মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০১:১১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
স্পেনকে রুখে দিলো কেপ ভার্দে উপদেষ্টাকে বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখায় সংসদে ক্ষোভ, মন্ত্রীর বিবৃতি দাবি সরকারের তোষামোদ নয়, জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পুরনো ও অকেজো রেল নিলামে বিক্রি সম্ভব নয়: রেলমন্ত্রী দিল্লিতে বাধা পেয়ে উপদেষ্টা জাহেদের দেশে ফেরা অনাকাঙ্ক্ষিত সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট পেশ, ঘাটতি ২ লাখ কোটি টাকা যানজট কমাতে সায়েদাবাদ-গুলিস্তান-মহাখালী টার্মিনাল সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ২ হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার দেশের গণমাধ্যমকে শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তোল যায়নি: তথ্যমন্ত্রী ভঙ্গুর অর্থনীতি স্থিতিশীল-সমৃদ্ধশালী করাই বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ: অর্থমন্ত্রী

বাজেট চিন্তাশীল হলেও নীতিকাঠামো দুর্বল, পুরোনো পথে হাঁটা দুঃখজনক

বাংলা 71 নিউজ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের নীতিকাঠামোকে ‘চিন্তাশীল’ আখ্যা দিলেও এর ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত আর্থিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোকে দুর্বল এবং অনেক ক্ষেত্রে ‘অপেশাদার’ বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

তিনি বলেন, যে নীতিকাঠামো তৈরি হয়েছে বাজেটকে কেন্দ্র করে, সেটা মোটামুটিভাবে একটি চিন্তাশীল নীতিকাঠামো। কিন্তু এর পরেই সমস্যার সূত্রপাত। কারণ এই কাঠামোটি একটি অত্যন্ত দুর্বল, সম্ভবত অকার্যকর আর্থিক কাঠামোর ওপর স্থাপন করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীতে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: অসুবিধাগ্রস্ত মানুষের জন্য কী আছে?’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিং এ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম এর আয়োজন করে। ব্রিফিং সঞ্চালনা করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোও দুর্বল। এর ফলে বাজেট একদিকে আর্থিক কাঠামোগত দুর্বলতায় আক্রান্ত হয়েছে, অন্যদিকে প্রবৃদ্ধির যে মডেল সামনে আনা হয়েছে তার যৌক্তিকতাও প্রশ্নবিদ্ধ।

তিনি অভিযোগ করেন, বাজেট প্রণয়নে ব্যবহৃত তথ্য-উপাত্তের ক্ষেত্রে অপূর্ণতা, অমনোযোগ এবং অনেক ক্ষেত্রে ‘ছলচাতুরী’ করা হয়েছে। তথ্য নিয়ে ছলচাতুরী করলে সেটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আগের সরকারও প্রবৃদ্ধিকে বাড়িয়ে বলা, মূল্যস্ফীতিকে কম দেখানো এবং উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকৃত প্রভাব মূল্যায়ন না করার মতো কাজ করেছে। বর্তমান সরকারও যদি সেই পথে হাঁটে, তাহলে তা হবে অত্যন্ত দুঃখজনক, বলেন তিনি।

বাজেট বাস্তবায়নকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজেট ঘোষণা করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বাজেট বাস্তবায়নে জনগণের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক চাপ ও নজরদারি প্রয়োজন।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের অধিকাংশ প্রাক্কলন ৩০ জুন পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়নি। বরং গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে প্রস্তুত করা তথ্যের ওপর নির্ভর করে মধ্যমেয়াদি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ফলে আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সর্বশেষ তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সব প্রাক্কলন ও লক্ষ্যমাত্রা হালনাগাদ করার আহ্বান জানান তিনি।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, চলতি তথ্যের ভিত্তিতে প্রাক্কলন ও লক্ষ্যমাত্রা হালনাগাদ না করলে আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বাজারকে সঠিক সংকেত দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্বলতা তৈরি হবে। এতে সরকার নিজেই বিভ্রান্ত হতে পারে।

তিনি ২০০৯ সালের আইন অনুযায়ী প্রতি তিন মাস পর পর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সংসদে বিবৃতি দেওয়ার বিধান পুনরায় কার্যকর করার আহ্বান জানান। তার প্রত্যাশা, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অর্থমন্ত্রী প্রথম অর্থনৈতিক বিবৃতি উপস্থাপন করবেন।

বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিপিডির এই ফেলো। তিনি বলেন, প্রতি বছর বাজেটের হিসাব মেলাতে এক ধরনের কৃত্রিম রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। পরে সেই বোঝা গিয়ে পড়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওপর। এবারও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।

তার মতে, প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, কর প্রশাসনের সংস্কার ও সুশাসন নিশ্চিত না করে এনবিআরের ওপর অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের চাপ দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়।

রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিলে সরকারের সমন্বয়ের জায়গা কোথায় এ প্রশ্ন তুলে দেবপ্রিয় বলেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বা বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ কমানো সম্ভব নয়। ফলে শেষ পর্যন্ত ভর্তুকি কমানোর পথই বেছে নেওয়া হবে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর।

ভর্তুকি ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যার মূল্য পরিশোধের সক্ষমতা আছে তাকে ভর্তুকি দেওয়া উচিত নয়। বরং দরিদ্র মানুষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা বাড়াতে হবে।

প্রবন্ধে সরকারের তিন বছর মেয়াদি ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’ কর্মপরিকল্পনারও সমালোচনা করা হয়। দেবপ্রিয় বলেন, প্রথম বছরেই অর্থনীতিকে পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা অবাস্তব এবং অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টিকারী।

তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নেওয়া হলে এবং নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সরকারের অর্জন ম্লান হয়ে যেতে পারে।

দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষ এখন মূল্যস্ফীতি, মজুরি সংকট এবং সঞ্চয় হারানোর ত্রিমুখী চাপে রয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে অনেকেই সঞ্চয় ভাঙতে বাধ্য হচ্ছেন।

বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও বড় অঙ্কের থোক বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের বরাদ্দ আর্থিক শৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

এছাড়া বাজেট ঘাটতি পূরণে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে প্রায় সাড়ে ৯ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এসব ঋণের শর্ত বা কর্মসম্পাদন সূচক যেন দেশের প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া মানুষের স্বার্থের পরিপন্থি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ঋণ নিতে হলে সেটি অবশ্যই জনমানুষের পক্ষে হতে হবে, জনবিরোধী নয়।

বাংলা৭১নিউজ/একেএএম

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com