বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৯:০৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
চার মাসে দেশকে আরও এক লাখ কোটি টাকার ঋণের জালে বেঁধেছে সরকার বাংলাদেশে সুইডিশ বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ১৬৪, আহত প্রায় এক হাজার গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ৯ বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা, প্রশ্ন ফাঁসের চেষ্টা করলে কঠোর শাস্তি : শিক্ষামন্ত্রী বিমানবন্দরের বাইরে পৃথক কার্গো ভিলেজ গড়ার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজ করছে সরকার : পরিবেশমন্ত্রী মাদক মামলার বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তিস্তা ও অন্যান্য নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ-চীনের ঐকমত্য বিগত সময়ের ১৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প আমাদের জন্য বোঝা : অর্থমন্ত্রী

বাবার অপেক্ষায় দুই শিশু, মায়ের আত্মহত্যায় শোকের ছায়া

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬১ বার পড়া হয়েছে

বাবার অপেক্ষায় বাড়ির সামনে নিরবে দাঁড়িয়ে আছে নিশান মণ্ডল (৭) ও সৃজন মণ্ডল (৫)। ছোট্ট দু’টি চোখে অনিশ্চয়তা আর দীর্ঘ অপেক্ষার ছায়া। তারা অপেক্ষা করছে তাদের বাবা মিলন মণ্ডলের জন্য—যিনি আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

এই কোমল বয়সেই বাবাহীনতার শূন্যতা যেন তাদের মুখে স্পষ্ট। আশপাশের মানুষ সান্ত্বনা দিলেও তা তাদের গভীর কষ্ট লাঘব করতে পারছে না। বর্তমানে তাদের দেখভালের জন্য নির্দিষ্ট কেউ নেই বলেও জানা গেছে।

জানা যায়, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সিংগা পশ্চিমপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন স্বপ্না বাড়ৈ (২৬)। তিনি ওই এলাকার দিনমজুর মিলন মণ্ডলের স্ত্রী।

নিহতের বাবা পরেশ বাড়ৈ কাশিয়ানী থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ মিলন মণ্ডলকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় নয় বছর আগে কোটালীপাড়া উপজেলার কলাবাড়ি ইউনিয়নের কুমুরিয়া গ্রামের পরেশ বাড়ৈর মেয়ে স্বপ্না বাড়ৈর সঙ্গে কাশিয়ানীর সিংগা গ্রামের নিরোধ মণ্ডলের ছেলে মিলন মণ্ডলের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই সন্তান রয়েছে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বপ্না মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। তাকে খুলনায় এবং পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিছুদিন সুস্থ থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে গত তিন মাস ধরে নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ বন্ধ থাকায় তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার রাতে সন্তানদের ঘরে রেখে স্বপ্না নিজ কাপড় গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।

নিহতের বাবা পরেশ বাড়ৈ দাবি করেন, তার মেয়ের ওপর মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হতো এবং স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহ ছিল। এমনকি স্বামীর অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগও তোলেন তিনি।

অন্যদিকে প্রতিবেশী উন্নতি মণ্ডল জানান, দীর্ঘদিন ধরেই স্বপ্না মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং এলাকাবাসীর সহায়তায় তার চিকিৎসা করা হয়েছিল।

রবিবার (৫ এপ্রিল) কাশিয়ানী থানার ওসি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com