শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:৪১ অপরাহ্ন

অবসরপ্রাপ্ত এএসপি’র উপর মাদক ব্যবসায়ীদের সশস্ত্র হামলা

ঝিনাইদহ, প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় এক অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) দায়ের করা এজাহারে অভিযোগ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আড়পাড়া দর্গার পশ্চিম পাশে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ আড়পাড়ার বাসিন্দা মো. আশরাফুল আলম রানা অভিযোগ করেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের বিরুদ্ধে তিনি এবং তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। এর জেরে অভিযুক্তরা তাদের বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে আনোয়ার হোসেনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এর প্রতিবাদ করলে হামলাকারীরা লাঠি, কাঠের বাটাম ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে তাকে গুরুতর আহত করে। একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত ধারালো রামদা দিয়ে তার মাথায় কোপ দিলে তিনি গুরুতর আহত হন।

এ সময় পরিবারের সদস্যরা তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে রানার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মারুফা আক্তার মিতু, মা আশাতারা পারভীন, বোন হীরা খাতুন, চাচী নাজমা বেগম ও চাচাতো ভাবী সালমা বেগমকেও মারধর করে আহত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়াও হামলাকারীরা বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ৮০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে এবং ভবিষ্যতে পরিবারের সদস্যদের প্রাণে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

পরে আহত আনোয়ার হোসেনকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় মো. রিপন, মো. শিবলু, মো. মিলন হোসেন, নাজমুল হোসেন, নাজমা বেগম ও মো. কাজলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে, ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার দুই আসামি শিবলু ও মিলন হোসেনকে আটক করে।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে মামলার দুই আসামিকে আটক করেছে। আহত ব্যক্তির ছেলের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com