ঢাকা ১২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ফেরিওয়ালার থেকে ১০ টাকায় সিম কিনে বিপাকে কাশিয়ানীর একাধিক নারী Logo মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার মৃত্যুদণ্ড Logo নতুন রাষ্ট্রপতিকে কে শপথ পড়াবেন, মতামত দিল আইন মন্ত্রণালয় Logo এআই ক্যামেরায় শনাক্তে মোটরসাইকেলের সামনেও বসবে নম্বর প্লেট Logo মাদক সেবনের অপরাধ, সাবেক পুলিশ কনস্টেবলসহ ২ জনের কারাদণ্ড Logo পারস্পরিক আস্থা অর্জনের পর প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘সম্মানজনক অভ্যর্থনা’ দিতে চায় ভারত Logo নীলফামারীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বসুন্ধরা শুভসংঘের সচেতনতামূলক সভা Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জের সব রুটে বন্ধ বাস চলাচল Logo রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকে ইসি সচিবসহ ২০ কর্মকর্তা

পাম্প থেকে জ্বালানি গায়েব, বিএনপি নেতা বহিষ্কার

দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে প্রায় ৫০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল গায়েব হওয়ার ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হাফেজ আজিজুল হককে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার জানান, কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই বহিষ্কার কার্যকর করা হয়েছে।

প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মো. আফসারুল ইসলাম গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া বাজারে অবস্থিত হাফেজ আজিজুল হকের মালিকানাধীন মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেন।

এ সময় ভৈরব বাজার ডিপো থেকে সরবরাহকৃত চালান ও নথিপত্র যাচাই করে দেখা যায়, চলতি মাসের ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে।

তবে মজুত ও বিক্রির হিসাব চাইলে স্টেশন ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাত সন্তোষজনক কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, গত ৩ এপ্রিল মাত্র ৯ হাজার লিটার পেট্রোল এসেছে। বাকি তেলের কোনো রেকর্ড তার কাছে নেই।

তার বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়লে প্রশাসনের সন্দেহ আরও বাড়ে। পরে স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রাথমিক তদন্তে বিপুল পরিমাণ তেল অবৈধভাবে মজুত এবং কালোবাজারির প্রমাণ পাওয়া যায়। মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে প্রায় ৫০ থেকে ৫৮ হাজার লিটার তেলের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় মো. আফসারুল ইসলাম বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫/২৫ডি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ওই মামলায় স্টেশন ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাতকে গ্রেপ্তার করেছে।

এদিকে সদ্য বহিষ্কৃত হাফেজ আজিজুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তেল মজুত বা কালোবাজারির অভিযোগ সঠিক নয়। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিকভাবে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য এ ঘটনা সাজিয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

Tag :

ফেরিওয়ালার থেকে ১০ টাকায় সিম কিনে বিপাকে কাশিয়ানীর একাধিক নারী

পাম্প থেকে জ্বালানি গায়েব, বিএনপি নেতা বহিষ্কার

আপডেট সময় ০৭:০১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে প্রায় ৫০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল গায়েব হওয়ার ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হাফেজ আজিজুল হককে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার জানান, কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই বহিষ্কার কার্যকর করা হয়েছে।

প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী মো. আফসারুল ইসলাম গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া বাজারে অবস্থিত হাফেজ আজিজুল হকের মালিকানাধীন মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেন।

এ সময় ভৈরব বাজার ডিপো থেকে সরবরাহকৃত চালান ও নথিপত্র যাচাই করে দেখা যায়, চলতি মাসের ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে।

তবে মজুত ও বিক্রির হিসাব চাইলে স্টেশন ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাত সন্তোষজনক কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, গত ৩ এপ্রিল মাত্র ৯ হাজার লিটার পেট্রোল এসেছে। বাকি তেলের কোনো রেকর্ড তার কাছে নেই।

তার বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়লে প্রশাসনের সন্দেহ আরও বাড়ে। পরে স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রাথমিক তদন্তে বিপুল পরিমাণ তেল অবৈধভাবে মজুত এবং কালোবাজারির প্রমাণ পাওয়া যায়। মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে প্রায় ৫০ থেকে ৫৮ হাজার লিটার তেলের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় মো. আফসারুল ইসলাম বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫/২৫ডি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ওই মামলায় স্টেশন ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাতকে গ্রেপ্তার করেছে।

এদিকে সদ্য বহিষ্কৃত হাফেজ আজিজুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তেল মজুত বা কালোবাজারির অভিযোগ সঠিক নয়। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিকভাবে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য এ ঘটনা সাজিয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/এবি