গত সপ্তাহে থাইল্যান্ডে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর গুলি চালিয়ে আটজনকে হত্যা করার পর নিজে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনার পরে থাইল্যান্ড সরকার অবিলম্বে বন্দুকের লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিদ্যমান বন্দুক মালিকদের জন্য জনসমক্ষে অস্ত্র বহন করা ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ করা কেরেছে দেশটি।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে বেসামরিক মানুষের কাছে বন্দুকের মালিকানার হার এ অঞ্চলের অন্যতম বেশি। দেশটিতে প্রায় ১ কোটি ৩ লাখ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। একই সঙ্গে বন্দুক-সংক্রান্ত অপরাধের হারও বেশ বেশি।
সাম্প্রতিক কয়েকটি গুলির ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন ও কঠোর বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নতুন আইন কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত নতুন বন্দুকের লাইসেন্স দেওয়াও স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত শুক্রবার ব্যাংককের উপকণ্ঠে অবস্থিত দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলের এক ছাত্র তার দাদার মালিকানাধীন একটি হ্যান্ডগান দিয়ে প্রথমে তার দাদা-দাদিকে গুলি করে। পরে সে স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপরও গুলি চালায়।
হামলায় ওই ছাত্রের দাদা-দাদি ও নানা-নানিসহ স্কুলের পাঁচজন কর্মচারী এবং ১২ বছর বয়সী এক মেয়ে নিহত হয়েছে। পুলিশের ধারণা, হামলাকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে নিজেই বন্দুক চালানো শিখে থাকতে পারে।
পুলিশ বলছে, এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে যে ওই ছেলে অনলাইনে সহিংস বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট দেখত এবং বন্দুক চালানো শেখার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল। তারা আরো বলেছে, এসব সহিংস কনটেন্ট দেখা, পড়াশোনা নিয়ে চাপ এবং পারিবারিক সমস্যার মতো বিষয়গুলো তার কর্মকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্দুক কেনা বা মালিকানার জন্য নতুন কোনো অনুমতিপত্র দেওয়া হবে না।
পাশাপাশি, বিদ্যমান বন্দুক কেনার অনুমতিপত্রও নবায়ন করা হবে না। তবে আগে থেকে থাকা বন্দুকের মালিকানার অনুমতিপত্রের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
২০২৩ সালের শেষের দিকে বন্দুক বহনের অনুমতি স্থগিত করা হয়। এর ফলে বন্দুকের মালিকদের অস্ত্র বাড়িতে অথবা নির্ধারিত শুটিং রেঞ্জে রাখতে হচ্ছে। স্কুলে গুলির ঘটনার পর সরকার প্রায় ৪০ লাখ লাইসেন্সবিহীন বন্দুকের মালিককে তাদের অস্ত্র কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে উৎসাহিত করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে।
প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল বলেছেন, সরকার আরো কঠোর বন্দুক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং কঠিন শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন করার কাজ করছে। নতুন আইন না হওয়া পর্যন্ত ঘোষিত বর্তমান পদক্ষেপগুলো কার্যকর থাকবে।
বন্দুক নিয়ন্ত্রণের পক্ষে থাকা ব্যক্তিরা বন্দুকের অনুমতিপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়ায় মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর অনুমতিপত্র পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।
আনুতিন বলেছেন, কঠোরভাবে গোলাবারুদ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীরা যাতে স্কুলে অস্ত্র নিয়ে আসতে না পারে, সে জন্য স্কুলের প্রবেশপথে তল্লাশি চালানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ























