ঢাকা ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গভর্নরের কঠোর বার্তা দল ও পরিবারের প্রভাবমুক্ত হবে ইসলামী ব্যাংক

ইসলামী ব্যাংক আর কোনো দল, গোষ্ঠী বা পরিবারের প্রভাবের অধীনে চলবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

তিনি বলেছেন, এখন থেকে ব্যাংকটিকে নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করতে হবে। কর্মকর্তারা দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। তাদের সহায়তায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সবসময় পাশে থাকবে।

সোমবার (১৬ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকের এর চেয়ারম্যান, বোর্ড সদস্য ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব বার্তা দেন গভর্নর।

বৈঠকে তিনি বলেন, “একসময় ইসলামী ব্যাংক দেশের অন্যতম ভালো ব্যাংক ছিল, তবে মাঝখানে সুশাসনের ঘাটতি দেখা দেয়। এখন সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে ব্যাংকটিকে শক্ত অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব ধরনের সহায়তা দেবে।”

তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনার আমলে ব্যাংকটি একটি নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর প্রতি অনুগত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু এখন আর সেই সুযোগ নেই। কোনো দল, গ্রুপ বা পরিবারের হয়ে কাজ করার এখন পথ বন্ধ।”

এদিকে, সম্প্রতি চাকরিচ্যুত কয়েক হাজার কর্মকর্তা চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করলেও, এ বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, এস আলম গ্রুপকে ঘিরে বড় অঙ্কের ঋণ বিতর্কও সামনে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রুপটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন কয়েকটি ব্যাংক থেকে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে ভুয়া প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। শুধু ইসলামী ব্যাংক থেকেই নেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ। এ ঘটনায় গ্রুপটির কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদের সম্পৃক্ততার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব বিতর্কের মধ্যেও ব্যাংকটির কিছু অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এস আলমের দখলমুক্ত হয়ে ব্যাংকটি নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রায় অর্ধ লাখ কোটি টাকার আমানত সংগ্রহ করেছে। ২০২৫ সালের শেষে ইসলামী ব্যাংকের আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকায়। প্রবাসী আয়, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এবং গ্রাহকসংখ্যাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

খেলাপি ঋণের দিক থেকেও কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যেখানে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা, ডিসেম্বর শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯২ হাজার ১১৫ কোটি টাকায়। তিন মাসে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ কমেছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে এবং প্রভাবমুক্তভাবে পরিচালিত হলে ইসলামী ব্যাংক আবারও আগের শক্ত অবস্থানে ফিরতে পারবে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :

গভর্নরের কঠোর বার্তা দল ও পরিবারের প্রভাবমুক্ত হবে ইসলামী ব্যাংক

আপডেট সময় ০৫:২৮:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

ইসলামী ব্যাংক আর কোনো দল, গোষ্ঠী বা পরিবারের প্রভাবের অধীনে চলবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

তিনি বলেছেন, এখন থেকে ব্যাংকটিকে নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করতে হবে। কর্মকর্তারা দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। তাদের সহায়তায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সবসময় পাশে থাকবে।

সোমবার (১৬ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকের এর চেয়ারম্যান, বোর্ড সদস্য ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব বার্তা দেন গভর্নর।

বৈঠকে তিনি বলেন, “একসময় ইসলামী ব্যাংক দেশের অন্যতম ভালো ব্যাংক ছিল, তবে মাঝখানে সুশাসনের ঘাটতি দেখা দেয়। এখন সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে ব্যাংকটিকে শক্ত অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব ধরনের সহায়তা দেবে।”

তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনার আমলে ব্যাংকটি একটি নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর প্রতি অনুগত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু এখন আর সেই সুযোগ নেই। কোনো দল, গ্রুপ বা পরিবারের হয়ে কাজ করার এখন পথ বন্ধ।”

এদিকে, সম্প্রতি চাকরিচ্যুত কয়েক হাজার কর্মকর্তা চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করলেও, এ বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, এস আলম গ্রুপকে ঘিরে বড় অঙ্কের ঋণ বিতর্কও সামনে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রুপটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন কয়েকটি ব্যাংক থেকে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে ভুয়া প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। শুধু ইসলামী ব্যাংক থেকেই নেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ। এ ঘটনায় গ্রুপটির কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদের সম্পৃক্ততার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব বিতর্কের মধ্যেও ব্যাংকটির কিছু অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এস আলমের দখলমুক্ত হয়ে ব্যাংকটি নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রায় অর্ধ লাখ কোটি টাকার আমানত সংগ্রহ করেছে। ২০২৫ সালের শেষে ইসলামী ব্যাংকের আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকায়। প্রবাসী আয়, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এবং গ্রাহকসংখ্যাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

খেলাপি ঋণের দিক থেকেও কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যেখানে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা, ডিসেম্বর শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯২ হাজার ১১৫ কোটি টাকায়। তিন মাসে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ কমেছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে এবং প্রভাবমুক্তভাবে পরিচালিত হলে ইসলামী ব্যাংক আবারও আগের শক্ত অবস্থানে ফিরতে পারবে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ