সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত, সবাই সিলেটের বাসিন্দা তৃণমূলের সেবায় আগ্রহী নন আইনজীবীরা, বাড়ানো হবে ফি : সংসদে আইনমন্ত্রী গৃহকর্মী রিক্তার মৃত্যু: বরখাস্ত হচ্ছেন পাউবো কর্মকর্তা সবিবুর ক্রীড়াঙ্গনের কিংবদন্তি আবদুস সাদেকের মৃত্যুতে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর শোক জামায়াত আমিরের সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে : বাণিজ্যমন্ত্রী মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে দুই বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার কি সোমবারই পদত্যাগ করছেন এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেবে সরকার

আইটিএফসি থেকে ২.৮ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চায় বাংলাদেশ

বাংলা৭১নিউজ ঢাকা:
  • আপডেট সময় রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও সার আমদানির অর্থ জোগাতে আন্তর্জাতিক ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইটিএফসি) কাছ থেকে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন (২৮০ কোটি) ডলার ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ সরকার।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এই অর্থায়ন নিয়ে সৌদি আরবের জেদ্দায় ২১ থেকে ২৪ জুন অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক অর্থায়ন পরিকল্পনা সভায় আলোচনা করবে বাংলাদেশ ও আইটিএফসি। বৈঠকে চূড়ান্ত অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানিয়েছে।

বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ইআরডি সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। তার সঙ্গে থাকবেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ।

জ্বালানি আমদানিতে সবচেয়ে বেশি অর্থায়ন
ইআরডি সূত্র অনুযায়ী, প্রস্তুতি সভায় প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে- বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জ্বালানি তেল আমদানির জন্য ২ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলার, পেট্রোবাংলা এলএনজি আমদানির জন্য ৬০০ মিলিয়ন ডলার এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সার আমদানির জন্য ২০০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন চাইবে।

বিপিসি জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে জ্বালানি আমদানিতে তাদের প্রয়োজন ছিল ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৭০০ মিলিয়ন ডলার ইতোমধ্যে ছাড় হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় আগামী অর্থবছরের জন্য বেশি অর্থায়ন সীমা চেয়েছে সংস্থাটি।

এছাড়া আইটিএফসির অর্থায়নে কেনা জ্বালানি এবং সরাসরি স্পট মার্কেট থেকে কেনা জ্বালানির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যাতে ভবিষ্যৎ দর-কষাকষিতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়।

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তুলনামূলক স্থিতিশীল অর্থনীতি, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং দেশীয় গ্যাসের মূল্য সমন্বয়ের কারণে অতিরিক্ত ঋণের প্রয়োজন কমেছিল।

তবে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে বিকল্প উৎস ও স্পট মার্কেটের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে পেট্রোবাংলা বিদ্যমান চুক্তির আওতায় অনুমোদিত ৬০০ মিলিয়ন ডলারের পুরো অর্থায়ন ব্যবহার করতে চায়।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কাতারএনার্জি, ওকিউ ট্রেডিং লিমিটেড এবং এক্সিলারেট গ্যাস মার্কেটিং লিমিটেড পার্টনারশিপসহ কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করেছে। ফলে বাংলাদেশকে বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

পেট্রোবাংলা জুন ২০২৬-এ অন্তত দুটি এলএনজি কার্গো কেনার জন্য এই অর্থায়ন ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছে।

সার আমদানিতে অর্থায়নের শর্ত শিথিল চায় বিএডিসি
ইআরডি সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিএডিসির জন্য আইটিএফসি ৫০০ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন পরিকল্পনা করেছিল। এর মধ্যে ২০০ মিলিয়ন ডলার নিশ্চিত এবং ৩০০ মিলিয়ন ডলার জরুরি সহায়তা হিসেবে রাখা হয়েছিল।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সার আমদানির জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি হলেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে আইটিএফসি সাময়িকভাবে অর্থ ছাড় স্থগিত করেছে।

বিএডিসি জানিয়েছে, খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ আইটিএফসির কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। তবে প্রথম পর্যায়ের ১০০ মিলিয়ন ডলার শুধু সৌদি আরব থেকে সার আমদানির জন্য নির্ধারিত থাকায় তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

সংস্থাটি চায়, ভবিষ্যৎ অর্থায়ন চুক্তিতে কোনও নির্দিষ্ট দেশের ওপর আমদানির শর্ত না রেখে বিশ্বের যেকোনও দেশ থেকে সার আমদানির সুযোগ রাখা হোক।

৩.৫ বিলিয়ন ডলারে বাড়তে পারে অর্থায়ন সীমা
ইআরডি কর্মকর্তারা জানান, ২০২৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশ সফরকারী আইটিএফসি প্রতিনিধি দল দেশের বাড়তে থাকা জ্বালানি চাহিদা পূরণে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি কৃষি খাতেও অর্থায়ন সম্প্রসারণের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার আইটিএফসির কাছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট অর্থায়ন সীমা ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছে।

সরকারের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, আমদানি চাহিদা বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিরাপদ রাখতে এই অতিরিক্ত অর্থায়ন প্রয়োজন।

আইটিএফসি জানিয়েছে, বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব ও অর্থায়ন প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশে আইটিএফসির দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা
সৌদি আরবের জেদ্দাভিত্তিক আইটিএফসি ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি) গ্রুপের একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৭ সাল থেকে আইএসডিবি বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়ে আসছে।

১৯৯৭ সাল থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের জ্বালানি তেল আমদানিতে অর্থায়ন শুরু করে সংস্থাটি। ২০০৮ সালের পর থেকে এই সহায়তা আইটিএফসির মাধ্যমে অব্যাহত রয়েছে।

২০০৮ সাল থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় আইটিএফসি প্রায় ২১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে।

বাংলাদেশ আবুধাবির এডিএনওসি থেকে মুরবান ক্রুড এবং সৌদি আরবের আরামকো থেকে অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড আমদানি করে। এসব আমদানির অর্থ পরিশোধে আইটিএফসি অর্থায়ন দিয়ে থাকে।

এলএনজি আমদানির জন্য ২০২৪ সালে ১০০ মিলিয়ন ডলার এবং ২০২৫ সালে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন চুক্তি হয়েছে, যা ২০২৭ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

বাংলাদেশের জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী জেদ্দা বৈঠকে এই অর্থায়ন প্রস্তাবই প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে যাচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com