ঢাকা ০৯:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৬

দক্ষিণ লেবাননে গত ২৪ ঘণ্টায় চালানো ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৫ জনের বেশি। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় চিকিৎসা সূত্র।

লেবাননের টাইর জেলার দেইর কানুন আল-নাহর শহরে চালানো এক বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ ১০ জন নিহত হন। হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।

এছাড়া কফারসির শহরের আল-মাহফারা এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে হামলায় দুই নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। হামলায় ভবনটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।

নাবাতিয়েহ জেলার হারুফ শহরে পৌর ভবনের কাছে ড্রোন হামলায় একজন নিহত হন। একই সময়ে বিনত জবেইল জেলার ফ্রুন শহরে মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে চালানো আরেক ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন।

এদিন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান কফাররিমান, কাফরা, কফারদৌনিন, আল-শাহাবিয়া, আল-রাইহান, জাওতার আল-শারকিয়া, আল-কুসাইবা, দেইব্বিন, মারাকা, আল-বাজুরিয়া, আল-মাজাদেল, আল-হাউশ-টাইর, দেইর কানুন আল-নাহর ও নাবাতিয়েহসহ একাধিক এলাকায় হামলা চালায়।

অন্যদিকে, পাল্টা হামলার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা দোভিভ বসতিতে অবস্থান নেওয়া ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি মিসগাভ আম এলাকায় একটি সামরিক যানেও ড্রোন হামলার দাবি করা হয়েছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মিসগাভ আমের কাছে একটি গাড়িতে হামলায় একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

হিজবুল্লাহ আরও জানিয়েছে, তাইবেহ শহরে একটি ইসরায়েলি সামরিক যোগাযোগযান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া রেশাফ এলাকায় সেনা ও সামরিক যানবাহিনীর সমাবেশে রকেট হামলার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির দাবি, উত্তর ইসরায়েলের আরব আল-আরামশে গ্রামের পশ্চিমে এবং রাস আল-নাকৌরা নৌঘাঁটিতেও আত্মঘাতী ড্রোনের ঝাঁক ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে। একইসঙ্গে জাল আল-আলাম এলাকায় একটি আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্ম ধ্বংসেরও দাবি করেছে তারা।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪২ জনে। আহত হয়েছেন আরও ৯ হাজার ৩০১ জন।

অন্যদিকে ইসরায়েলি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লেবানন সীমান্তে সংঘর্ষ পুনরায় শুরুর পর থেকে ১ হাজার ৪৩ জন ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তা ও সদস্য আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৯ জনের অবস্থা গুরুতর এবং ১২২ জন মাঝারি ধরনের আহত।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৬

আপডেট সময় ১১:২৪:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

দক্ষিণ লেবাননে গত ২৪ ঘণ্টায় চালানো ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৫ জনের বেশি। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় চিকিৎসা সূত্র।

লেবাননের টাইর জেলার দেইর কানুন আল-নাহর শহরে চালানো এক বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ ১০ জন নিহত হন। হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।

এছাড়া কফারসির শহরের আল-মাহফারা এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে হামলায় দুই নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। হামলায় ভবনটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।

নাবাতিয়েহ জেলার হারুফ শহরে পৌর ভবনের কাছে ড্রোন হামলায় একজন নিহত হন। একই সময়ে বিনত জবেইল জেলার ফ্রুন শহরে মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে চালানো আরেক ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন।

এদিন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান কফাররিমান, কাফরা, কফারদৌনিন, আল-শাহাবিয়া, আল-রাইহান, জাওতার আল-শারকিয়া, আল-কুসাইবা, দেইব্বিন, মারাকা, আল-বাজুরিয়া, আল-মাজাদেল, আল-হাউশ-টাইর, দেইর কানুন আল-নাহর ও নাবাতিয়েহসহ একাধিক এলাকায় হামলা চালায়।

অন্যদিকে, পাল্টা হামলার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা দোভিভ বসতিতে অবস্থান নেওয়া ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি মিসগাভ আম এলাকায় একটি সামরিক যানেও ড্রোন হামলার দাবি করা হয়েছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মিসগাভ আমের কাছে একটি গাড়িতে হামলায় একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

হিজবুল্লাহ আরও জানিয়েছে, তাইবেহ শহরে একটি ইসরায়েলি সামরিক যোগাযোগযান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া রেশাফ এলাকায় সেনা ও সামরিক যানবাহিনীর সমাবেশে রকেট হামলার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির দাবি, উত্তর ইসরায়েলের আরব আল-আরামশে গ্রামের পশ্চিমে এবং রাস আল-নাকৌরা নৌঘাঁটিতেও আত্মঘাতী ড্রোনের ঝাঁক ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে। একইসঙ্গে জাল আল-আলাম এলাকায় একটি আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্ম ধ্বংসেরও দাবি করেছে তারা।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪২ জনে। আহত হয়েছেন আরও ৯ হাজার ৩০১ জন।

অন্যদিকে ইসরায়েলি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লেবানন সীমান্তে সংঘর্ষ পুনরায় শুরুর পর থেকে ১ হাজার ৪৩ জন ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তা ও সদস্য আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৯ জনের অবস্থা গুরুতর এবং ১২২ জন মাঝারি ধরনের আহত।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ