ঢাকা ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্যাসিস্টকে খুশি করতে একাত্তরকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে: রিজভী

ফ্যাসিস্টকে খুশি করতে একাত্তরকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘একাত্তরকে ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার জন্য বর্তমানে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে, অবিচ্ছিন্নভাবে জড়িয়ে থাকা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানও ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্তের প্রচেষ্টা চলছে।’

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে বনানী কবরস্থানে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতিহা পাঠ করতে রিজভীর নেতৃত্বে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন।

রিজভী প্রশ্ন তোলেন, ‘কাকে খুশি করতে চাচ্ছেন? পলাতক ফ্যাসিস্টকে খুশি করার জন্যই কি আপনারা এই কাজগুলো করছেন?’ তিনি বলেন, এ প্রশ্ন এখন জনগণের মুখে মুখে।

আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুকে ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বন্দিনী মাকে (খালেদা জিয়া) তখন নানা কৌশলে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। বালু ও কাঠের ট্রাক দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি চোখে গোলমরিচের স্প্রে করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, তার চোখে ক্ষত ছিল। উনার চোখে অপারেশন হয়েছে, ঠিক ওই মুহূর্তে গোল মরিচের স্প্রে করে তাকে আরও বেশি অসুস্থ করে বন্দি করে রাখা হয়েছে। ওই মুহূর্তে আপন সন্তানের লাশ তাকে কোলে নিতে হয়েছে। এই হৃদয় বিদারক, মর্মান্তিক ঘটনা, এই ট্র্যাজেডি, এই বিয়োগান্তক ঘটনার সঙ্গে পৃথিবীর কোনো বিয়োগান্তক মিল আছে বলে আমার মনে নাই। এই মর্মান্তিক ঘটনা সমস্ত বিয়োগান্তক ঘটনা, ট্র্যাজেডিকে অতিক্রম করে গেছে।

তিনি বলেন, একটি পরিবারকে পর্যুদস্ত করা এবং জনগণের মধ্যে খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা মুছে ফেলার জন্য তৎকালীন সরকার কোনো কৌশল বাদ রাখেনি। তার ভাষায়, এটি ছিল একজন ‘অবৈধ ফ্যাসিবাদী শাসকের’ প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।

জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক ও একজন বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় খালেদা জিয়াও সন্তানসহ বন্দি। তিনিও একজন মহান মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এই পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য শেখ হাসিনা নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। কারণ মুক্তিযুদ্ধে তার পরিবারের অবদান নাই—না তার পিতার, তার না নিজের। তারা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে ঢাকায় অবস্থান করেছেন। এই কারণেই প্রতিহিংসা, কেন জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করল?’

রিজভী আরও বলেন, তার এই দেশপ্রেম ও জনপ্রিয়তা শেখ হাসিনা কোনোদিনই বরদাস্ত করতে পারেনি। তাই একের পর এক যন্ত্রণা দিয়েছে।

সম্প্রতি একটি প্রদর্শনীর প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, সেখানে দাঁড়িপাল্লায় একাত্তরকে হালকা এবং জুলাইকে ভারী হিসেবে দেখানো হয়েছে। তিনি এটিকে ‘ছোটলোকামি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে, প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনারা জনগণের সঙ্গে শত্রুতা করেছেন। জনগণের বিরুদ্ধে ছিলেন একাত্তরে, ছিলেন নব্বইয়ে, ছিলেন ছিয়াশিতে, সব সময় আপনারা সেই ভূমিকা রেখেছেন। এখন জুলাইকে পুঁজি করতে চাচ্ছেন।’

রিজভী দাবি করেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে বিএনপি সরাসরি সমর্থন জানিয়েছিল। তিনি বলেন, তারেক রহমান লন্ডন থেকে বারবার ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং সবাইকে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার মতে, এটি ইতিহাসের অংশ।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

ফ্যাসিস্টকে খুশি করতে একাত্তরকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে: রিজভী

আপডেট সময় ০৪:৩২:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

ফ্যাসিস্টকে খুশি করতে একাত্তরকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘একাত্তরকে ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার জন্য বর্তমানে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে, অবিচ্ছিন্নভাবে জড়িয়ে থাকা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানও ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্তের প্রচেষ্টা চলছে।’

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে বনানী কবরস্থানে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতিহা পাঠ করতে রিজভীর নেতৃত্বে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন।

রিজভী প্রশ্ন তোলেন, ‘কাকে খুশি করতে চাচ্ছেন? পলাতক ফ্যাসিস্টকে খুশি করার জন্যই কি আপনারা এই কাজগুলো করছেন?’ তিনি বলেন, এ প্রশ্ন এখন জনগণের মুখে মুখে।

আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুকে ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বন্দিনী মাকে (খালেদা জিয়া) তখন নানা কৌশলে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। বালু ও কাঠের ট্রাক দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি চোখে গোলমরিচের স্প্রে করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, তার চোখে ক্ষত ছিল। উনার চোখে অপারেশন হয়েছে, ঠিক ওই মুহূর্তে গোল মরিচের স্প্রে করে তাকে আরও বেশি অসুস্থ করে বন্দি করে রাখা হয়েছে। ওই মুহূর্তে আপন সন্তানের লাশ তাকে কোলে নিতে হয়েছে। এই হৃদয় বিদারক, মর্মান্তিক ঘটনা, এই ট্র্যাজেডি, এই বিয়োগান্তক ঘটনার সঙ্গে পৃথিবীর কোনো বিয়োগান্তক মিল আছে বলে আমার মনে নাই। এই মর্মান্তিক ঘটনা সমস্ত বিয়োগান্তক ঘটনা, ট্র্যাজেডিকে অতিক্রম করে গেছে।

তিনি বলেন, একটি পরিবারকে পর্যুদস্ত করা এবং জনগণের মধ্যে খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা মুছে ফেলার জন্য তৎকালীন সরকার কোনো কৌশল বাদ রাখেনি। তার ভাষায়, এটি ছিল একজন ‘অবৈধ ফ্যাসিবাদী শাসকের’ প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।

জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক ও একজন বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় খালেদা জিয়াও সন্তানসহ বন্দি। তিনিও একজন মহান মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এই পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য শেখ হাসিনা নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। কারণ মুক্তিযুদ্ধে তার পরিবারের অবদান নাই—না তার পিতার, তার না নিজের। তারা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে ঢাকায় অবস্থান করেছেন। এই কারণেই প্রতিহিংসা, কেন জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করল?’

রিজভী আরও বলেন, তার এই দেশপ্রেম ও জনপ্রিয়তা শেখ হাসিনা কোনোদিনই বরদাস্ত করতে পারেনি। তাই একের পর এক যন্ত্রণা দিয়েছে।

সম্প্রতি একটি প্রদর্শনীর প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, সেখানে দাঁড়িপাল্লায় একাত্তরকে হালকা এবং জুলাইকে ভারী হিসেবে দেখানো হয়েছে। তিনি এটিকে ‘ছোটলোকামি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে, প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনারা জনগণের সঙ্গে শত্রুতা করেছেন। জনগণের বিরুদ্ধে ছিলেন একাত্তরে, ছিলেন নব্বইয়ে, ছিলেন ছিয়াশিতে, সব সময় আপনারা সেই ভূমিকা রেখেছেন। এখন জুলাইকে পুঁজি করতে চাচ্ছেন।’

রিজভী দাবি করেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে বিএনপি সরাসরি সমর্থন জানিয়েছিল। তিনি বলেন, তারেক রহমান লন্ডন থেকে বারবার ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং সবাইকে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার মতে, এটি ইতিহাসের অংশ।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ