সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং বিতর্কিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলমসহ (এস আলম) ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের করার পরপরই ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসীন আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে তাঁকে ব্যাংকটির ট্রেনিং একাডেমিতে সংযুক্ত করা হয়েছে। ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকে অনুসন্ধানের আবেদন করায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনা ও প্রেক্ষাপট
ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী সম্প্রতি সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, এস আলম এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকে একটি লিখিত আবেদন জানান।
উল্লেখ্য, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০১৭ সালের জুন থেকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জে এম সি বিল্ডার্স লিমিটেডের প্রতিনিধি হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে ২০২৩ সালে মহামান্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি এই পদ থেকে ইস্তফা দেন।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা
উক্ত বরখাস্তের বিষয়ে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন জানান, শাখা পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার সরাসরি দুদকে অভিযোগ দায়ের করার সুযোগ নেই।
“ঋণ সংক্রান্ত কোনো অনিয়ম হলে তা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। আদালত প্রয়োজন মনে করলে মামলা অধিকতর তদন্তের জন্য দুদকে পাঠাতে পারেন। এছাড়া দুদকের সাথে যোগাযোগের জন্য ব্যাংকের নিজস্ব আলাদা বিভাগ রয়েছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, উক্ত কর্মকর্তা কেন নিজস্ব পদাধিকার অতিক্রম করে দুদকে অভিযোগ করলেন তা স্পষ্ট নয়। বিষয়টির বিভাগীয় তদন্তের খাতিরেই তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ব্যাংক নিয়ম অনুযায়ী আদালতের দ্বারস্থ হবে।
নথিপত্রে বিপরীত তথ্য
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ শাখা পর্যায় থেকে দুদকে যাওয়ার নিয়ম নেই দাবি করলেও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নথিপত্র ভিন্ন কথা বলছে। গত ২৬ জুলাই গ্যালাক্সি সোয়েটার (সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান) ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনিয়মের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দায়েরের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এরপর ২৭ জুলাই শাখা ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে মোহাম্মদ ইয়াসীন আলীকে দুদকে অভিযোগের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য লিখিতভাবে ক্ষমতা ও দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।
নথি অনুযায়ী অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই এই কর্মকর্তা এখন বিভাগীয় ব্যবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলা৭১নিউজ/এসএইচ























