ঢাকা ১২:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo এ বছরেই কিমের সঙ্গে বৈঠক করতে চান ট্রাম্প Logo আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করেই গেছে, বিএনপি মুখ ফিরিয়ে নিলে জামায়াত কি রাজনীতি করতে পারবে: নুর Logo রিয়ালের পরিচয় পর্বে মরিনহো বললেন, ‘আমি তোমাদেরই একজন’ Logo কলকাতায় নিহত বাংলাদেশিরা সকলেই গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য Logo রাজবাড়ীতে মোটর চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা Logo ইউক্রেনে দ্রুত নির্বাচনের দাবি বরখাস্ত হওয়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফেদোরভের Logo ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা সংযুক্ত আরব আমিরাতের Logo ৯৯৯-এ দুর্ঘটনার অভিযোগের পরই বাসযাত্রীদের ওপর হামলা, আহত ৪ Logo ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষককে গণপিটুনি, হাসপাতালে ভর্তি Logo অতিরিক্ত সার-কীটনাশকে হাওরাঞ্চলে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

এপস্টেইন নথিতে আর নজর না দেয়ার পরামর্শ ট্রাম্পের

জেফরি এপস্টেইনের যৌন পাচার মামলা সংক্রান্ত লাখ লাখ নথি প্রকাশের পর মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ এই তদন্তের সমাপ্তি ঘোষণা করলেও বিষয়টি এতো সহজে মিটে যাবে বলে মনে হচ্ছে না। খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশবাসীকে এই বিতর্ক পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 

তবে বিচার বিভাগের তদন্ত শেষ হলেও কংগ্রেসের বিশেষ তদন্ত কমিটি এবং ভুক্তভোগীদের অনড় অবস্থানের কারণে বিষয়টি হোয়াইট হাউসের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ গত রবিবার স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কংগ্রেসের নির্দেশনায় পরিচালিত দীর্ঘ পর্যালোচনার পর নতুন কোনো মামলা করার মতো পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ মেলেনি। বিপুল পরিমাণ ইমেল, ছবি ও নথিপত্র হাতে থাকলেও সেগুলো কাউকে নতুন করে অভিযুক্ত করার জন্য যথেষ্ট নয় বলে তিনি মনে করেন। 

কিন্তু বিচার বিভাগের এই নথিতে সন্তুষ্ট নয় মার্কিন প্রতিনিধি সভা। রিপাবলিকান আইন প্রণেতারা এই ইস্যুতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে তলব করেছেন। আগামী ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এমনকি সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রকাশিত নথিতে তাঁর বিরুদ্ধে আপত্তিকর কিছুই পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে এসব বাদ দিয়ে অন্য কাজে মনোযোগ দেওয়ার। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্টের এই দাবি পুরোপুরি নির্ভুল নয়।

প্রকাশিত নথিতে ট্রাম্পের নাম ছয় হাজারেরও বেশিবার এসেছে। যদিও নব্বইয়ের দশকের পর তাঁদের সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল বলে ট্রাম্প দাবি করেন। কিন্তু ২০১১ সালে এপস্টেইনের লেখা একটি ইমেল নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ওই ইমেলে এপস্টেইন লিখেছিলেন যে, ট্রাম্পের বিষয়টি এখনো জনসমক্ষে আসেনি।

শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই নন এই নথির কারণে বিপাকে পড়েছেন বিশ্বের প্রভাবশালী অনেক ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিত্ব। বিল গেটস এবং ইলন মাস্কের মতো ধনকুবেরদের এই নথিতে তাদের নামের উপস্থিতির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে।

এছাড়া ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাবেক সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর এবং ল্যারি সামারসের মতো ব্যক্তিরা ইতিমধ্যেই তাঁদের এপস্টাইন সংযোগের কারণে সামাজিক ও পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। 

সূত্র: বিবিসি 

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :

এ বছরেই কিমের সঙ্গে বৈঠক করতে চান ট্রাম্প

এপস্টেইন নথিতে আর নজর না দেয়ার পরামর্শ ট্রাম্পের

আপডেট সময় ০১:১৯:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জেফরি এপস্টেইনের যৌন পাচার মামলা সংক্রান্ত লাখ লাখ নথি প্রকাশের পর মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ এই তদন্তের সমাপ্তি ঘোষণা করলেও বিষয়টি এতো সহজে মিটে যাবে বলে মনে হচ্ছে না। খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশবাসীকে এই বিতর্ক পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 

তবে বিচার বিভাগের তদন্ত শেষ হলেও কংগ্রেসের বিশেষ তদন্ত কমিটি এবং ভুক্তভোগীদের অনড় অবস্থানের কারণে বিষয়টি হোয়াইট হাউসের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ গত রবিবার স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কংগ্রেসের নির্দেশনায় পরিচালিত দীর্ঘ পর্যালোচনার পর নতুন কোনো মামলা করার মতো পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ মেলেনি। বিপুল পরিমাণ ইমেল, ছবি ও নথিপত্র হাতে থাকলেও সেগুলো কাউকে নতুন করে অভিযুক্ত করার জন্য যথেষ্ট নয় বলে তিনি মনে করেন। 

কিন্তু বিচার বিভাগের এই নথিতে সন্তুষ্ট নয় মার্কিন প্রতিনিধি সভা। রিপাবলিকান আইন প্রণেতারা এই ইস্যুতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে তলব করেছেন। আগামী ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এমনকি সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রকাশিত নথিতে তাঁর বিরুদ্ধে আপত্তিকর কিছুই পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে এসব বাদ দিয়ে অন্য কাজে মনোযোগ দেওয়ার। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্টের এই দাবি পুরোপুরি নির্ভুল নয়।

প্রকাশিত নথিতে ট্রাম্পের নাম ছয় হাজারেরও বেশিবার এসেছে। যদিও নব্বইয়ের দশকের পর তাঁদের সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল বলে ট্রাম্প দাবি করেন। কিন্তু ২০১১ সালে এপস্টেইনের লেখা একটি ইমেল নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ওই ইমেলে এপস্টেইন লিখেছিলেন যে, ট্রাম্পের বিষয়টি এখনো জনসমক্ষে আসেনি।

শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই নন এই নথির কারণে বিপাকে পড়েছেন বিশ্বের প্রভাবশালী অনেক ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিত্ব। বিল গেটস এবং ইলন মাস্কের মতো ধনকুবেরদের এই নথিতে তাদের নামের উপস্থিতির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে।

এছাড়া ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাবেক সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর এবং ল্যারি সামারসের মতো ব্যক্তিরা ইতিমধ্যেই তাঁদের এপস্টাইন সংযোগের কারণে সামাজিক ও পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। 

সূত্র: বিবিসি 

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ