ঢাকা ০১:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

সকালে হাঁটার উপকারিতা জেনে নিন

সুস্থ থাকতে নিয়মিত হাঁটার বিকল্প নেই। শরীরচর্চার সহজ ও নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে হাঁটা সব বয়সী মানুষের জন্যই উপকারী। বিশেষ করে সকালে নির্মল পরিবেশে কিছুটা সময় হাঁটলে শরীর ও মন দুটোই সতেজ থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট মাঝারি গতিতে হাঁটার অভ্যাস করা ভালো। চাইলে একটানা ৩০ মিনিট হাঁটার পাশাপাশি ১০ মিনিট করে তিনবারও হাঁটা যেতে পারে। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস না থাকলে শুরুতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটুন। পরে ধীরে ধীরে সময় বাড়িয়ে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটে নেওয়া যায়।

হৃদ্‌যন্ত্র ভালো রাখে

নিয়মিত হাঁটা হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে

দ্রুত বা মাঝারি গতিতে হাঁটলে শরীরে ক্যালরি খরচ হয়। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। হাঁটাচলা, স্ট্রেচ একসারসাইজ এইসব নিয়মিত অভ্যাস করলে আপনার শরীরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় থাকে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

যারা ডায়াবেটিসের রোগী নিয়মিত হাঁটাচলা তাঁদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা সঠিক থাকে। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাও কমে যায়। তাই দিনে অন্তত ৩০ মিনিট নিয়ম করে হাঁটুন। এর ফলে নিয়ন্ত্রণে থাকবে আপনার ব্লাড সুগার লেভেল।

মানসিক চাপ কমায়

জীবনের একঘেয়েমি দূর করতে রোজ সকালে উঠে একটু হাঁটাহাঁটি করুন। সকালে হাঁটাহাঁটি মন ভালো রাখতে এবং মানসিক চাপ ও অস্থিরতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

অনিয়মিত ঘুমের সমস্যার সমাধান

বেশিরভাগেরই অভ্যাস রাতে শুয়ে ফোন ঘাটা। এর জেরে উড়ে গেছে ঘুম। কিন্তু যদি আপনার শরীর অ্যাক্টিভ থাকে, অর্থাৎ সকালবেলা উঠে হাঁটাচলা করেন, তাহলে ন্যাচারাল স্লিপ হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণ সঠিক ভাবে হবে। তার ফলে সহজে ঘুমিয়ে পড়তে পারবেন আপনি। অনিদ্রার সমস্যায় ভুগতে হবে না। রাতের ঘুম ঠিকভাবে না হলে কিন্তু সারাটা দিন নষ্ট। তাই সকালে উঠে হাঁটুন।

কীভাবে হাঁটবেন

হাঁটার শুরুতে কয়েক মিনিট ধীরে হাঁটুন। এরপর গতি কিছুটা বাড়িয়ে এমনভাবে হাঁটুন, যাতে শ্বাস-প্রশ্বাস কিছুটা দ্রুত হয়, তবে কথা বলতে খুব বেশি কষ্ট না হয়। শেষে আবার ধীরে হাঁটে শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় আনুন।

তবে যাদের দীর্ঘদিন ব্যায়ামের অভ্যাস নেই, তারা হঠাৎ বেশি সময় বা খুব দ্রুত হাঁটা শুরু না করাই ভালো। বয়স, শারীরিক সক্ষমতা ও বিদ্যমান স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর ভিত্তি করে হাঁটার সময় ও গতি ঠিক করা উচিত।

সূত্র : আনন্দবাজার

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

শাপলা চত্বর হত্যা মামলার পরবর্তী শুনানি ৩ সেপ্টেম্বর

সকালে হাঁটার উপকারিতা জেনে নিন

আপডেট সময় ১২:৪২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

সুস্থ থাকতে নিয়মিত হাঁটার বিকল্প নেই। শরীরচর্চার সহজ ও নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে হাঁটা সব বয়সী মানুষের জন্যই উপকারী। বিশেষ করে সকালে নির্মল পরিবেশে কিছুটা সময় হাঁটলে শরীর ও মন দুটোই সতেজ থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট মাঝারি গতিতে হাঁটার অভ্যাস করা ভালো। চাইলে একটানা ৩০ মিনিট হাঁটার পাশাপাশি ১০ মিনিট করে তিনবারও হাঁটা যেতে পারে। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস না থাকলে শুরুতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটুন। পরে ধীরে ধীরে সময় বাড়িয়ে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটে নেওয়া যায়।

হৃদ্‌যন্ত্র ভালো রাখে

নিয়মিত হাঁটা হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে

দ্রুত বা মাঝারি গতিতে হাঁটলে শরীরে ক্যালরি খরচ হয়। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। হাঁটাচলা, স্ট্রেচ একসারসাইজ এইসব নিয়মিত অভ্যাস করলে আপনার শরীরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় থাকে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

যারা ডায়াবেটিসের রোগী নিয়মিত হাঁটাচলা তাঁদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা সঠিক থাকে। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাও কমে যায়। তাই দিনে অন্তত ৩০ মিনিট নিয়ম করে হাঁটুন। এর ফলে নিয়ন্ত্রণে থাকবে আপনার ব্লাড সুগার লেভেল।

মানসিক চাপ কমায়

জীবনের একঘেয়েমি দূর করতে রোজ সকালে উঠে একটু হাঁটাহাঁটি করুন। সকালে হাঁটাহাঁটি মন ভালো রাখতে এবং মানসিক চাপ ও অস্থিরতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

অনিয়মিত ঘুমের সমস্যার সমাধান

বেশিরভাগেরই অভ্যাস রাতে শুয়ে ফোন ঘাটা। এর জেরে উড়ে গেছে ঘুম। কিন্তু যদি আপনার শরীর অ্যাক্টিভ থাকে, অর্থাৎ সকালবেলা উঠে হাঁটাচলা করেন, তাহলে ন্যাচারাল স্লিপ হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণ সঠিক ভাবে হবে। তার ফলে সহজে ঘুমিয়ে পড়তে পারবেন আপনি। অনিদ্রার সমস্যায় ভুগতে হবে না। রাতের ঘুম ঠিকভাবে না হলে কিন্তু সারাটা দিন নষ্ট। তাই সকালে উঠে হাঁটুন।

কীভাবে হাঁটবেন

হাঁটার শুরুতে কয়েক মিনিট ধীরে হাঁটুন। এরপর গতি কিছুটা বাড়িয়ে এমনভাবে হাঁটুন, যাতে শ্বাস-প্রশ্বাস কিছুটা দ্রুত হয়, তবে কথা বলতে খুব বেশি কষ্ট না হয়। শেষে আবার ধীরে হাঁটে শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় আনুন।

তবে যাদের দীর্ঘদিন ব্যায়ামের অভ্যাস নেই, তারা হঠাৎ বেশি সময় বা খুব দ্রুত হাঁটা শুরু না করাই ভালো। বয়স, শারীরিক সক্ষমতা ও বিদ্যমান স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর ভিত্তি করে হাঁটার সময় ও গতি ঠিক করা উচিত।

সূত্র : আনন্দবাজার

বাংলা৭১নিউজ/জেএস