ঢাকা ০৫:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বিদেশি বিনিয়োগে আরও অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলছে সরকার : আইসিটি মন্ত্রী Logo আর্থিক খাত সংস্কারে সন্তুষ্ট আইএমএফ, নতুন ঋণেও ইতিবাচক অগ্রগতি Logo বন্যা মোকাবিলায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ও ৯ হাজার টন চাল বরাদ্দ Logo ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম Logo কারাগারে বন্দিরা বানাচ্ছেন সাবান, নাম ‘প্রিজন ফ্রেশ’ Logo ‘নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে দেশে ফেরার কথা বলছেন শেখ হাসিনা’ Logo বাংলাদেশে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় সমবেদনা জানালেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট Logo নৌকায় চড়ে কেন্দ্রে ঢুকলো এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা Logo আগামী জুনের মধ্যে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo ১৯৩০ সালের এই ‍দিনে শুরু হয়েছিল বিশ্বকাপ ফুটবলের যাত্রা

চলে গেলেন কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এস জানকী

দক্ষিণ ভারতের কিংবদন্তি প্লেব্যাক শিল্পী এস জানকী আর নেই। বয়সজনিত শারীরিক জটিলতায় শনিবার (১১ জুলাই) ভারতের মহীশূরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। 

তার নাতনি এক আবেগঘন বার্তায় জানান, শান্তিপূর্ণভাবেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। তার মৃত্যুতে ভারতীয় চলচ্চিত্র ও সংগীতজগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

সিস্তলা শ্রীরামমূর্তি জানকী, যিনি সবার কাছে এস জানকী নামে পরিচিত, জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৮ সালের ২৩ এপ্রিল, ভারতের বর্তমান আন্ধ্র প্রদেশের গুন্টুরে। তার বাবা ছিলেন একজন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ও শিক্ষক। মাত্র নয় বছর বয়সে প্রথম মঞ্চে গান গাওয়ার সুযোগ পান তিনি। 

১৯৫৭ সালে তেলুগু চলচ্চিত্র ‘এমএলএ’-এর ‘নী আশা আদিয়াসা’ গান দিয়ে প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। পরে তামিল, তেলুগু, মালয়ালম, কন্নড়, হিন্দি, বাংলা, ওড়িয়া, তুলু, উর্দুসহ প্রায় ২০টি ভারতীয় ভাষায় গান গেয়েছেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৪০ হাজারেরও বেশি গান রেকর্ড করে ভারতীয় সংগীতের ইতিহাসে অন্যতম সেরা প্লেব্যাক শিল্পীর মর্যাদা অর্জন করেন এস জানকী।

সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি চারটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং বিভিন্ন ভাষায় ৩৩টি রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। সুরকার ইলাইয়ারাজার সঙ্গে তার অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে অম্লান। এর মধ্যে ‘ইঞ্জি ইডুপাঝাগি’, ‘সেন্থুরা পুভে’ এবং ‘কানমানি আনবোদু’ বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

২০১৩ সালে ভারত সরকার তাকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মভূষণ প্রদান করতে চাইলে তা গ্রহণ করেননি এস জানকী। তার বক্তব্য ছিল, প্রায় ৫৫ বছরের সংগীতজীবনের পর এই সম্মান অনেক দেরিতে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ ভারতের শিল্পীরা জাতীয় পর্যায়ে যথাযথ স্বীকৃতি পান না বলেও তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন। জীবনের শেষ কয়েক বছর জনসমক্ষে খুব কমই দেখা গেছে তাকে। তবে সম্প্রতি গায়িকা সুনীতা তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভক্তদের আবেগাপ্লুত করে।

সূত্র: টাইমস নাও

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশি বিনিয়োগে আরও অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলছে সরকার : আইসিটি মন্ত্রী

চলে গেলেন কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এস জানকী

আপডেট সময় ১২:৪৩:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

দক্ষিণ ভারতের কিংবদন্তি প্লেব্যাক শিল্পী এস জানকী আর নেই। বয়সজনিত শারীরিক জটিলতায় শনিবার (১১ জুলাই) ভারতের মহীশূরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। 

তার নাতনি এক আবেগঘন বার্তায় জানান, শান্তিপূর্ণভাবেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। তার মৃত্যুতে ভারতীয় চলচ্চিত্র ও সংগীতজগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

সিস্তলা শ্রীরামমূর্তি জানকী, যিনি সবার কাছে এস জানকী নামে পরিচিত, জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৮ সালের ২৩ এপ্রিল, ভারতের বর্তমান আন্ধ্র প্রদেশের গুন্টুরে। তার বাবা ছিলেন একজন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ও শিক্ষক। মাত্র নয় বছর বয়সে প্রথম মঞ্চে গান গাওয়ার সুযোগ পান তিনি। 

১৯৫৭ সালে তেলুগু চলচ্চিত্র ‘এমএলএ’-এর ‘নী আশা আদিয়াসা’ গান দিয়ে প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। পরে তামিল, তেলুগু, মালয়ালম, কন্নড়, হিন্দি, বাংলা, ওড়িয়া, তুলু, উর্দুসহ প্রায় ২০টি ভারতীয় ভাষায় গান গেয়েছেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৪০ হাজারেরও বেশি গান রেকর্ড করে ভারতীয় সংগীতের ইতিহাসে অন্যতম সেরা প্লেব্যাক শিল্পীর মর্যাদা অর্জন করেন এস জানকী।

সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি চারটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং বিভিন্ন ভাষায় ৩৩টি রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। সুরকার ইলাইয়ারাজার সঙ্গে তার অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে অম্লান। এর মধ্যে ‘ইঞ্জি ইডুপাঝাগি’, ‘সেন্থুরা পুভে’ এবং ‘কানমানি আনবোদু’ বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

২০১৩ সালে ভারত সরকার তাকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মভূষণ প্রদান করতে চাইলে তা গ্রহণ করেননি এস জানকী। তার বক্তব্য ছিল, প্রায় ৫৫ বছরের সংগীতজীবনের পর এই সম্মান অনেক দেরিতে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ ভারতের শিল্পীরা জাতীয় পর্যায়ে যথাযথ স্বীকৃতি পান না বলেও তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন। জীবনের শেষ কয়েক বছর জনসমক্ষে খুব কমই দেখা গেছে তাকে। তবে সম্প্রতি গায়িকা সুনীতা তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভক্তদের আবেগাপ্লুত করে।

সূত্র: টাইমস নাও

বাংলা৭১নিউজ/জেএস