ঢাকা ০২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান মির্জা ফখরুলের Logo মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ‘মিথ্যাচারের’ ওপর নির্ভরশীল: বাঘেই Logo শিক্ষকদের অশ্রু মুছতে ২১০০ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী Logo স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে জেন-জি’দের বিশেষ শুভেচ্ছা জানালেন বিজয় Logo গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার প্রতিবাদে সিপিবির বিক্ষোভ Logo উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংলাপের প্রস্তাব লি জে মিয়ংয়ের Logo মাদরাসায় ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৫ শিক্ষার্থী Logo মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশজুড়ে ৫ দিন ভারী বৃষ্টির আভাস Logo ৫৮২ টনের ম্যাগনেট দিয়ে ‘কৃত্রিম সূর্য’ তৈরী করছে চীন Logo রাস্তা বন্ধ করে এনসিপির সমাবেশ, ক্ষেপে গেলেন পথচারী

রোপা আমন চাষে খরচ বৃদ্ধিতে দুশ্চিন্তায় কৃষক

উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ধান চাষ ও পরিচর্যা করতে গিয়ে আর্থিক সংকট ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে জয়পুরহাটের প্রান্তিক কৃষকদের।

তাদের দাবি, লিটারে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বেড়ে যাওয়ায় এবার পাওয়ার টিলার মালিকরা গত মৌসুমের চেয়ে প্রতি বিঘায় ৩০০ টাকা চাষ খরচ বেশি নিচ্ছে। এছাড়া সার, বীজ, কীটনাশক ও কৃষি শ্রমিকের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ বেড়েছে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা। অথচ বাজারে ধানের দাম কম। এ অবস্থায় সরকারের কাছে ধানের যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করার দাবি তাদের।

সরেজমিনে জানা যায়, গত বছরের চেয়ে বিঘা প্রতি হাল চাষে খরচ বেড়েছে ৩০০ টাকা, রোপণ করতে কৃষি শ্রমিকরা বেশি নিচ্ছেন ৫০০ টাকা, সংকটের অজুহাতে খুচরা বাজারে সারের দাম বস্তা প্রতি বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, কীটনাশকের দাম বেড়েছে ৫০০ টাকা। আবার বীজ ও সেচসহ অন্যান্য খরচতো আছেই। সবমিলে এবার এক বিঘা জমিতে আমন ধান উৎপাদনে খরচ পড়ছে জমির দামসহ ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা। অথচ গত বছর আমন চাষে খরচ হয়েছে সর্বোচ্চ ২১ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে হয়তো এবার বিঘা প্রতি ১৮ থেকে সর্বোচ্চ ২০ মণ ধান উৎপাদন হতে পারে। কিন্তু খরচ অনুপাতে ধানের নায্য দাম যদি না পাওয়া যায়, তাহলে গত আলু ও বোরো মৌসুমের মতই আমনেও লোকসান গুনতে হবে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ৭০ হাজার ৯৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখান থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার ৯৫৭ মে.টন ধান উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৭০ ভাগ জমিতে আমন চাষ সম্পন্ন হয়েছে।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক দুলাল হোসেন বলেন, ফসল চাষ করে লাভ হচ্ছে না। আলুতে লোকসানের কারণে ঋণ করে বোরো চাষ করেছি। কিন্তু বাজারে ধান বিক্রি করতে গিয়ে দাম পাইনি। বিঘাপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। সব জিনিষের দাম বাড়লেও ধানের দাম নাই। ডিজেলের দাম বেশি হওয়ায় এবার চাষ খরচই নিচ্ছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। আগে ছিল ১ হাজার ৩০০ টাকা। আবার ৮০০ টাকার নিচে কোন শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। সারের দামও বেশি। এজন্য বিঘাপ্রতি এবার চার-পাঁচ হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। অথচ ধানের দাম কম।

ক্ষেতলাল উপজেলার তারাকুল গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, ফসল উৎপাদন করে দাম না পেয়ে দিন দিন আমরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছি। আমন ধানেও যদি কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়া যায়, তাহলে আমরা চলবো কিভাবে। একই চিত্র অন্যান্য কৃষকদেরও।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ.কে.এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, কৃষকরা যেন লাভবান হতে পারেন সেজন্য ফলন বাড়াতে সার্বক্ষণিক তাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পুরো মৌসুম চলছে। জেলায় এ পর্যন্ত প্রায় ৬৫ ভাগ জমিতে আমন চাষ সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে আশা করছি, এবার আমন ধান চাষ করে কৃষকরা লাভবান হবেন।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

রোপা আমন চাষে খরচ বৃদ্ধিতে দুশ্চিন্তায় কৃষক

আপডেট সময় ১১:০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ধান চাষ ও পরিচর্যা করতে গিয়ে আর্থিক সংকট ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে জয়পুরহাটের প্রান্তিক কৃষকদের।

তাদের দাবি, লিটারে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বেড়ে যাওয়ায় এবার পাওয়ার টিলার মালিকরা গত মৌসুমের চেয়ে প্রতি বিঘায় ৩০০ টাকা চাষ খরচ বেশি নিচ্ছে। এছাড়া সার, বীজ, কীটনাশক ও কৃষি শ্রমিকের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ বেড়েছে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা। অথচ বাজারে ধানের দাম কম। এ অবস্থায় সরকারের কাছে ধানের যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করার দাবি তাদের।

সরেজমিনে জানা যায়, গত বছরের চেয়ে বিঘা প্রতি হাল চাষে খরচ বেড়েছে ৩০০ টাকা, রোপণ করতে কৃষি শ্রমিকরা বেশি নিচ্ছেন ৫০০ টাকা, সংকটের অজুহাতে খুচরা বাজারে সারের দাম বস্তা প্রতি বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, কীটনাশকের দাম বেড়েছে ৫০০ টাকা। আবার বীজ ও সেচসহ অন্যান্য খরচতো আছেই। সবমিলে এবার এক বিঘা জমিতে আমন ধান উৎপাদনে খরচ পড়ছে জমির দামসহ ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা। অথচ গত বছর আমন চাষে খরচ হয়েছে সর্বোচ্চ ২১ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে হয়তো এবার বিঘা প্রতি ১৮ থেকে সর্বোচ্চ ২০ মণ ধান উৎপাদন হতে পারে। কিন্তু খরচ অনুপাতে ধানের নায্য দাম যদি না পাওয়া যায়, তাহলে গত আলু ও বোরো মৌসুমের মতই আমনেও লোকসান গুনতে হবে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ৭০ হাজার ৯৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখান থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার ৯৫৭ মে.টন ধান উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৭০ ভাগ জমিতে আমন চাষ সম্পন্ন হয়েছে।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক দুলাল হোসেন বলেন, ফসল চাষ করে লাভ হচ্ছে না। আলুতে লোকসানের কারণে ঋণ করে বোরো চাষ করেছি। কিন্তু বাজারে ধান বিক্রি করতে গিয়ে দাম পাইনি। বিঘাপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। সব জিনিষের দাম বাড়লেও ধানের দাম নাই। ডিজেলের দাম বেশি হওয়ায় এবার চাষ খরচই নিচ্ছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। আগে ছিল ১ হাজার ৩০০ টাকা। আবার ৮০০ টাকার নিচে কোন শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। সারের দামও বেশি। এজন্য বিঘাপ্রতি এবার চার-পাঁচ হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। অথচ ধানের দাম কম।

ক্ষেতলাল উপজেলার তারাকুল গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, ফসল উৎপাদন করে দাম না পেয়ে দিন দিন আমরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছি। আমন ধানেও যদি কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়া যায়, তাহলে আমরা চলবো কিভাবে। একই চিত্র অন্যান্য কৃষকদেরও।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ.কে.এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, কৃষকরা যেন লাভবান হতে পারেন সেজন্য ফলন বাড়াতে সার্বক্ষণিক তাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পুরো মৌসুম চলছে। জেলায় এ পর্যন্ত প্রায় ৬৫ ভাগ জমিতে আমন চাষ সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে আশা করছি, এবার আমন ধান চাষ করে কৃষকরা লাভবান হবেন।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস