ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ডা. আসাদুর রহমানের ওপর হামলা, মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ২ Logo সোমবার ইরান যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান Logo পদ্মার ভাঙনে জাজিরায় নিঃস্ব মানুষ, হুমকিতে ৫০০ পরিবার Logo ২৪-এর আন্দোলন ফাইনাল যুদ্ধ নয়, এটা ছিল যুদ্ধের রিহার্সেল Logo মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ, প্রতিবাদ জানিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি Logo নান্দাইলে চালবোঝাই ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাণ গেল চালকের Logo চিপস, নুডলস তৈরির কাঁচামালে পোকামাকড়, কারখানাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা Logo অস্ত্র মামলা: আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছাল Logo হত্যা শেষে বাসাতেই গোসল করেন খুনিরা, খান খেজুর ও শসা Logo জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু ৮ ডিসেম্বর, সময়সূচি প্রকাশ

প্রযুক্তির মাধ্যমে সেবা পৌঁছে যাবে নাগরিকের কাছে: প্রধান উপদেষ্টা

সরকারি চাকরিতে গৎবাঁধা প্রশিক্ষণের পরিবর্তে সমস্যা সমাধানভিত্তিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি থাকবে না এবং নাগরিক সেবার পদ্ধতি এমনভাবে দক্ষ করতে হবে যাতে ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঝুলে না থাকে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) প্রণীত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদন গ্রহণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটাই–নাগরিককে সরকারের কাছে আসতে হবে না, বরং সরকারের সেবা পৌঁছে যাবে নাগরিকের কাছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সেবাকে এমনভাবে স্বয়ংক্রিয় করতে হবে যাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়।

পুরোনো আমলের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সমালোচনা করে প্রফেসর ইউনূস বলেন, দেখা যায় ভবন আছে কিন্তু দক্ষ জনবল নেই। প্রশিক্ষণ পদ্ধতিও আপটুডেট নয়। ফলে প্রশিক্ষণের কোনো ফল চোখে দেখা যায় না। প্রশিক্ষণ শেষে মূল্যায়নের ভিত্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইনসেনটিভ বা পুরস্কার দেয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে যাতে তারা উৎসাহ পায়।

তিনি ভালো মানের ট্রেনিং ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়ে বলেন, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও র‍্যাঙ্কিং থাকতে হবে। এছাড়া এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও প্রশিক্ষণের সুযোগ রাখার আহ্বান জানান, যাতে তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে গর্ববোধ করতে পারেন।

বৈঠকে কমিটির সদস্যরা জানান, বাংলাদেশে এটিই প্রথম এ ধরনের উদ্যোগ হওয়ায় মানদণ্ড ও সূচক নির্ধারণ ছিল একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ। এ কারণে লার্নিং বাই ডুইং পদ্ধতি অনুসরণ করে কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশের উত্তম চর্চা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডও বিবেচনা করা হয়েছে।

এ কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য একাডেমিয়া, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটি এবং নীতি সিদ্ধান্তের জন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সব অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানসমূহের সমস্যা উত্তরণ ও গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য পর্যায়ভিত্তিক সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রশিক্ষণ কাউন্সিলের নির্দেশনার আলোকে জিআইইউ এই মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু করে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির কারিগরি সহায়তায় প্রাথমিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পাঁচটি প্রতিষ্ঠান–বিপিএটিসি, বিসিএস প্রশাসন একাডেমি, বিয়াম ফাউন্ডেশন, নাডা ও এনএপিডি–এর ওপর এই মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের গুণগত মান বৃদ্ধির কৌশল ও বিদ্যমান সমস্যা উত্তরণের সুপারিশমালা প্রদান করা হয়েছে।

প্রতিবেদন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব সাইফুল্লাহ পান্না, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকসহ বিভিন্ন দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

ডা. আসাদুর রহমানের ওপর হামলা, মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ২

প্রযুক্তির মাধ্যমে সেবা পৌঁছে যাবে নাগরিকের কাছে: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৯:৪৪:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সরকারি চাকরিতে গৎবাঁধা প্রশিক্ষণের পরিবর্তে সমস্যা সমাধানভিত্তিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি থাকবে না এবং নাগরিক সেবার পদ্ধতি এমনভাবে দক্ষ করতে হবে যাতে ফাইল এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঝুলে না থাকে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) প্রণীত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদন গ্রহণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটাই–নাগরিককে সরকারের কাছে আসতে হবে না, বরং সরকারের সেবা পৌঁছে যাবে নাগরিকের কাছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সেবাকে এমনভাবে স্বয়ংক্রিয় করতে হবে যাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়।

পুরোনো আমলের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সমালোচনা করে প্রফেসর ইউনূস বলেন, দেখা যায় ভবন আছে কিন্তু দক্ষ জনবল নেই। প্রশিক্ষণ পদ্ধতিও আপটুডেট নয়। ফলে প্রশিক্ষণের কোনো ফল চোখে দেখা যায় না। প্রশিক্ষণ শেষে মূল্যায়নের ভিত্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইনসেনটিভ বা পুরস্কার দেয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে যাতে তারা উৎসাহ পায়।

তিনি ভালো মানের ট্রেনিং ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়ে বলেন, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও র‍্যাঙ্কিং থাকতে হবে। এছাড়া এসব সরকারি প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও প্রশিক্ষণের সুযোগ রাখার আহ্বান জানান, যাতে তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে গর্ববোধ করতে পারেন।

বৈঠকে কমিটির সদস্যরা জানান, বাংলাদেশে এটিই প্রথম এ ধরনের উদ্যোগ হওয়ায় মানদণ্ড ও সূচক নির্ধারণ ছিল একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ। এ কারণে লার্নিং বাই ডুইং পদ্ধতি অনুসরণ করে কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশের উত্তম চর্চা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডও বিবেচনা করা হয়েছে।

এ কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য একাডেমিয়া, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটি এবং নীতি সিদ্ধান্তের জন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সব অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানসমূহের সমস্যা উত্তরণ ও গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য পর্যায়ভিত্তিক সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রশিক্ষণ কাউন্সিলের নির্দেশনার আলোকে জিআইইউ এই মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু করে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির কারিগরি সহায়তায় প্রাথমিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পাঁচটি প্রতিষ্ঠান–বিপিএটিসি, বিসিএস প্রশাসন একাডেমি, বিয়াম ফাউন্ডেশন, নাডা ও এনএপিডি–এর ওপর এই মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের গুণগত মান বৃদ্ধির কৌশল ও বিদ্যমান সমস্যা উত্তরণের সুপারিশমালা প্রদান করা হয়েছে।

প্রতিবেদন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব সাইফুল্লাহ পান্না, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকসহ বিভিন্ন দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস