ঢাকা ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুমিল্লায় প্রাডো গাড়িতে ৩ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ, আটক ২ Logo গণ-আকাঙ্ক্ষা পূরণে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাঠামোগত রূপান্তরের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর Logo ছাত্রদল নেতাকে থাপ্পড়, বোর্ড সচিবের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ Logo ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হামাস নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের জামাতা কুশনারের বৈঠক Logo যৌতুক না পেয়ে গরম পানি ঢেলে স্ত্রীকে হত্যা, ২০ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড Logo রাজশাহীতে ট্রাকচাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত Logo দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে অটোরিকশার সজোর ধাক্কা, নিহত ১ Logo আয়ারল্যান্ডের ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ কিশোরের প্রাণহানি Logo ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের ৪ শতাংশ কৃষি খাতে বাধ্যতামূলক করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক Logo বিসিএস প্রশ্ন ফাঁস মামলায় জামিন নিতে এসে কারাগারে পিএসসি কর্মকর্তা

এক সিনেমার পারিশ্রমিকেই পাকিস্তানে বাড়ি কিনেছিলেন শবনম

অভিনয়, সৌন্দর্য ও জনপ্রিয়তায় উপমহাদেশের অন্যতম স্মরণীয় তারকা হয়ে উঠেছিলেন অভিনেত্রী শবনম। ঢাকার চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তৎকালীন পাকিস্তানের সিনেমাতেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি এই অভিনেত্রী।

আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) এই নন্দিত অভিনেত্রীর জন্মদিন। ১৯৪৬ সালে জন্ম নেওয়া শবনম পা রাখলেন ৮১তম বছরে।

ষাটের দশক থেকে নব্বইয়ের দশকের শেষ ভাগ পর্যন্ত নিয়মিত অভিনয় করেছেন শবনম। তার অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘আম্মাজান’।

মুক্তির পর সিনেমাটির জনপ্রিয়তার সুবাদে দর্শকের কাছে শবনমও ‘আম্মাজান’ নামেই আরো বেশি পরিচিতি পান।

ঢাকার চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তানের সিনেমাতেও ছিল তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা। ১৯৬১ সালে ‘হারানো দিন’ সিনেমার মাধ্যমে দর্শকের নজরে আসেন শবনম। পরের বছর উর্দু ভাষার সিনেমা ‘চান্দা’য় অভিনয় করে তৎকালীন পাকিস্তানে তারকাখ্যাতি অর্জন করেন তিনি।

পাকিস্তানে ক্যারিয়ারের শুরুর সময়ের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে এক সাক্ষাৎকারে শবনম জানিয়েছিলেন, ১৯৭০ সালে ঢাকা ছেড়ে করাচি, এরপর লাহোরে পাড়ি জমান তিনি। এরপর নিয়মিতভাবে পাকিস্তানের চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। সেখানকার প্রথম দিকের একটি সিনেমার পারিশ্রমিক দিয়ে তিনি যে কাজটি করেছিলেন, সেটিও ছিল বেশ চমকপ্রদ।

পাকিস্তানে প্রথম সিনেমার পারিশ্রমিক কত ছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে শবনম বলেছিলেন, ‘সম্মানি কত ছিল তার সঠিক হিসাবটা মনে নেই। তবে এটুকু মনে আছে, ওই সম্মানি দিয়ে আমি ছোটখাটো একটা বাড়ি কিনেছিলাম।

দুই বেডরুমের বাড়ি, করাচিতে। মা-বাবা ও ছেলে রনি তখন ঢাকায় ছিল। বাড়ি কেনার পর ছেলে এবং মা-বাবাকেও নিয়ে গেলাম।

অর্থাৎ পাকিস্তানের চলচ্চিত্রে প্রথম দিকের একটি সিনেমার পারিশ্রমিক দিয়েই করাচিতে দুই বেডরুমের বাড়ি কিনেছিলেন শবনম। পরে সেই বাড়িতে মা-বাবা ও ছেলে রনিকে নিয়ে বসবাসও শুরু করেন তিনি।

তবে ঢাকার চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের পারিশ্রমিক ছিল একেবারেই ভিন্ন। ‘হারানো দিন’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য শবনম পেয়েছিলেন ১ হাজার ২০০ টাকা। সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, সেই পুরো অর্থই মায়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। অবশ্য ‘এ দেশ তোমার আমার’ ও ‘রাজধানীর বুকে’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য কোনো পারিশ্রমিক পাননি তিনি।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বাংলা ও উর্দু—দুই ভাষার চলচ্চিত্রেই নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন শবনম। মেধা, সৌন্দর্য ও অভিনয়গুণে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন দর্শকের হৃদয়ে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

কুমিল্লায় প্রাডো গাড়িতে ৩ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ, আটক ২

এক সিনেমার পারিশ্রমিকেই পাকিস্তানে বাড়ি কিনেছিলেন শবনম

আপডেট সময় ০৪:২৭:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

অভিনয়, সৌন্দর্য ও জনপ্রিয়তায় উপমহাদেশের অন্যতম স্মরণীয় তারকা হয়ে উঠেছিলেন অভিনেত্রী শবনম। ঢাকার চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তৎকালীন পাকিস্তানের সিনেমাতেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি এই অভিনেত্রী।

আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) এই নন্দিত অভিনেত্রীর জন্মদিন। ১৯৪৬ সালে জন্ম নেওয়া শবনম পা রাখলেন ৮১তম বছরে।

ষাটের দশক থেকে নব্বইয়ের দশকের শেষ ভাগ পর্যন্ত নিয়মিত অভিনয় করেছেন শবনম। তার অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘আম্মাজান’।

মুক্তির পর সিনেমাটির জনপ্রিয়তার সুবাদে দর্শকের কাছে শবনমও ‘আম্মাজান’ নামেই আরো বেশি পরিচিতি পান।

ঢাকার চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তানের সিনেমাতেও ছিল তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা। ১৯৬১ সালে ‘হারানো দিন’ সিনেমার মাধ্যমে দর্শকের নজরে আসেন শবনম। পরের বছর উর্দু ভাষার সিনেমা ‘চান্দা’য় অভিনয় করে তৎকালীন পাকিস্তানে তারকাখ্যাতি অর্জন করেন তিনি।

পাকিস্তানে ক্যারিয়ারের শুরুর সময়ের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে এক সাক্ষাৎকারে শবনম জানিয়েছিলেন, ১৯৭০ সালে ঢাকা ছেড়ে করাচি, এরপর লাহোরে পাড়ি জমান তিনি। এরপর নিয়মিতভাবে পাকিস্তানের চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। সেখানকার প্রথম দিকের একটি সিনেমার পারিশ্রমিক দিয়ে তিনি যে কাজটি করেছিলেন, সেটিও ছিল বেশ চমকপ্রদ।

পাকিস্তানে প্রথম সিনেমার পারিশ্রমিক কত ছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে শবনম বলেছিলেন, ‘সম্মানি কত ছিল তার সঠিক হিসাবটা মনে নেই। তবে এটুকু মনে আছে, ওই সম্মানি দিয়ে আমি ছোটখাটো একটা বাড়ি কিনেছিলাম।

দুই বেডরুমের বাড়ি, করাচিতে। মা-বাবা ও ছেলে রনি তখন ঢাকায় ছিল। বাড়ি কেনার পর ছেলে এবং মা-বাবাকেও নিয়ে গেলাম।

অর্থাৎ পাকিস্তানের চলচ্চিত্রে প্রথম দিকের একটি সিনেমার পারিশ্রমিক দিয়েই করাচিতে দুই বেডরুমের বাড়ি কিনেছিলেন শবনম। পরে সেই বাড়িতে মা-বাবা ও ছেলে রনিকে নিয়ে বসবাসও শুরু করেন তিনি।

তবে ঢাকার চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের পারিশ্রমিক ছিল একেবারেই ভিন্ন। ‘হারানো দিন’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য শবনম পেয়েছিলেন ১ হাজার ২০০ টাকা। সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, সেই পুরো অর্থই মায়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। অবশ্য ‘এ দেশ তোমার আমার’ ও ‘রাজধানীর বুকে’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য কোনো পারিশ্রমিক পাননি তিনি।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বাংলা ও উর্দু—দুই ভাষার চলচ্চিত্রেই নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন শবনম। মেধা, সৌন্দর্য ও অভিনয়গুণে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন দর্শকের হৃদয়ে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ