ঢাকা ১০:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী Logo ‘২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য’ Logo সংসদ অধিবেশন দেখতে আসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo অটোরিকশা চালককে অজ্ঞান করে হত্যা, চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়: জাহেদ উর রহমান Logo লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও স্বল্পসুদে ঋণ সম্প্রসারণে সরকারের নানা উদ্যোগ: শিল্পমন্ত্রী Logo রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসের ঘটনায় নিহত বেড়ে ৪ Logo গুজব প্রতিরোধে ‘বাংলাফ্যাক্ট’ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে : তথ্যমন্ত্রী Logo ষড়যন্ত্র করে ভোটে হারানো হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারও জড়িত ছিল Logo শেয়ারবাজার স্থিতিশীলতায় ১৭ দফা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে

মায়ের হাত ধরে শহীদ মিনারে শিশু মার্জিয়া

কপালে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা, আর গালে রঙতুলিতে আঁকা শহীদ মিনারের প্রতিকৃতি। ছোট্ট হাতে ধরা বসন্তের ফুলের তোড়া। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এভাবেই মায়ের হাত ধরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসেছে শিশু মার্জিয়া।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে মা আদিবা তার ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে শহীদ মিনারে আসেন। 

মার্জিয়ার মা আদিবা বলেন, টিভিতে শহীদ মিনারের ভিড় দেখে ও রাতেই আসতে চেয়েছিল। কোনোভাবে বুঝিয়ে রেখেছি। তাই সকালেই ওকে নিয়ে ফুল দিতে চলে এসেছি। এখানে আসতে পেরে ও অনেক খুশি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমার মেয়ে ছয় মাস আগেই বাংলা বর্ণমালা সব শিখে ফেলেছে। মাতৃভাষা এবং একুশে ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য সম্পর্কেও তাকে ছোটবেলা থেকেই শেখানো হচ্ছে।

শনিবার সকালে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে দেখা যায় সব বয়সী মানুষের উপচে পড়া ভিড়। কেউ ফুল দিচ্ছেন, কেউ স্মৃতি রক্ষায় ছবি তুলছেন, আবার কেউবা সন্তানদের ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাস শোনাচ্ছেন। শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো পরিবেশকে এক বর্ণিল রূপ দিয়েছে।

এর আগে দিবসের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, কূটনীতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা জানান। নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা শেষে শহীদ মিনার সর্বসাধারণের শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের স্মরণে প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি জাতি গভীর শ্রদ্ধায় মাথা নত করে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ভাষার প্রতি ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের ইতিহাস পৌঁছে দিতে মার্জিয়ার মতো শিশুদের এই উপস্থিতিই যেন হয়ে উঠেছে একুশের চেতনার নতুন প্রতীক।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

মায়ের হাত ধরে শহীদ মিনারে শিশু মার্জিয়া

আপডেট সময় ১২:৪৫:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কপালে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা, আর গালে রঙতুলিতে আঁকা শহীদ মিনারের প্রতিকৃতি। ছোট্ট হাতে ধরা বসন্তের ফুলের তোড়া। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এভাবেই মায়ের হাত ধরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসেছে শিশু মার্জিয়া।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে মা আদিবা তার ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে শহীদ মিনারে আসেন। 

মার্জিয়ার মা আদিবা বলেন, টিভিতে শহীদ মিনারের ভিড় দেখে ও রাতেই আসতে চেয়েছিল। কোনোভাবে বুঝিয়ে রেখেছি। তাই সকালেই ওকে নিয়ে ফুল দিতে চলে এসেছি। এখানে আসতে পেরে ও অনেক খুশি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমার মেয়ে ছয় মাস আগেই বাংলা বর্ণমালা সব শিখে ফেলেছে। মাতৃভাষা এবং একুশে ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য সম্পর্কেও তাকে ছোটবেলা থেকেই শেখানো হচ্ছে।

শনিবার সকালে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে দেখা যায় সব বয়সী মানুষের উপচে পড়া ভিড়। কেউ ফুল দিচ্ছেন, কেউ স্মৃতি রক্ষায় ছবি তুলছেন, আবার কেউবা সন্তানদের ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাস শোনাচ্ছেন। শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো পরিবেশকে এক বর্ণিল রূপ দিয়েছে।

এর আগে দিবসের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, কূটনীতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা জানান। নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা শেষে শহীদ মিনার সর্বসাধারণের শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের স্মরণে প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি জাতি গভীর শ্রদ্ধায় মাথা নত করে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ভাষার প্রতি ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের ইতিহাস পৌঁছে দিতে মার্জিয়ার মতো শিশুদের এই উপস্থিতিই যেন হয়ে উঠেছে একুশের চেতনার নতুন প্রতীক।

বাংলা৭১নিউজ/এবি