ঢাকা ০৮:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo নির্বাচনী তফসিল আগস্টে, প্রথম ধাপের ভোট অক্টোবরে : ইসি আনোয়ারুল ইসলাম Logo দিল্লির আন্দোলন মাঝরাতে ফুঁসে উঠলেন নাসিরুদ্দিন শাহ Logo মেট্রোরেল ডিপোর ভিডিও ধারণের অভিযোগে কর্মীকে পুলিশে দিল ডিএমটিসিএল Logo যমুনা ও বাঙালি নদীতে পানি বৃদ্ধি, ভাঙন আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ Logo জেনার সাথে জড়িত প্রমাণ হলে এমপির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক: হারুনুর রশিদ Logo বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার: জ্বালানিমন্ত্রী Logo নৈতিক স্খলন প্রমাণিত, জামায়াতের এমপি নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার Logo মেগা প্রকল্পে অনিয়ম-বিলম্ব সহ্য নয়, ১৮০ দিনের বিশেষ সংস্কারে সরকার Logo ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ প্রকল্প নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভা Logo ভারতের আন্দোলনে ঠিক যেন বাংলাদেশের দৃশ্য!

মেগা প্রকল্পে অনিয়ম-বিলম্ব সহ্য নয়, ১৮০ দিনের বিশেষ সংস্কারে সরকার

মেগা প্রকল্পগুলোতে অস্বাভাবিক বিলম্ব, বারবার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জবাবদিহির অভাব নিয়ে অবশেষে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রমে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে চারটি প্রধান ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কার সম্পন্ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

বুধবার (২২ জুলাই) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এসব বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। 

এর আগে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, প্রশাসনিক জটিলতা, দুর্বল জবাবদিহি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে মেগা প্রকল্পগুলোতে অস্বাভাবিক বিলম্ব ঘটেছে। তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের এসব জটিলতা নিরসনে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা খুলনার রূপসা এলাকার একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটি জমা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা অনুযায়ী সেখানে পরবর্তী ব্যবস্থা নির্ধারিত হবে।

প্রকল্পের হঠাৎ ব্যয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উদাহরণ টানেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি, ভ্যাট-কর সমন্বয়, ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তর এবং নতুন উপাদান যুক্ত হওয়ার কারণেই মূলত প্রকল্পটির বাজেট বাড়াতে হয়েছে। একইভাবে সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কবরস্থান, শ্মশান ও ধর্মীয় উপাসনালয় সংস্কারে নতুন নতুন চাহিদা যুক্ত হওয়ায় সংশোধিত প্রস্তাবে অতিরিক্ত ৩৬৮ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনতে সরকার আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে বড় চারটি সংস্কার কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। প্রথমত, আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি কৌশলগত (স্ট্র্যাটেজিক) ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে যা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। দ্বিতীয়ত, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি ও খরচের হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে তদারকির জন্য একটি ‘রিয়েল-টাইম ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড’ চালু করা হবে।

তৃতীয়ত, যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ের লক্ষ্যে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কোর্স মডিউল প্রস্তুতের কাজ শেষ করা হচ্ছে। চতুর্থত, নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি এড়াতে সব চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন করে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এছাড়া পুরো প্রক্রিয়ায় দক্ষতা আনতে পরিকল্পনা বিভাগ, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, এনবিআর, আইসিটি বিভাগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটাল সেবাগুলোকে একটি একক সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রযুক্তিগত সমন্বয় বাস্তবায়িত হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সার্বিক গতি বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচনী তফসিল আগস্টে, প্রথম ধাপের ভোট অক্টোবরে : ইসি আনোয়ারুল ইসলাম

মেগা প্রকল্পে অনিয়ম-বিলম্ব সহ্য নয়, ১৮০ দিনের বিশেষ সংস্কারে সরকার

আপডেট সময় ০৬:০৪:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

মেগা প্রকল্পগুলোতে অস্বাভাবিক বিলম্ব, বারবার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জবাবদিহির অভাব নিয়ে অবশেষে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রমে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে চারটি প্রধান ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কার সম্পন্ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

বুধবার (২২ জুলাই) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এসব বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। 

এর আগে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, প্রশাসনিক জটিলতা, দুর্বল জবাবদিহি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে মেগা প্রকল্পগুলোতে অস্বাভাবিক বিলম্ব ঘটেছে। তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের এসব জটিলতা নিরসনে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা খুলনার রূপসা এলাকার একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটি জমা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা অনুযায়ী সেখানে পরবর্তী ব্যবস্থা নির্ধারিত হবে।

প্রকল্পের হঠাৎ ব্যয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উদাহরণ টানেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি, ভ্যাট-কর সমন্বয়, ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তর এবং নতুন উপাদান যুক্ত হওয়ার কারণেই মূলত প্রকল্পটির বাজেট বাড়াতে হয়েছে। একইভাবে সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কবরস্থান, শ্মশান ও ধর্মীয় উপাসনালয় সংস্কারে নতুন নতুন চাহিদা যুক্ত হওয়ায় সংশোধিত প্রস্তাবে অতিরিক্ত ৩৬৮ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনতে সরকার আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে বড় চারটি সংস্কার কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। প্রথমত, আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি কৌশলগত (স্ট্র্যাটেজিক) ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে যা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। দ্বিতীয়ত, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি ও খরচের হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে তদারকির জন্য একটি ‘রিয়েল-টাইম ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড’ চালু করা হবে।

তৃতীয়ত, যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ের লক্ষ্যে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কোর্স মডিউল প্রস্তুতের কাজ শেষ করা হচ্ছে। চতুর্থত, নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি এড়াতে সব চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন করে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এছাড়া পুরো প্রক্রিয়ায় দক্ষতা আনতে পরিকল্পনা বিভাগ, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, এনবিআর, আইসিটি বিভাগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটাল সেবাগুলোকে একটি একক সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রযুক্তিগত সমন্বয় বাস্তবায়িত হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সার্বিক গতি বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ