ঢাকা ১১:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভুল দিকে মানি প্ল্যান্ট রাখছেন না তো?

ঘর সাজাতে ও ঘরে একটু সুবাসিত সবুজের ছোঁয়া আনতে ইদানীং ঘরে মানি প্ল্যান্ট রাখার ট্রেন্ড বেশ জনপ্রিয়। গৃহস্থ থেকে শুরু করে ফ্ল্যাট কিংবা অফিসের টেবিল- লতানো এই সহজলভ্য গাছটি প্রায় সর্বত্রই চোখে পড়ে। তবে বাস্তুশাস্ত্রবিদদের মতে, মানি প্ল্যান্ট কেবল ঘরের নান্দনিকতাই বাড়ায় না, এর সাথে জড়িয়ে রয়েছে পরিবারের ভাগ্য ও আর্থিক সমৃদ্ধির গভীর সম্পর্ক।

বিশ্বাস করা হয়, সঠিকভাবে মানি প্ল্যান্ট পরিচর্যা করলে ঘরে পজিটিভ এনার্জি ও ধন-সম্পদের প্রবাহ বাড়ে। কিন্তু উল্টো দিকে অসাবধানতাবশত ভুল নিয়ম বা ভুল দিকে এটি রাখলে ঘটতে পারে চরম হিতে বিপরীত, ডেকে আনতে পারে আর্থিক অনটন!

সংসারে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য অটুট রাখতে এবং বাস্তুদোষ এড়াতে জেনে নিন মানি প্ল্যান্ট রাখার সঠিক নিয়মাবলী।

কোন দিকে রাখবেন মানি প্ল্যান্ট? 

বাস্তুশাস্ত্রে দিক নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানি প্ল্যান্ট রাখার সবচেয়ে আদর্শ দিক হলো ঘরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণ বা ‘অগ্নি কোণ’।

কেন দক্ষিণ-পূর্ব কোণ? বাস্তু মতে, এই দিকের অধিপতি হলেন ভগবান গণেশ এবং এটি শুক্র গ্রহের দিক, যা ধন ও সমৃদ্ধির প্রতিনিধিত্ব করে। অগ্নি কোণে গাছটি রাখলে ঘরের নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

উত্তর-পূর্ব (ঈশান কোণ) বা পশ্চিম দিকে ভুলেও মানি প্ল্যান্ট রাখবেন না। এতে মানসিক চাপ ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে।

ঘরের বাইরে নয়, রাখুন ভেতরে!

অনেকেই বারান্দা বা খোলা উঠানে মানি প্ল্যান্ট রেখে দেন। তবে বাস্তুশাস্ত্র বলছে, সমৃদ্ধির প্রবাহ ধরে রাখতে মানি প্ল্যান্ট সবসময় ঘরের ভেতরে রাখা উচিত। ঘরের ভেতরের পরিবেশেই এর পজিটিভ প্রভাব সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়।

 লতা যেন মাটিতে না লুটিয়ে পড়ে

লতানো গাছ হওয়ার কারণে মানি প্ল্যান্ট দ্রুত বাড়তে থাকে। খেয়াল রাখবেন, গাছের লতা যেন কখনো মাটিতে গড়িয়ে বা লুটিয়ে না পড়ে।

মাটিতে লতা লুটিয়ে পড়া উন্নতির পথ রোধ করে এবং আর্থিক বাঁধার সৃষ্টি করে।

তাই লতা বড় হলে সুতো বা লাঠির সাহায্যে সেটিকে সবসময় উপরের দিকে তুলে দিন। ওপরের দিকে উঠে যাওয়া লতা আর্থিক সমৃদ্ধি ও উন্নতির প্রতীক।

পাত্র নির্বাচনে বুদ্ধিমানের কাজ

আপনি গাছটি মাটিতে রোপণ করছেন নাকি জলে রাখছেন, তার ওপর নির্ভর করে সঠিক পাত্র বেছে নেওয়ার উপর।

একটি বড় টব ব্যবহার করুন, যাতে শেকড় ছড়ানোর পর্যাপ্ত জায়গা পায় এবং গাছ দ্রুত বাড়ে।

কাচের পাত্র সবচেয়ে ভালো। সেক্ষেত্রে নীল বা সবুজ রঙের কাচের পাত্র বেছে নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। নীল বা সবুজ রঙ বৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার প্রতীক।

এক নজরে কয়েকটি দরকারী টিপস

গাছের কোনো পাতা হলুদ হয়ে গেলে বা শুকিয়ে গেলে তা সাথে সাথে কেটে বাদ দিন। শুকিয়ে যাওয়া পাতা অশুভ শক্তির প্রতীক।

জল নিয়মিত পরিবর্তন করুন, যাতে পাত্রের ভেতর জল পরিষ্কার ও তাজা থাকে।

ঘরের সাজসজ্জার পাশাপাশি বাস্তুর এই সাধারণ নিয়মগুলো মেনে চললেই আপনার প্রিয় মানি প্ল্যান্ট ঘরে নিয়ে আসতে পারে পজিটিভ ভাইব ও উপচে পড়া সমৃদ্ধি!

বাংরা৭১নিউজ/একে

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভুল দিকে মানি প্ল্যান্ট রাখছেন না তো?

আপডেট সময় ০৭:১৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ঘর সাজাতে ও ঘরে একটু সুবাসিত সবুজের ছোঁয়া আনতে ইদানীং ঘরে মানি প্ল্যান্ট রাখার ট্রেন্ড বেশ জনপ্রিয়। গৃহস্থ থেকে শুরু করে ফ্ল্যাট কিংবা অফিসের টেবিল- লতানো এই সহজলভ্য গাছটি প্রায় সর্বত্রই চোখে পড়ে। তবে বাস্তুশাস্ত্রবিদদের মতে, মানি প্ল্যান্ট কেবল ঘরের নান্দনিকতাই বাড়ায় না, এর সাথে জড়িয়ে রয়েছে পরিবারের ভাগ্য ও আর্থিক সমৃদ্ধির গভীর সম্পর্ক।

বিশ্বাস করা হয়, সঠিকভাবে মানি প্ল্যান্ট পরিচর্যা করলে ঘরে পজিটিভ এনার্জি ও ধন-সম্পদের প্রবাহ বাড়ে। কিন্তু উল্টো দিকে অসাবধানতাবশত ভুল নিয়ম বা ভুল দিকে এটি রাখলে ঘটতে পারে চরম হিতে বিপরীত, ডেকে আনতে পারে আর্থিক অনটন!

সংসারে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য অটুট রাখতে এবং বাস্তুদোষ এড়াতে জেনে নিন মানি প্ল্যান্ট রাখার সঠিক নিয়মাবলী।

কোন দিকে রাখবেন মানি প্ল্যান্ট? 

বাস্তুশাস্ত্রে দিক নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানি প্ল্যান্ট রাখার সবচেয়ে আদর্শ দিক হলো ঘরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণ বা ‘অগ্নি কোণ’।

কেন দক্ষিণ-পূর্ব কোণ? বাস্তু মতে, এই দিকের অধিপতি হলেন ভগবান গণেশ এবং এটি শুক্র গ্রহের দিক, যা ধন ও সমৃদ্ধির প্রতিনিধিত্ব করে। অগ্নি কোণে গাছটি রাখলে ঘরের নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

উত্তর-পূর্ব (ঈশান কোণ) বা পশ্চিম দিকে ভুলেও মানি প্ল্যান্ট রাখবেন না। এতে মানসিক চাপ ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে।

ঘরের বাইরে নয়, রাখুন ভেতরে!

অনেকেই বারান্দা বা খোলা উঠানে মানি প্ল্যান্ট রেখে দেন। তবে বাস্তুশাস্ত্র বলছে, সমৃদ্ধির প্রবাহ ধরে রাখতে মানি প্ল্যান্ট সবসময় ঘরের ভেতরে রাখা উচিত। ঘরের ভেতরের পরিবেশেই এর পজিটিভ প্রভাব সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়।

 লতা যেন মাটিতে না লুটিয়ে পড়ে

লতানো গাছ হওয়ার কারণে মানি প্ল্যান্ট দ্রুত বাড়তে থাকে। খেয়াল রাখবেন, গাছের লতা যেন কখনো মাটিতে গড়িয়ে বা লুটিয়ে না পড়ে।

মাটিতে লতা লুটিয়ে পড়া উন্নতির পথ রোধ করে এবং আর্থিক বাঁধার সৃষ্টি করে।

তাই লতা বড় হলে সুতো বা লাঠির সাহায্যে সেটিকে সবসময় উপরের দিকে তুলে দিন। ওপরের দিকে উঠে যাওয়া লতা আর্থিক সমৃদ্ধি ও উন্নতির প্রতীক।

পাত্র নির্বাচনে বুদ্ধিমানের কাজ

আপনি গাছটি মাটিতে রোপণ করছেন নাকি জলে রাখছেন, তার ওপর নির্ভর করে সঠিক পাত্র বেছে নেওয়ার উপর।

একটি বড় টব ব্যবহার করুন, যাতে শেকড় ছড়ানোর পর্যাপ্ত জায়গা পায় এবং গাছ দ্রুত বাড়ে।

কাচের পাত্র সবচেয়ে ভালো। সেক্ষেত্রে নীল বা সবুজ রঙের কাচের পাত্র বেছে নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। নীল বা সবুজ রঙ বৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার প্রতীক।

এক নজরে কয়েকটি দরকারী টিপস

গাছের কোনো পাতা হলুদ হয়ে গেলে বা শুকিয়ে গেলে তা সাথে সাথে কেটে বাদ দিন। শুকিয়ে যাওয়া পাতা অশুভ শক্তির প্রতীক।

জল নিয়মিত পরিবর্তন করুন, যাতে পাত্রের ভেতর জল পরিষ্কার ও তাজা থাকে।

ঘরের সাজসজ্জার পাশাপাশি বাস্তুর এই সাধারণ নিয়মগুলো মেনে চললেই আপনার প্রিয় মানি প্ল্যান্ট ঘরে নিয়ে আসতে পারে পজিটিভ ভাইব ও উপচে পড়া সমৃদ্ধি!

বাংরা৭১নিউজ/একে