ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ডালাসে চলছে ফ্রান্স-স্পেনের প্রথম সেমিফাইনালের প্রস্তুতি Logo ৭ জেলায় বন্যা : ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, মৃত্যু বেড়ে ৫৪ Logo মডেল মসজিদ প্রকল্পে দুর্নীতি অত্যন্ত গর্হিত ও ন্যক্কারজনক কাজ Logo ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৩২৭ Logo ভিড়বে ৪ গুণ বড় জাহাজ, মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর Logo নিজেদের পরিবেশ নিজেদেরই রক্ষা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo বিদেশি বিনিয়োগে আরও অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলছে সরকার : আইসিটি মন্ত্রী Logo আর্থিক খাত সংস্কারে সন্তুষ্ট আইএমএফ, নতুন ঋণেও ইতিবাচক অগ্রগতি Logo বন্যা মোকাবিলায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ও ৯ হাজার টন চাল বরাদ্দ Logo ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম

আর্থিক খাত সংস্কারে সন্তুষ্ট আইএমএফ, নতুন ঋণেও ইতিবাচক অগ্রগতি

দেশের আর্থিক খাত, শেয়ারবাজার সংস্কার এবং কর-জিডিপির অনুপাত বাড়াতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়েও এ পর্যন্ত আলোচনায় সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে। 

সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে ঢাকা সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন রাজনৈতিক সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমের ইতিবাচক মূল্যায়ন করেছে আইএমএফ। আর্থিক খাত, শেয়ারবাজার সংস্কার এবং কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে সরকারের উদ্যোগে সংস্থাটি সন্তুষ্ট।

তিনি জানান, সব সংস্কার একসঙ্গে নয়, বরং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি বলে স্পষ্ট করেন তিনি।

বৈঠকে সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা, সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচি, দ্বিতীয় রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ), বাজেট, রাজস্ব আহরণ, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভর্তুকি, ক্যাপাসিটি চার্জ এবং আর্থিক খাতের সুশাসন নিয়ে আলোচনা হয়।

অর্থমন্ত্রী জানান, নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় সন্তোষজনক অগ্রগতি হলেও বাংলাদেশ কবে নাগাদ নতুন ঋণ পাবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট কোনো সময় জানানো সম্ভব নয়।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইএমএফের বর্তমান মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে প্রতিনিধিদল তাদের সুপারিশ ওয়াশিংটনে সংস্থাটির সদর দপ্তরে পাঠাবে। এরপর আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভা শেষে আইএমএফের ভাইস প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে এসে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করবে। এরপর সম্ভাব্য ৪ থেকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নতুন ঋণ ছাড়ের প্রক্রিয়া এগোতে পারে।

২০২৩ সালে বাংলাদেশ ও আইএমএফের মধ্যে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচি অনুমোদিত হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকার এর আকার বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করে।

ওই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ এরই মধ্যে ৩ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের মতে, আগের কর্মসূচির কয়েকটি শর্ত জনস্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। সে কারণে নতুন কাঠামোয় আইএমএফের সঙ্গে ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল বর্তমানে ১৬ জুলাই পর্যন্ত ঢাকা সফরে রয়েছে। সফরকালে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে সামষ্টিক অর্থনীতির পরিস্থিতি, চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করছেন। সোমবার অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক ছিল সেই ধারাবাহিক আলোচনারই অংশ।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ডালাসে চলছে ফ্রান্স-স্পেনের প্রথম সেমিফাইনালের প্রস্তুতি

আর্থিক খাত সংস্কারে সন্তুষ্ট আইএমএফ, নতুন ঋণেও ইতিবাচক অগ্রগতি

আপডেট সময় ০৫:০৫:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

দেশের আর্থিক খাত, শেয়ারবাজার সংস্কার এবং কর-জিডিপির অনুপাত বাড়াতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়েও এ পর্যন্ত আলোচনায় সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে। 

সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে ঢাকা সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন রাজনৈতিক সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমের ইতিবাচক মূল্যায়ন করেছে আইএমএফ। আর্থিক খাত, শেয়ারবাজার সংস্কার এবং কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে সরকারের উদ্যোগে সংস্থাটি সন্তুষ্ট।

তিনি জানান, সব সংস্কার একসঙ্গে নয়, বরং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি বলে স্পষ্ট করেন তিনি।

বৈঠকে সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা, সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচি, দ্বিতীয় রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ), বাজেট, রাজস্ব আহরণ, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভর্তুকি, ক্যাপাসিটি চার্জ এবং আর্থিক খাতের সুশাসন নিয়ে আলোচনা হয়।

অর্থমন্ত্রী জানান, নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় সন্তোষজনক অগ্রগতি হলেও বাংলাদেশ কবে নাগাদ নতুন ঋণ পাবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট কোনো সময় জানানো সম্ভব নয়।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইএমএফের বর্তমান মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে প্রতিনিধিদল তাদের সুপারিশ ওয়াশিংটনে সংস্থাটির সদর দপ্তরে পাঠাবে। এরপর আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভা শেষে আইএমএফের ভাইস প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে এসে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করবে। এরপর সম্ভাব্য ৪ থেকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নতুন ঋণ ছাড়ের প্রক্রিয়া এগোতে পারে।

২০২৩ সালে বাংলাদেশ ও আইএমএফের মধ্যে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচি অনুমোদিত হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকার এর আকার বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করে।

ওই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ এরই মধ্যে ৩ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের মতে, আগের কর্মসূচির কয়েকটি শর্ত জনস্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। সে কারণে নতুন কাঠামোয় আইএমএফের সঙ্গে ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল বর্তমানে ১৬ জুলাই পর্যন্ত ঢাকা সফরে রয়েছে। সফরকালে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে সামষ্টিক অর্থনীতির পরিস্থিতি, চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করছেন। সোমবার অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক ছিল সেই ধারাবাহিক আলোচনারই অংশ।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ