শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
মালয়েশিয়ায় অবৈধ বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু এইচএসসি পরীক্ষার প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক সর্বোচ্চ ধাপে পৌঁছেছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘সম্মিলিত উদ্যোগে টেকসই অঙ্গদান ও কিডনি প্রতিস্থাপন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব’ করিডরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে ২৪ ঘণ্টায় চীনে পণ্য পৌঁছানো যাবে : বাণিজ্যমন্ত্রী ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’, যা কিছু অর্জন তা দেশের মানুষের : সংসদে প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া-চীন সফর পররাষ্ট্রনীতির মানদণ্ড নিশ্চিত করেছে দেশে ফিরে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে : মির্জা ফখরুল

রেমিট্যান্সে ভর করে আবারও ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল রিজার্ভ

বাংলা৭১নিউজ, ঢাকা
  • আপডেট সময় বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬১ বার পড়া হয়েছে

প্রবাসী আয়ের জোরালো প্রবাহে আবারও ৩০ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, যা অর্থনীতিতে স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে গ্রস বা মোট রিজার্ভের পরিমাণ হয়েছে ৩৪ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার।

রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৪ দিনেই দেশে এসেছে ১ দশমিক ৬০৭ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। আগের বছর একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ২৮৪ বিলিয়ন ডলার—অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৫ শতাংশের বেশি। শুধু ১৩ ও ১৪ এপ্রিল দুই দিনেই এসেছে ১৭১ মিলিয়ন ডলার, যা ধারাবাহিক শক্তিশালী প্রবাহের ইঙ্গিত দেয়।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২৭ দশমিক ৮১৬ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ২৩ দশমিক ০৬৯ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক খাতের চাপ কিছুটা লাঘব করতে সহায়তা করছে। এর আগে গত মার্চ মাসে দেশে রেমিট্যান্স আসে ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার, যা একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি, বৈধ চ্যানেলে প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং ডলার বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা—এই তিন কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। এছাড়া রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর প্রবণতাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, রিজার্ভের এই উন্নতি ইতিবাচক হলেও সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং ডলারের বাজারে চাপ অব্যাহত রয়েছে। ফলে এই অর্জন ধরে রাখতে হলে রফতানি আয় বাড়ানোর পাশাপাশি বৈদেশিক আয়ের উৎস বহুমুখীকরণ জরুরি।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সই সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠেছে। ডলার সংকট মোকাবিলা, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং বৈদেশিক লেনদেন স্বাভাবিক রাখতে প্রবাসী আয়ের ভূমিকা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই স্থিতিশীলতার জন্য কাঠামোগত সংস্কার ও বিকল্প আয়ের উৎস জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com