আদালতের আদেশে ৭ ফেব্রুয়ারির পর কোনো নির্বাচনি আসনে নতুন প্রার্থী যুক্ত হলে ওই আসনের সব পোস্টাল ব্যালট বাতিল হিসেবে গণ্য হবে এবং ভোট গণনার বাইরে রাখা হবে। এ বিষয়ে হালনাগাদ বিশেষ পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত পোস্টাল ব্যালট গণনা সংক্রান্ত বিশেষ পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়। ইতোমধ্যে সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের অনুচ্ছেদ ২৭-এর দফা (১০)(৩) অনুযায়ী ‘প্রাসঙ্গিক সময়ে’ কোনো আদালতের আদেশে কোনো নির্বাচনি আসনের প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন ঘটলে ওই আসনের সব পোস্টাল ব্যালট বাতিল হবে।
ইসি জানায়, ‘প্রাসঙ্গিক সময়’ বলতে ভোটগ্রহণের দিনসহ তার আগের চার দিন—মোট পাঁচ দিনকে বোঝায়। সেই হিসাবে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক সময় শুরু হবে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়, কোনো আসনের পোস্টাল ব্যালট ভোট গণনা শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে না পৌঁছালে সেটিও গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না। বাতিল হওয়া পোস্টাল ব্যালটগুলো কিউআর কোড ডুপ্লিকেট হওয়া বা ভোটার কর্তৃক খামের কিউআর কোড স্ক্যান না করার কারণে বাতিল হওয়া ব্যালটের খামের সঙ্গে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং তার পৃথক হিসাব প্রকাশ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একের পর এক আদালতের আদেশে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার ঘটনায় পোস্টাল ব্যালট নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। বৃহস্পতিবার ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘এখানে প্রাসঙ্গিক সময়ের ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল। কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রাসঙ্গিক সময়ে পোস্টাল ব্যালট তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়ার সুযোগ নেই।’
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমবারের মতো আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা চালু করেছে ইসি। ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে দেশে ও প্রবাসে ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন।
দেশের ভেতরে সাড়ে সাত লাখ পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং এরই মধ্যে প্রবাস থেকে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট দেশে পৌঁছাতে শুরু করেছে।
বাছাই ও আপিল শেষে ২০ জানুয়ারি ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর আদালতের আদেশে একাধিক প্রার্থী প্রার্থিতা ফিরে পান। বর্তমানে ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ১৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বাংলা৭১নিউজ/এএস