ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান মির্জা ফখরুলের Logo মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ‘মিথ্যাচারের’ ওপর নির্ভরশীল: বাঘেই Logo শিক্ষকদের অশ্রু মুছতে ২১০০ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী Logo স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে জেন-জি’দের বিশেষ শুভেচ্ছা জানালেন বিজয় Logo গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার প্রতিবাদে সিপিবির বিক্ষোভ Logo উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংলাপের প্রস্তাব লি জে মিয়ংয়ের Logo মাদরাসায় ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৫ শিক্ষার্থী Logo মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশজুড়ে ৫ দিন ভারী বৃষ্টির আভাস Logo ৫৮২ টনের ম্যাগনেট দিয়ে ‘কৃত্রিম সূর্য’ তৈরী করছে চীন Logo রাস্তা বন্ধ করে এনসিপির সমাবেশ, ক্ষেপে গেলেন পথচারী

ফটিকছড়ির ১৮ চা বাগানে শ্রমিক আন্দোলন, ভরা মৌসুমে উৎপাদন ব্যাহতের শঙ্কা

মজুরি বৃদ্ধি, শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন ও ভূমি মালিকানার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ১৮টি চা বাগানের শ্রমিকরা। গত কয়েক দিন ধরে বাগানে বাগানে কর্মবিরতি, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ চলছে। চায়ের ভরা উৎপাদন মৌসুমে এই আন্দোলন দীর্ঘায়িত হলে চা শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন বাগান মালিক ও ব্যবস্থাপকরা। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বিপ্লব মাদ্রাজি পাশী ও সাধারণ সম্পাদক দীপংকর ঘোষ চার দফা দাবি তুলে ধরে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দাবিগুলো হলো—চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকায় উন্নীত করা, শ্রমিক স্বার্থবিরোধী গেজেট-২০২৩ বাতিল করা, চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং বাগানে বসবাসরত শ্রমিকদের ভূমির স্থায়ী মালিকানা নিশ্চিত করা। এর আগে ২০২৩ সালের গেজেটের আলোকে ৫ শতাংশ বার্ষিক বৃদ্ধির মাধ্যমে দৈনিক নগদ মজুরি ১৯৬ টাকা নির্ধারণ করা হলে তাকে ‘অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করে ফেডারেশন।

এই কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকেই ফটিকছড়ির কর্ণফুলি, নেপচুন, রামগড়, উদালিয়া, নিউ দাঁতমারাসহ বিভিন্ন বাগানে শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভে নামেন। এসব কর্মসূচিতে নারী-পুরুষ সব শ্রমিক এবং পঞ্চায়েত ও ভ্যালি পর্যায়ের নেতারা অংশ নিচ্ছেন। ফটিকছড়িতে ছোট, বড় ও মাঝারি মিলিয়ে মোট ১৮টি চা বাগান রয়েছে। এসব বাগানে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার শ্রমিক কর্মরত।

চট্টগ্রাম ভ্যালির সভাপতি নিরঞ্জন নাথ মন্টু বলেন, ‘চা শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। প্রায় দুই শতাব্দী ধরে বাগানে বসবাস করলেও অধিকাংশ শ্রমিকের নিজস্ব জমির মালিকানা নেই। বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে ১৮৭ টাকা দৈনিক মজুরি কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ মজুরিতে একটি পরিবারের ন্যূনতম চাহিদাও মেটানো কঠিন। তাই দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করা এখন সময়ের দাবি।’ তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন হচ্ছে না। শ্রম অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপমুক্ত পরিবেশে সংগঠনের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হবে। দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

নেপচুন চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি মৃদুল কান্তি কর্মকার বলেন, ‘বর্তমান বাজারে চাল, ডাল, তেলসহ সবকিছুর দাম আকাশছোঁয়া। অথচ আমাদের মজুরি দিয়ে একদিনের সংসারও চালানো অসম্ভব। সন্তানদের দু’বেলা খাওয়ানো ও পড়াশোনার খরচ চালানো এখন সাধ্যের বাইরে।’ একই বাগানের শ্রমিক ও সারা দেশে একাধিকবার শ্রেষ্ঠ শ্রমিক নির্বাচিত জেসমিন আক্তার বলেন, ‘মালিকপক্ষ আমাদের শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন করছে না। দেশসেরা শ্রমিক হয়েও আজ বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকারের জন্য আন্দোলনে আসতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই নামমাত্র মজুরি দিয়ে বর্তমান বাজারে টিকে থাকা সম্ভব নয়।’

অন্যদিকে, বাগান ব্যবস্থাপকরা জানান, মার্চের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চায়ের উৎপাদন মৌসুম চলে। এর মধ্যে জুন, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর এই চার মাস ভরা মৌসুম। ঠিক এই সময়ে শ্রমিক আন্দোলন শুরু হওয়ায় চা উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ চা সংসদের সাবেক চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ বাগান ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, টানা দুই বছর নিম্নমুখী থাকার পর দেশের চা উৎপাদন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৩ কোটি ৬ লাখ ৩১ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬ শতাংশ বেশি। চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সারা দেশে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ছয় মাসে উৎপাদন হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার ২৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ। গত বছরের জুন পর্যন্ত উৎপাদন ছিল ২ কোটি ২৪ লাখ ১৯ হাজার কেজি। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অনুকূল আবহাওয়া ও বাগানে শান্ত পরিবেশ থাকায় এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। তবে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের দ্রুত সমাধান না হলে সবকিছুই ভেস্তে যাবে এবং বাগানগুলোকে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

ভরা মৌসুমে এই অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ফটিকছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গত বুধবার তাঁর কার্যালয়ে ১৮টি বাগানের ব্যবস্থাপকদের নিয়ে জরুরি সভা করেছেন। রামগড় চা বাগানের ব্যবস্থাপক শওকত বাহার সোহাগ জানান, বাগানের অস্থির পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের সঙ্গে সহনশীল ও মানবিক আচরণ করার এবং বাইরের কোনো পক্ষ যাতে গুজব ছড়িয়ে শ্রমিকদের বিভ্রান্ত বা উসকে দিতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ইউএনও।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি যেন আরও খারাপ না হয় এবং বাগানগুলোয় শান্তি বজায় থাকে, সে জন্যই এ বৈঠক করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আগামী মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ১৮টি বাগানের শ্রমিক পঞ্চায়েত নেতাদের নিয়ে আলাদা বৈঠক করব। তাঁদের সমস্যা ও দাবিদাওয়ার কথা শুনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

ফটিকছড়ির ১৮ চা বাগানে শ্রমিক আন্দোলন, ভরা মৌসুমে উৎপাদন ব্যাহতের শঙ্কা

আপডেট সময় ১২:২০:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

মজুরি বৃদ্ধি, শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন ও ভূমি মালিকানার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ১৮টি চা বাগানের শ্রমিকরা। গত কয়েক দিন ধরে বাগানে বাগানে কর্মবিরতি, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ চলছে। চায়ের ভরা উৎপাদন মৌসুমে এই আন্দোলন দীর্ঘায়িত হলে চা শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন বাগান মালিক ও ব্যবস্থাপকরা। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বিপ্লব মাদ্রাজি পাশী ও সাধারণ সম্পাদক দীপংকর ঘোষ চার দফা দাবি তুলে ধরে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দাবিগুলো হলো—চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকায় উন্নীত করা, শ্রমিক স্বার্থবিরোধী গেজেট-২০২৩ বাতিল করা, চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং বাগানে বসবাসরত শ্রমিকদের ভূমির স্থায়ী মালিকানা নিশ্চিত করা। এর আগে ২০২৩ সালের গেজেটের আলোকে ৫ শতাংশ বার্ষিক বৃদ্ধির মাধ্যমে দৈনিক নগদ মজুরি ১৯৬ টাকা নির্ধারণ করা হলে তাকে ‘অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করে ফেডারেশন।

এই কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকেই ফটিকছড়ির কর্ণফুলি, নেপচুন, রামগড়, উদালিয়া, নিউ দাঁতমারাসহ বিভিন্ন বাগানে শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভে নামেন। এসব কর্মসূচিতে নারী-পুরুষ সব শ্রমিক এবং পঞ্চায়েত ও ভ্যালি পর্যায়ের নেতারা অংশ নিচ্ছেন। ফটিকছড়িতে ছোট, বড় ও মাঝারি মিলিয়ে মোট ১৮টি চা বাগান রয়েছে। এসব বাগানে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার শ্রমিক কর্মরত।

চট্টগ্রাম ভ্যালির সভাপতি নিরঞ্জন নাথ মন্টু বলেন, ‘চা শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। প্রায় দুই শতাব্দী ধরে বাগানে বসবাস করলেও অধিকাংশ শ্রমিকের নিজস্ব জমির মালিকানা নেই। বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে ১৮৭ টাকা দৈনিক মজুরি কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ মজুরিতে একটি পরিবারের ন্যূনতম চাহিদাও মেটানো কঠিন। তাই দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করা এখন সময়ের দাবি।’ তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন হচ্ছে না। শ্রম অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপমুক্ত পরিবেশে সংগঠনের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হবে। দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

নেপচুন চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি মৃদুল কান্তি কর্মকার বলেন, ‘বর্তমান বাজারে চাল, ডাল, তেলসহ সবকিছুর দাম আকাশছোঁয়া। অথচ আমাদের মজুরি দিয়ে একদিনের সংসারও চালানো অসম্ভব। সন্তানদের দু’বেলা খাওয়ানো ও পড়াশোনার খরচ চালানো এখন সাধ্যের বাইরে।’ একই বাগানের শ্রমিক ও সারা দেশে একাধিকবার শ্রেষ্ঠ শ্রমিক নির্বাচিত জেসমিন আক্তার বলেন, ‘মালিকপক্ষ আমাদের শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন করছে না। দেশসেরা শ্রমিক হয়েও আজ বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকারের জন্য আন্দোলনে আসতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই নামমাত্র মজুরি দিয়ে বর্তমান বাজারে টিকে থাকা সম্ভব নয়।’

অন্যদিকে, বাগান ব্যবস্থাপকরা জানান, মার্চের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চায়ের উৎপাদন মৌসুম চলে। এর মধ্যে জুন, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর এই চার মাস ভরা মৌসুম। ঠিক এই সময়ে শ্রমিক আন্দোলন শুরু হওয়ায় চা উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ চা সংসদের সাবেক চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ বাগান ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, টানা দুই বছর নিম্নমুখী থাকার পর দেশের চা উৎপাদন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৩ কোটি ৬ লাখ ৩১ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬ শতাংশ বেশি। চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সারা দেশে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ছয় মাসে উৎপাদন হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার ২৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ। গত বছরের জুন পর্যন্ত উৎপাদন ছিল ২ কোটি ২৪ লাখ ১৯ হাজার কেজি। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অনুকূল আবহাওয়া ও বাগানে শান্ত পরিবেশ থাকায় এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। তবে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের দ্রুত সমাধান না হলে সবকিছুই ভেস্তে যাবে এবং বাগানগুলোকে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

ভরা মৌসুমে এই অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ফটিকছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গত বুধবার তাঁর কার্যালয়ে ১৮টি বাগানের ব্যবস্থাপকদের নিয়ে জরুরি সভা করেছেন। রামগড় চা বাগানের ব্যবস্থাপক শওকত বাহার সোহাগ জানান, বাগানের অস্থির পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের সঙ্গে সহনশীল ও মানবিক আচরণ করার এবং বাইরের কোনো পক্ষ যাতে গুজব ছড়িয়ে শ্রমিকদের বিভ্রান্ত বা উসকে দিতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ইউএনও।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি যেন আরও খারাপ না হয় এবং বাগানগুলোয় শান্তি বজায় থাকে, সে জন্যই এ বৈঠক করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আগামী মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ১৮টি বাগানের শ্রমিক পঞ্চায়েত নেতাদের নিয়ে আলাদা বৈঠক করব। তাঁদের সমস্যা ও দাবিদাওয়ার কথা শুনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ