ধানমন্ডিতে ৯ বছরের শিশু গৃহকর্মী রিক্তা মণির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় আজ-কালের মধ্যেই সাময়িক বরখাস্ত হতে যাচ্ছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান। তার বরখাস্তের সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে পাউবোর মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো: এনায়েত উল্লাহ জানান, ধানমন্ডি থানায় মামলা দায়েরের অফিশিয়াল কপি সংগ্রহের জন্য লোক পাঠানো হয়েছে। মামলার অফিশিয়াল কাগজপত্র হাতে পাওয়া মাত্রই সাময়িক বরখাস্তের আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করা হবে।
স্বামী-স্ত্রী দুদিনের রিমান্ডে
এদিকে শিশু গৃহকর্মী মৃত্যুর এই ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান ও তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং এটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কিছু— তা নিশ্চিত হতেই পুলিশ হেফাজতে নিয়ে তাদের এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ফিরে দেখা
শুক্রবার (১৯ জুন) ভোর ৬টায় ধানমন্ডির ৯/এ সড়কের শান্ত সকালটা আচমকাই কেঁপে ওঠে এক নির্মম পতনের শব্দে। ওই সড়কের একটি বিলাসবহুল বহুতল ভবনের নিচে রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় শিশু রিক্তা মণিকে। প্রত্যন্ত সুনামগঞ্জ থেকে অভাবের তাড়নায় যে অবোধ শিশুটি এসেছিল দুমুঠো ভাতের আশায়, তার জীবনের শেষ ঠিকানা হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ। শিশুটি প্রকৌশলী সবিবুর রহমানের ১০ তলার ফ্ল্যাটে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত।
দুর্ঘটনা নাকি নির্মম হত্যাকাণ্ড?
ঘটনার পর প্রকৌশলীর পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে ‘দুর্ঘটনা’ বা ‘আত্মহত্যা’ বলে দাবি করা হলেও তা নিয়ে তীব্র রহস্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ— এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড।
পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল এবং এই কর্মকর্তার অন্ধকার অতীত এক ভিন্ন গল্পের ইশারা দিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, টাকার জোর এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রভাবে এর আগেও বিভিন্ন অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার পুরোনো অভ্যাস রয়েছে এই কর্মকর্তার। ফলে এবারও ক্ষমতার দম্ভে ঘটা কোনো অপরাধ আড়াল করতেই রিক্তাকে ওপর থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার কর্মীরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত নিরপেক্ষ বিচার দাবি করেছেন।
বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি