ঢাকা ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রচার চালানো যাবে না : সিইসি Logo জলমহাল কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, জনগণের সম্পদ : ভূমিমন্ত্রী Logo কলকাতায় আগুনে নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে আনা হবে; পরিবার চাইলে খরচ বহন করবে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Logo ছাড়পত্র ছাড়াই জাহাজ কাটায় ফেরদৌস স্টিলকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা Logo হামের উপসর্গে আরো ৪ প্রাণহানি, আক্রান্ত ১০১৮ Logo মসজিদের অজুখানা থেকে স্যানিটারি মিস্ত্রির মরদেহ উদ্ধার Logo কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ড : স্ত্রী-সন্তানসহ বাংলাদেশি সাংবাদিক নিহত Logo ১৫ আগস্টের গোপন বৈঠক থেকে গ্রেপ্তার ৫২, ভাটারা থানার মামলায় রিমান্ডে ১৫ Logo দীর্ঘ ৯ মাস পর কারাগারে পরিবারের দেখা পেলেন ইমরান খান Logo স্বামীর মৃত্যুতে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন দীপু মনি

নিষেধাজ্ঞা শেষে অভয়াশ্রমে মাছ ধরা শুরু

দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে পটুয়াখালীর অভয়াশ্রম খ্যাত তেঁতুলিয়া নদীসহ দেশের পাঁচটি অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকার শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর জেলেরা নদীতে নামতে শুরু করেছেন। এতে জেলেদের মধ্যে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য ও স্বস্তি।

সরকার ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছর ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ভোলা জেলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালীর চর রুস্তম পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকায় মাছ ধরা, পরিবহন ও বিপণন নিষিদ্ধ রাখে।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় বাউফল, কলাপাড়া, গলাচিপা, দশমিনা ও রাঙ্গাবালীসহ বিভিন্ন উপজেলার জেলেরা ইতোমধ্যে নদীতে মাছ ধরতে নেমেছেন। কোথাও ট্রলারে জাল তোলা, কোথাও ইঞ্জিন মেরামত, আবার কেউ জ্বালানি ও বরফ সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বাউফলের জেলে মো. রাশেদ বলেন, দুই মাস নদীতে যেতে পারিনি, সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়েছে। এখন আবার মাছ ধরতে পারবো—এই আশাতেই দিন গুনছিলাম।’
কলাপাড়ার মহিপুরের জেলে আব্দুল করিম বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা মেনে চলেছি, কারণ এতে ইলিশ বাড়ে। তবে এই সময়ে যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়, তা পর্যাপ্ত নয়। প্রণোদনা বাড়ানো দরকার।

গলাচিপার জেলে নুর ইসলাম বলেন, দুই মাস কাজ না থাকায় অনেকেই ঋণ করতে বাধ্য হয়েছেন। এখন মাছ পেলে সেই ঋণ শোধ করতে পারবো বলে আশা করছি।’
রাঙ্গাবালীর জেলে সেলিম মাঝি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে নামার প্রস্তুতি শেষ করেছি। সরকার পাশে থাকলে নিয়ম মেনে চলা সহজ হবে।

জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারিভাবে খাদ্য সহায়তা পেলেও তা পরিবার চালানোর জন্য যথেষ্ট নয়। অনেককে বিকল্প কাজ করতে হয়েছে, আবার কেউ ধার-দেনা করে সংসার চালিয়েছেন।

স্থানীয় মৎস্য বিভাগ জানায়, প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগের যৌথ তৎপরতায় এবার নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। ফলে নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ হয়েছে এবং উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বাউফল উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এম এম পারভেজ বলেন, নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্যই হলো ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা। নিবন্ধিত জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ সহায়তা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

Tag :

সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রচার চালানো যাবে না : সিইসি

নিষেধাজ্ঞা শেষে অভয়াশ্রমে মাছ ধরা শুরু

আপডেট সময় ০৭:৫৪:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে পটুয়াখালীর অভয়াশ্রম খ্যাত তেঁতুলিয়া নদীসহ দেশের পাঁচটি অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকার শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর জেলেরা নদীতে নামতে শুরু করেছেন। এতে জেলেদের মধ্যে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য ও স্বস্তি।

সরকার ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছর ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ভোলা জেলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালীর চর রুস্তম পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকায় মাছ ধরা, পরিবহন ও বিপণন নিষিদ্ধ রাখে।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় বাউফল, কলাপাড়া, গলাচিপা, দশমিনা ও রাঙ্গাবালীসহ বিভিন্ন উপজেলার জেলেরা ইতোমধ্যে নদীতে মাছ ধরতে নেমেছেন। কোথাও ট্রলারে জাল তোলা, কোথাও ইঞ্জিন মেরামত, আবার কেউ জ্বালানি ও বরফ সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বাউফলের জেলে মো. রাশেদ বলেন, দুই মাস নদীতে যেতে পারিনি, সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়েছে। এখন আবার মাছ ধরতে পারবো—এই আশাতেই দিন গুনছিলাম।’
কলাপাড়ার মহিপুরের জেলে আব্দুল করিম বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা মেনে চলেছি, কারণ এতে ইলিশ বাড়ে। তবে এই সময়ে যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়, তা পর্যাপ্ত নয়। প্রণোদনা বাড়ানো দরকার।

গলাচিপার জেলে নুর ইসলাম বলেন, দুই মাস কাজ না থাকায় অনেকেই ঋণ করতে বাধ্য হয়েছেন। এখন মাছ পেলে সেই ঋণ শোধ করতে পারবো বলে আশা করছি।’
রাঙ্গাবালীর জেলে সেলিম মাঝি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে নামার প্রস্তুতি শেষ করেছি। সরকার পাশে থাকলে নিয়ম মেনে চলা সহজ হবে।

জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারিভাবে খাদ্য সহায়তা পেলেও তা পরিবার চালানোর জন্য যথেষ্ট নয়। অনেককে বিকল্প কাজ করতে হয়েছে, আবার কেউ ধার-দেনা করে সংসার চালিয়েছেন।

স্থানীয় মৎস্য বিভাগ জানায়, প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগের যৌথ তৎপরতায় এবার নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। ফলে নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ হয়েছে এবং উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বাউফল উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এম এম পারভেজ বলেন, নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্যই হলো ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা। নিবন্ধিত জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ সহায়তা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/এবি