ঢাকা ০৪:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo তিস্তা-সুরমায় ফের বন্যার শঙ্কা, কয়েক জেলায় সতর্কবার্তা Logo ৭৫ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার মিস ওয়ার্ল্ডে পাকিস্তান, কে এই সুন্দরী আনিকা Logo বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৩ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে চীনা প্রতিষ্ঠান Logo প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পরিবেশ দূষণবিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত Logo ৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায় Logo মাগুরায় ট্রান্সমিটার চুরির সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে যুবকের মৃত্যু Logo আজ থেকে ‘কৃষক কার্ড’র তথ্য সংগ্রহ শুরু Logo জর্ডানে মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে আইআরজিসি’র হামলা, দু’টি যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি Logo বন্যা মোকাবিলায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে আসামি পলায়ন, ৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত

৬৫৪ কোটি টাকার ডেমু ট্রেন এখন পোকামাকড়ের আবাস

একসময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আরামদায়ক যাত্রার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ডেমু ট্রেনগুলো এখন পরিণত হয়েছে পোকামাকড়ের নিরাপদ আশ্রয়ে। চারদিকে ছড়িয়ে আছে জানালার ভাঙা কাচ। বগির ভিতরে ভূতুড়ে নিস্তব্ধতা। রোদবৃষ্টি আর অযত্নে বগি ক্ষয়ে যাচ্ছে, দামি যন্ত্রাংশে ধরেছে মরিচা। শত শত কোটি টাকার সম্পদ এভাবেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ইয়ার্ডে অচল পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।

জানা যায়, ২০১৩-১৪ সালে চীন থেকে ২০ সেট ডেমু ট্রেন কেনে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এ প্রকল্পে সরকারের ব্যয় হয় প্রায় ৬৫৪ কোটি টাকা। প্রতিটি ট্রেনে প্রায় ৩০০ যাত্রীর বসার ব্যবস্থা ছিল। দাবি করা হয়েছিল, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণে এগুলো ৩০ বছর পর্যন্ত চলতে পারবে। কিন্তু মাত্র দুই-তিন বছরের মধ্যেই ট্রেনগুলোয় কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের সংকট ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে সব অচল হয়ে পড়ে।

প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে দেশি প্রযুক্তিতে একটি ট্রেন সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সফলতা আসেনি। ডেমু ট্রেন বন্ধ হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ঢাকার আশপাশের যাত্রীরা। তাদের মতে ট্রেনগুলো চালু থাকলে প্রতিদিনের যাতায়াত অনেক সহজ হতো। তাই দ্রুত সংস্কার করে আবারও চলাচলের দাবি জানিয়েছেন তারা। এ ব্যাপারে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেমু ট্রেন দূরপাল্লার জন্য নয়; স্বল্প দূরত্বে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে এগুলো কেনা হয়েছিল। বর্তমানে সরকারি অর্থে ট্রেনগুলো সংস্কারের কোনো পরিকল্পনা নেই।

সংশ্লিষ্টদের মতে যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘব ও রাষ্ট্রের বিপুল বিনিয়োগ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। এখন দেখার বিষয়, বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে এসে ডেমু ট্রেনে আবার প্রাণ ফেরাতে পারেন কি না।   নাকি ৬৫৪ কোটি টাকার ডেমু যাবে ধোলাইপাড়ের ভাঙারির দোকানে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তা-সুরমায় ফের বন্যার শঙ্কা, কয়েক জেলায় সতর্কবার্তা

৬৫৪ কোটি টাকার ডেমু ট্রেন এখন পোকামাকড়ের আবাস

আপডেট সময় ০২:০৯:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

একসময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আরামদায়ক যাত্রার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ডেমু ট্রেনগুলো এখন পরিণত হয়েছে পোকামাকড়ের নিরাপদ আশ্রয়ে। চারদিকে ছড়িয়ে আছে জানালার ভাঙা কাচ। বগির ভিতরে ভূতুড়ে নিস্তব্ধতা। রোদবৃষ্টি আর অযত্নে বগি ক্ষয়ে যাচ্ছে, দামি যন্ত্রাংশে ধরেছে মরিচা। শত শত কোটি টাকার সম্পদ এভাবেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ইয়ার্ডে অচল পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।

জানা যায়, ২০১৩-১৪ সালে চীন থেকে ২০ সেট ডেমু ট্রেন কেনে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এ প্রকল্পে সরকারের ব্যয় হয় প্রায় ৬৫৪ কোটি টাকা। প্রতিটি ট্রেনে প্রায় ৩০০ যাত্রীর বসার ব্যবস্থা ছিল। দাবি করা হয়েছিল, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণে এগুলো ৩০ বছর পর্যন্ত চলতে পারবে। কিন্তু মাত্র দুই-তিন বছরের মধ্যেই ট্রেনগুলোয় কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের সংকট ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে সব অচল হয়ে পড়ে।

প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে দেশি প্রযুক্তিতে একটি ট্রেন সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সফলতা আসেনি। ডেমু ট্রেন বন্ধ হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ঢাকার আশপাশের যাত্রীরা। তাদের মতে ট্রেনগুলো চালু থাকলে প্রতিদিনের যাতায়াত অনেক সহজ হতো। তাই দ্রুত সংস্কার করে আবারও চলাচলের দাবি জানিয়েছেন তারা। এ ব্যাপারে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেমু ট্রেন দূরপাল্লার জন্য নয়; স্বল্প দূরত্বে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে এগুলো কেনা হয়েছিল। বর্তমানে সরকারি অর্থে ট্রেনগুলো সংস্কারের কোনো পরিকল্পনা নেই।

সংশ্লিষ্টদের মতে যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘব ও রাষ্ট্রের বিপুল বিনিয়োগ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। এখন দেখার বিষয়, বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে এসে ডেমু ট্রেনে আবার প্রাণ ফেরাতে পারেন কি না।   নাকি ৬৫৪ কোটি টাকার ডেমু যাবে ধোলাইপাড়ের ভাঙারির দোকানে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ