সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের আলোচনা সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন ৩৬ জন জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির জন্য দায়ী নয় : বাণিজ্যমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী হাম টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বসছে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার শিক্ষার্থী রাষ্ট্র ও সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী বগুড়া জজ আদালতে ই-বেইল বন্ড সেবার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় ৮ শিশু নিহত

টিকা নিয়েও রোগ, জানুন হাম-পক্সের অজানা সত্য

বাংলা৭১নিউজ,ডেস্ক:
  • আপডেট সময় সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

পক্স বা হাম, এই দুটি রোগই ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। শিশুদের জ্বরের সঙ্গে যে র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা যায়, তার মধ্যে হাম ও চিকেন পক্স অন্যতম। তবে এই দুই রোগের উপসর্গ ও র‍্যাশের ধরনে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

হামের ক্ষেত্রে র‍্যাশ সাধারণত লালচে দানার মতো হয় এবং জ্বর শুরু হওয়ার তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে দেখা দেয়। এর সঙ্গে তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, কাশি, চোখ দিয়ে পানি পড়া, গলাব্যথা ও শরীরব্যথা থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এই রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে, এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হয়।

দীর্ঘমেয়াদে হামের ভাইরাস থেকে ‘সাব-অ্যাকিউট স্ক্লেরোজিং প্যানএনসেফালাইটিস’ নামের একটি জটিল মস্তিষ্কজনিত রোগও হতে পারে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

শিশুকে জন্মের পর নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে হামের টিকা দেওয়া হয়। এই টিকার নির্দিষ্ট ডোজ রয়েছে এবং নিয়ম মেনে দুই ডোজ নেওয়া হলে সাধারণত ৯৭ থেকে ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত সুরক্ষা পাওয়া যায়। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাম হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়, কারণ টিকা শরীরে দীর্ঘস্থায়ী রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে।

অন্যদিকে, জলবসন্ত বা চিকেন পক্সে জ্বর তুলনামূলকভাবে কম থাকে এবং সাধারণত এক-দুই দিনের মধ্যে জ্বর সেরে যায়। এরপর শরীর ও মুখে ফুসকুড়ির মতো র‍্যাশ দেখা দেয়। তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে এসব ফুসকুড়ি শুকিয়ে খোসা পড়ে যায়।

এ সময় চুলকানি হতে পারে, যা শিশুর জন্য অস্বস্তিকর। অনেক সময় চোখ লাল হওয়া বা চোখ ওঠার উপসর্গও দেখা যায়। যদিও এই রোগ সাধারণত খুব মারাত্মক নয়, তবে এটি অত্যন্ত সংক্রামক; একজন আক্রান্ত হলে পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যেও সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে।

চিকেন পক্সের ক্ষেত্রে সাধারণত একবার আক্রান্ত হলে দ্বিতীয়বার হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে এর জন্য দায়ী ভাইরাস ‘ভ্যারিসেলা’ বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। তাই এক ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি হলেও কাছাকাছি অন্য ধরনের ভাইরাসে সংক্রমণের সম্ভাবনা থেকে যায়। এই কারণেই অনেক সময় টিকা নেওয়ার পরও কেউ আক্রান্ত হতে পারে।

আমাদের দেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) জলবসন্তের টিকা অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যক্তিগতভাবে এই টিকা নেওয়া যায়। সাধারণত ১২ থেকে ১৫ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ৪ থেকে ৬ বছর বয়সে দ্বিতীয় ডোজ (বুস্টার) দেওয়া হয়। তবে কেউ যদি আগে থেকেই জলবসন্তে আক্রান্ত হয়ে থাকে, তাহলে সাধারণত আলাদা করে টিকা নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

সব মিলিয়ে বলা যায়, হাম বা পক্সের টিকা নেওয়ার পরও খুব বিরল ক্ষেত্রে এসব রোগ হতে পারে। তবে টিকা নেওয়া থাকলে রোগটি সাধারণত হালকা থাকে, জটিলতা কম হয় এবং অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও অনেকটাই কমে যায়। তাই শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে সময়মতো সব টিকা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2018-2025
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com