেনস্কি পেশাদার গোয়েন্দা কর্মকর্তা ইয়েভজেনি খমারাকে ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তবে ফেদোরভকে সরকারের অন্যান্য পদের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, তিনি কেবল প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবেই সরকারে ফিরতে ইচ্ছুক। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে সংক্ষিপ্ত মেয়াদের দায়িত্বে ফেদোরভ ইউক্রেনীয় বাহিনীতে ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে বিপ্লব আনেন।

তিনি ‘আর্মি অফ ড্রোনস’ গঠন করেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে উন্নত কর্মক্ষমতার জন্য সেনাদলগুলোকে বিশেষ পয়েন্ট ও ক্রেডিট দেওয়ার মতো ‘গেমফিকেশন’ পদ্ধতি চালু করেন। এ ছাড়া প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সঙ্গে যোগাযোগ করে রুশ বাহিনীকে স্পেসএক্সের ‘স্টারলিঙ্ক’ স্যাটেলাইট পরিষেবা ব্যবহারে বাধা দেন ফেদোরভ, যা রণক্ষেত্রে রাশিয়ার অগ্রযাত্রায় বড় ধরণের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছিল।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার অভ্যন্তরে ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি দেশটির রাজধানী মস্কোসহ বিভিন্ন তেলের শোধনাগারে প্রায় ৬০০টি ড্রোন হামলা চালানো হয়, যাকে মস্কো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে মারাত্মক ড্রোন হামলা বলে অভিহিত করা হয়েছে। এই হামলায় রাশিয়ায় সাধারণ নাগরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে, ইউক্রেনেও রুশ বাহিনীর ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। তবে সংঘাত চরম আকার ধারণ করলেও মিত্রদেশ যুক্তরাজ্য ইউক্রেনের প্রতি তাদের পূর্ণ সামরিক সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

ফরিদপুরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ, ৩ দিন পর খাদে মিলল কলেজছাত্রের মরদেহ

ইউক্রেনে দ্রুত নির্বাচনের দাবি বরখাস্ত হওয়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফেদোরভের

আপডেট সময় ১১:৪৭:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলার মাঝেই ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও নির্বাচন ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বরখাস্তের শিকার হওয়া ৩৫ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদের এই পদক্ষেপকে ২০২২ সালে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর থেকে জেলেনস্কির নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ইউটিউবে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ফেদোরভ বলেন, গণতন্ত্রকে রাশিয়ার হাতে জিম্মি করে রাখা যায় না। যুদ্ধের মধ্যেও ইউক্রেন একটি স্বাধীন ও ইউরোপীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকার জন্যই লড়াই করছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে দেশটিতে সামরিক আইন জারি রয়েছে। ফলে সংবিধান অনুযায়ী সমস্ত ধরনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।

ডিজিটাল রূপান্তর এবং প্রযুক্তিভিত্তিক সামরিক সংস্কারের জন্য পরিচিত ফেদোরভকে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় গত জুলাইয়ে আচমকা বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। মূলত সেনাপ্রধান ওলেক্সান্ডার সিরস্কির সঙ্গে তীব্র মতবিরোধের জেরেই তাকে পদত্যাগ করতে হয় বলে ধারণা করা হয়। এই ঘটনা ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক গণবিক্ষোভের জন্ম দেয়, যার মুখে পড়ে পরবর্তীতে সেনাপ্রধান সিরস্কিকেও তার পদ থেকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হন জেলেনস্কি।

ভিডিও বার্তায় ফেদোরভ তার নিজের ভবিষ্যতের কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনার ইঙ্গিত না দিলেও জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেনে বর্তমানে শাসনব্যবস্থার একটি পদ্ধতিগত সংক চলছে এবং দেশটিকে পরিবর্তনকে ভয় পাওয়া বন্ধ করতে হবে।

সেই সঙ্গে প্রশাসনের ভেতরের দুর্নীতি ইউক্রেনের যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।ফেদোরভ বলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মধ্যেও একটি আইনি, নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ফেদোরভ বরখাস্ত হওয়ার পর জেলেনস্কি পেশাদার গোয়েন্দা কর্মকর্তা ইয়েভজেনি খমারাকে ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তবে ফেদোরভকে সরকারের অন্যান্য পদের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, তিনি কেবল প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবেই সরকারে ফিরতে ইচ্ছুক। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে সংক্ষিপ্ত মেয়াদের দায়িত্বে ফেদোরভ ইউক্রেনীয় বাহিনীতে ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে বিপ্লব আনেন।

তিনি ‘আর্মি অফ ড্রোনস’ গঠন করেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে উন্নত কর্মক্ষমতার জন্য সেনাদলগুলোকে বিশেষ পয়েন্ট ও ক্রেডিট দেওয়ার মতো ‘গেমফিকেশন’ পদ্ধতি চালু করেন। এ ছাড়া প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সঙ্গে যোগাযোগ করে রুশ বাহিনীকে স্পেসএক্সের ‘স্টারলিঙ্ক’ স্যাটেলাইট পরিষেবা ব্যবহারে বাধা দেন ফেদোরভ, যা রণক্ষেত্রে রাশিয়ার অগ্রযাত্রায় বড় ধরণের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছিল।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার অভ্যন্তরে ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি দেশটির রাজধানী মস্কোসহ বিভিন্ন তেলের শোধনাগারে প্রায় ৬০০টি ড্রোন হামলা চালানো হয়, যাকে মস্কো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে মারাত্মক ড্রোন হামলা বলে অভিহিত করা হয়েছে। এই হামলায় রাশিয়ায় সাধারণ নাগরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে, ইউক্রেনেও রুশ বাহিনীর ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। তবে সংঘাত চরম আকার ধারণ করলেও মিত্রদেশ যুক্তরাজ্য ইউক্রেনের প্রতি তাদের পূর্ণ সামরিক সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ