পদ্মার ভয়াল ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে ৫২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হচ্ছে বাঁধ, যার প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই তীর রক্ষা বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নে বাঁধের একটি অংশের সিসি ব্লক পদ্মার স্রোতে বিলীন হয়ে গেছে।
ফলে স্রোত আর একটু শক্তিশালী হলেই পুরো বাঁধটিই নদীগর্ভে চলে যাবে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী। ফলে ভাঙন আতঙ্কে অনেকে দিনরাত বাঁধ পাহারা দিচ্ছেন। নিরাপত্তাহীনতায় অনেক পরিবার ঘরের মালামাল সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, যে বাঁধকে দীর্ঘদিনের ভাঙনের স্থায়ী সমাধান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, সেটি এত অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা বহুমুখী সেতুর ভাটিতে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পদ্মা নদীর বাম তীর সংরক্ষণে ৫২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯ দশমিক ১০ কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পটি ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হয়।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্প শেষ হওয়ার আগেই বাঁধে ধস দেখা দেওয়ায় নির্মাণকাজের গুণগত মান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বাঁধের পাশে বসবাসকারী মনিরুল ইসলাম জানান, গত রবিবার বিকালে গাঁওদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে গাঁওদিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে নদী তীর রক্ষা বাঁধে হঠাৎ ধস নামে। প্রথমে কয়েকটি সিসি ব্লক সরে গেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পদ্মায় তলিয়ে যায়।
কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই এ ঘটনা ঘটায় মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নদীর তীরবর্তী পরিবারগুলো রাতেই প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাগর বলেন, ‘বিকালে দেখি বাঁধের ব্লক একের পর এক নদীতে পড়ে যাচ্ছে।
রাতে আতঙ্কে ঘরের জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়েছি। এখন বুঝতে পারছি না কোথায় থাকব।’ আবদুল লতিফ খান বলেন, ‘৩০ বছর আগে পদ্মার ভাঙনে সব হারিয়েছি। বাঁধ হওয়ার পর মনে হয়েছিল এবার শান্তিতে থাকতে পারব।
কিন্তু দেড় মাসের মধ্যেই যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ কী?’ ঘটনার পর সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু। তিনি জানান, রাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন।
মুন্সিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, ‘এখন আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। খবর পাওয়ার পরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।’
বাংলা৭১নিউজ/একেএএম





















