ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কোনো প্রভুত্ব বা আনুগত্যের ভিত্তিতে নয়, বরং সমমর্যাদা, সার্বভৌমত্ব ও পারস্পরিক জাতীয় স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
শনিবার (১৫ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল স্পষ্ট জানান, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কোনো প্রকার ধোঁয়াশা থাকার অবকাশ নেই। ভারত নিকটতম প্রতিবেশী উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি আমাদের দেশের স্বার্থ ও অধিকারও নিশ্চিত করা জরুরি।”
তিনি অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন সমস্যা, সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং দ্বিপক্ষীয় অন্যান্য জটিল ইস্যুগুলোর সম্মানজনক ও টেকসই সমাধানের জোর দাবি জানান। এসব সমস্যার যুক্তিসঙ্গত নিষ্পত্তির মাধ্যমেই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের বার্তা দিয়ে আলাল বলেন, “আমাদের একটাই মূল নীতি—‘সবার আগে বাংলাদে’। দেশের মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দিয়েই বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের সাথে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।”
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে অহেতুক জল্পনা-কল্পনা না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “তিনি (তারেক রহমান) এখন রাষ্ট্রীয় প্রোটোকলের আওতাধীন। দুই দেশের পারস্পরিক সময় ও সুযোগের সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় বিষয়াবলি সুসংহত হলেই এই সফর বাস্তবায়িত হতে পারে।”
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করে আলাল বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এক অসমাপ্ত ইতিহাসের মূল চালিকাশক্তি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে রাজনৈতিক দর্শনের সূচনা করেছিলেন, খালেদা জিয়া তা মেঠোপথের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন। আর আজ সেই দায়িত্ব ও ইতিহাসের মশাল তিনি তারেক রহমানের হাতে অর্পণ করেছেন।”
তিনি আরও যোগ করেন, “খালেদা জিয়ার মাঝে নেতৃত্ব ও মাতৃত্বের এক বিরল সমন্বয় ঘটেছে। সন্তানদের ওপর চরম নির্যাতন ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের লড়াই থেকে একচুলও বিচ্যুত হননি। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে তাঁর দীর্ঘ লড়াই এ দেশের ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।”
বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এম জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা, সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা নিশীতা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাছের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ এবং জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সহসভাপতি জামাল উদ্দিন খান মিলনসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি


























